২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

আমরা সমুদ্র জয় করেছি, এবার মহাকাশ জয়ের অপেক্ষা ॥ তারানা


আমরা সমুদ্র জয় করেছি, এবার মহাকাশ জয়ের অপেক্ষা ॥ তারানা

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাজীপুর, ১৯ মার্চ ॥ ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও ব্রডকাস্টিংয়ের ক্ষেত্রে পরনির্ভরশীলতা কমানো এবং দুর্গম এলাকায় সেবা বিস্তারের জন্য সরকার মহাকাশের কক্ষপথে বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের জন্য গাজীপুর ও বেতবুনিয়ায় দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে। আমরা সমুদ্র জয় করেছি। এবার মহাকাশ জয় করার অপেক্ষায় আছি। বাংলাদেশ মহাকাশে থাকবে- এটা একটা অন্যরকম বিজয়। তিনি শনিবার দুপুরে গাজীপুর মহানগরীর তেলিপাড়া এলাকায় টেলিযোগাযোগ স্টাফ কলেজ ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রকল্পের গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে আমরা অন্যদের স্যাটেলাইট ভাড়ায় ব্যবহার করে বছরে প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার খরচ করছি। এ প্রকল্প স্থাপন সম্পন্ন হলে ৬-৭ বছরের মধ্যে আমাদের স্যাটেলাইট অন্যদের ভাড়া দিয়ে এ প্রকল্পের খরচ তুলে আনতে সক্ষম হব। এটা একটা বিশাল প্রকল্প। এত বিশাল প্রকল্পের মাঝে সম্মানটাও বিশাল। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৯৫১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। আগামী বছরের ১৬ ডিসেম্বর মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণের জন্য গাজীপুরে ও বেতবুনিয়ায় পাঁচ একর করে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় এখন মাটি ভরাটের কাজ করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি আকাশে উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম হব। এ প্রকল্পের কাজ তদারকির জন্য একটি কোম্পানি গঠন করা হবে। বর্তমানে এ কোম্পানি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ফ্রান্সের ঘায়েনা দ্বীপ থেকে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হবে। এটি মহাকাশে স্থাপনের লক্ষ্যে বিটিআরসি কর্তৃক ইতোমধ্যে রাশিয়ার ইন্টারস্পুটনিকের নিকট হতে ৪৫ বছরের জন্য ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অরবিটাল সলট লিজ গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী বছরের ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণের লক্ষ্যে স্যাটেলাইট প্রস্তুত, উৎক্ষেপণ ও গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপনের জন্য বিটিআরসি ফ্রান্সের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থ্যালস এলেনিয়া স্পেসের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর ও কার্যাদেশ দিয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের সহকারী ঠিকাদার স্পেক্ট্রা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ওই প্রকল্পের নির্মাণকাজ করছে।

তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে স্থাপন করা হলে আমাদের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক অর্থ সাশ্রয় হবে। এখন আমরা যারা পৃথিবীর অন্য দেশের স্যাটেলাইট থেকে টাকার বিনিময়ে সেবা গ্রহণ করে থাকি, আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হলে আমাদের অর্থ নিজ দেশেই থাকবে। আর টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি হবে।

প্রতিমন্ত্রী ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে আদালতে রিট করার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, যিনি ওই রিটটি করেছেন তা অনুমাননির্ভর ও ভ্রান্ত ধারণার ভিত্তিতে করেছেন। আমরা আদালতে প্রযুক্তির তথ্যনির্ভর ও প্রমাণনির্ভর সবকিছু উপস্থাপন করব। এতে এ রিটটি টিকবে বলে মনে করি না। বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধনের জন্য আঙ্গুলের ছাপ নেয়া হচ্ছে, তা কোথাও স্টোর হচ্ছে না। কোন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে এনআইডিতে দেয়া ফিঙ্গার প্রিন্টের রেখাগুলোকে মেলাতে টেম্পলেট আকারে তা পাঠানো হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ইন্টারনেটের গতি বাড়ানোর জন্য এবং টেলিটকের উন্নয়নের জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আগামী জুন-জুলাইয়ের মধ্যে এর দ্রুত উন্নতি হবে।

পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে বিটিআরসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম ফখরুদ্দিন আহমেদ, গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ফারজানা মান্নান, টেলিযোগাযোগ স্টাফ কলেজের পরিচালক মোঃ শাহজাহান আলীসহ প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।