১৬ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ মিনিংলেস ॥ হানিফ


বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বিএনপির কাউন্সিলে দলটির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’-এর ঘোষণাকে মিনিংলেস (অর্থহীন) বলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ।

প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, যিনি (খালেদা জিয়া) ভিশন-২০৩০ দিয়েছেন, তিনি কি তার সাম্প্রতিককালের কর্মকা- ও অতীত কর্মকা-ের জন্য অনুতপ্ত? উনি কি জাতির কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন? উনি কি পেট্টোলবোমার শিকার পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন? সেটা তো বিএনপি নেত্রী করেননি। তাই তার কাছে ভিশন-২০৩০ আর ২০৬০ বা কী? এটা বিএনপি নেত্রীর মিনিংলেস কথাবার্তা ছাড়া আর কিছুই নয়।

শনিবার বিকেলে ধানম-ির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তৃতীয় দফায় অনুষ্ঠেয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণার জন্য এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। ৬৮৫ ইউপি নির্বাচনে ৬০৯টির একক প্রার্থিতা এতে ঘোষণা করা হয়। বাকি প্রার্থীর নামও দুই-এক দিনের মধ্যে ঘোষণা করা হবে। হানিফ বলেন, দল মনোনীত এসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে দলের কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে হানিফ আরও বলেন, বিএনপির সম্মেলন নিয়ে দেশের জনগণের মধ্যে কোন আগ্রহ নেই। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যেও তা নেই। সম্মেলন করা হয় নেতা নির্বাচনের জন্য, কিন্তু দেশবাসী লক্ষ্য করেছে বিএনপি নির্ধারিত সম্মেলনের তারিখের অনেক আগেই তাদের চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচন করেছে। তারপর আজকের সম্মেলনের আর কী গুরুত্ব থাকতে পারে?

তিনি বলেন, কাউন্সিলররা হচ্ছে সবচেয়ে বড় ক্ষমতাবান। নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নেতৃত্ব নির্বাচন করে থাকেন। আর বিএনপি কাউন্সিলরদের না ডেকেই নেতৃত্ব নির্বাচিত করা হয়েছে। আসলে বিএনপি কখনই নিজেকে গণতান্ত্রিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। এটা একটা জগা-খিচুরি টাইপের দল। সম্মেলনের আগেই নেতৃত্ব নির্বাচন করে আজ ঢাক-ঢোল পিটিয়ে সম্মেলন করা মানে হচ্ছে নিজের সঙ্গে তামাশা, দেশবাসীর সঙ্গেও তামাশা। তাই এটা সম্মেলন না বলে তামাশাই বলা চলে।

হানিফ বলেন, খালেদা জিয়ার আজকের বক্তব্যে দেশবাসীর জন্য আশার কোন বাণী ছিল না। ভিশন-২০৩০ দেয়ার আগে উনার (খালেদা জিয়ার) উচিত ছিল অতীতে রাষ্ট্রক্ষমতা থাকাকালীন যে অপকর্ম করেছেন তা আলোচনা করে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া। কিংবা ভুলও স্বীকার করেননি। সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপার্সন যুদ্ধাপরাধীদের বিপক্ষে কোন বক্তব্য না দিয়ে প্রমাণ করেছেন তিনি স্বাধীনতা বিরোধীদের পক্ষে আছেন এবং তাদের পক্ষেই থাকবেন।

খালেদা জিয়ার ফের সংলাপের আহ্বান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংলাপের কথা খালেদা জিয়া কী কারণে বলেছেন? সংলাপ হয় দেশে যখন কোন ক্রাইসিস হয় তখন। কিংবা কোন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচনকে অবাধ সুষ্ঠু করার জন্য সরকারী দল কিংবা বিরোধী দলের আহ্বানে সংলাপ হয়। কিন্তু দেশে এখন কোন সাঙ্কট নেই যে সংলাপ করতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বলেছি যারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হয়েছে তাদের দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন আবারও বলতে চাই, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হবে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যনির্বাহী বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। শুধু বিদ্রোহী নয়, বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কোন পর্যায়ের নেতাকর্মী যদি প্রচার-প্রচারণা করে, মদদ দেয়, তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাদের অপরাধ অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় যুগ্মসাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, কার্যনির্বাহী সদস্য সুজিত রায় নন্দী, আমিনুল ইসলাম আমিন, এসএম কামাল হোসেন প্রমুখ।