২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ট্রি-ম্যানের বাঁ হাতে তৃতীয় দফা সফল অস্ত্রোপচার


নিয়াজ আহমেদ লাবু ॥ চিকিৎসকের সফল অস্ত্রোপচারে ক্রমেই সুস্থ হয়ে উঠছেন বাংলাদেশ প্রথম ট্রি-ম্যান (হিউম্যান পারপোরিয়াস ভাইরাসে আক্রান্ত) আবুল বাজনদার। শনিবার তার তৃতীয় দফা সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। বেলা এগারোটা থেকে দুপুর সোয়া একটা পর্যন্ত তার বাম হাতের কয়েক কেজি ওজনের আঁচিল অস্ত্রোপাচার করে পরিষ্কার করে ফেলা হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল এ অস্ত্রোপচার করেন।

ঢাকা মেডিক্যাল বার্ন এ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডাঃ সামন্ত লাল সেন জানান, অস্ত্রোপচারের পর আবুল সুস্থ আছেন। তিনি জানান, দীর্ঘ সোয়া ২ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে বাজনদারের বাঁ হাতের পাঁচ আঙুলেই অস্ত্রোপচার করা হয়। এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি কেটে ফেলা হয়েছিল তার ডান হাতে গজানো ‘শিকড়’র মতো আঁচিলগুলো। এরপর তার ডান হাতে বেশ কয়েকবার ড্রেসিং করা হয়। ওই হাতের অবস্থা ভাল থাকায় বাঁ হাতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান ডাঃ সামন্ত লাল সেন। তিনি জানান, আবুলের অস্ত্রোপচারকালে অধ্যাপক কালামসহ মেডিক্যাল বোর্ডের নয় সদস্যের সবাই উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে অস্ত্রোপচার শেষে বার্ন ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ জানান, সফল অস্ত্রোপচার শেষ হয়েছে। বাজনদারের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক। এ ধরনের অস্ত্রোপচারে স্থায়ী রোগমুক্তির সম্ভাবনা কতটুকু এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বাজনদারের শরীরের বিভিন্ন স্যাম্পল আমেরিকায় পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রিপোর্টের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে বলা যাবে। রিপোর্টের আগে কোন কিছু বলা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুযারি বিরল রোগ ‘ট্রি ম্যান সিনড্রোম’ (চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এপিডার্মোডিসপাসিয়া ভেরুসিফারমিস) চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি হন খুলনার ভ্যানচালক আবুল বাজনদার। তার দুই হাতে প্রায় ১০ কেজি ওজনের আঁচিল ছিল। পায়েও প্রায় কাছাকাছি ওজনের আঁচিল ছিল।

পেশায় ভ্যানচালক আবুলের চিকিৎসার খরচ দিচ্ছে সরকার। এর সপ্তাহ খানেক পর ‘ট্রি-ম্যান’ আবুল বাজনদারের প্রথম অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়। প্রথম দফায় ডান হাতের দুই আঙ্গুলের অস্ত্রোপচারের কথা থাকলেও পুরো পাঁচটি আঙ্গুলের অস্ত্রোপচার করা হয়। কেটে ফেলা হয় তার ডান হাতে গজানো ‘শিকড়’র মতো দেখতে আঁচিল। অস্ত্রোপচারের পর আঙ্গুলগুলো নাড়াতে পারছেন আবুল। ঢামেক হাসপাতালের বার্ন এ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম, অধ্যাপক রায়হানা আউয়াল ও অধ্যাপক সাজ্জাদ খন্দকারসহ ৯ সদস্যের একটি চিকিৎসক দল এ অস্ত্রোপাচার সম্পন্ন করেন। এই নয় সদস্য ছাড়া এ অপারেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন যৌন ও চর্ম বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কবীর চৌধুরী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আবুল বাজনদারের মতো বিশ্বে এ রোগে আক্রান্ত মাত্র দুজনকে পাওয়া গেছে। একজন রোমানিয়া, অন্যজন ইন্দোনেশিয়ায়। গণমাধ্যমে আসা ইন্দোনেশিয়ার বৃক্ষমানব গত ৩০ জানুয়ারি মারা গেছেন। এইচপিভি একগুচ্ছ ভাইরাসের নাম। যা শরীরের ত্বক ও আর্দ্র ঝিল্লিতে সংক্রমিত হয়। এ পর্যন্ত একশ’র বেশি ধরনের এইচপিভি ভাইরাসের হদিস পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অন্তত ৩০ ধরনের এইচপিভি জননেন্দ্রীয়কে আক্রান্ত করতে পারে। সব ধরনের এইচপিভিই শরীরে আঁচিলের কারণ। এ সংক্রমণ খুব দ্রুত ত্বকের বাইরের স্তরে ছড়িয়ে পড়ে।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: