মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৩ আগস্ট ২০১৭, ৮ ভাদ্র ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

কক্সবাজারে এমপি বদি ফের আলোচনায়

প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৬
  • অবরুদ্ধ নাটক

এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি আবারও আলোচনার শিরোনাম হয়ে উঠেছেন। ইতোপূর্বে বিতর্কিত ও বহুল আলোচিত এমপি বদিকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে অনেক। অতীতে বিভিন্নজনকে মারধরের কারণে খবরের কাগজে শিরোনাম হলেও এবার কিন্তু তার উল্টো। তিনি এবার কাউকে পেটাননি। নাজেহালও করেননি কাউকে। জেলা ছাত্রলীগের পক্ষে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং তাকে অবরোধ নাটকের বিষয়কে ঘিরে কক্সবাজারের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন আবদুর রহমান বদি এমপি।

এদিকে হঠাৎ এমপি আব্দুর রহমান বদি নিজ এলাকায় অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা নিয়ে চলছে নানা রাজনৈতিক মেরুকরণ। অবরোধ নাটকের পেছনে কী রহস্য লুকিয়ে রয়েছে- তা খতিয়ে দেখতে দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী এবং মহাসচিবের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। সাংগঠনিকভাবে যাচাই বাছাই করা হচ্ছে তিনি অবরুদ্ধ হয়েছেন, নাকি কোন প্রার্থীর স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অবরোধের নাটক সৃষ্টি করেছেন। স্থানীয়ভাবে এ বিষয়ে বলাবলি শুরু হলে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ইতোমধ্যে এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। জানা যায়, বৃহস্পতিবার স্থানীয় আ’লীগ আয়োজিত শাহপরীরদ্বীপে ছিল জেলা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি এ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তাফা ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানের গণসংবর্ধনা। ওই অনুষ্ঠানে জেলা নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি আমন্ত্রিত ছিলেন উখিয়া টেকনাফের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি। জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কোন বাধা ছাড়া শাহপরীরদ্বীপ সংবর্ধনাস্থলে পৌঁছে গেলেও আব্দুর রহমান বদি সাবরাং এলাকায় শত শত নেতাকর্মীর অবরোধের মুখে পড়েন। যারা ওই অবরোধে অংশ নেন, তারা হচ্ছে টেকনাফ যুবলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী নুর হোসেনের সমর্থক। তারাই মূলত আব্দুর রহমান বদিকে ঘণ্টাকয়েক ধরে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ হলে অবরোধ তুলে নেয়া হয়। অর্থাৎ ওই অনুষ্ঠানে এমপি বদি অংশগ্রহণ করতে পারেননি এবং নৌকার প্রার্থী সোনা আলীর পক্ষে ভোট চাইতেও হয়নি তাকে।

এখানে মজার বিষয় হচ্ছে- অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান আব্দুর রহমান বদিকে ফোন দিলে তিনি টেকনাফ আছেন বলে জানান। পরে টেকনাফ পৌঁছে মুজিবুর রহমান বদির সঙ্গে দেখা করলে তিনি তাকে রওনা দিয়ে পিছনে পিছনে যাওয়ার কথা দেন। অল্পক্ষণ পর এমপি বদির অবরোধ নাটকের আভাস পায় জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাধারণ সম্পাদককে অবরোধ করেননি সাবরাং এর মানুষ। অথচ প্রতিদিন যিনি যাওয়া আসা করেন, সেই এমপি আব্দুর রহমান বদিকেই অবরোধ করে রাখেন তারা। এ নিয়ে টেকনাফে ও পুরো জেলায় হাসি খোরাক হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান বলেন, আব্দুর রহমান বদি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে না যাওয়ার জন্যই মূলত অবরোধ নাটকটি করেছেন। তিনি বলেন, এমপি বদি নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। তিনি সরাসরি দল এবং সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তাফা বলেন, এমপি বদি দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থানের বিষয়টি প্রমাণিত। বিষয়টি কেন্দ্রে জানানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেয়ার কথাও জানান জেলা সভাপতি। এ ব্যাপারে এমপির মুঠোফোনে কল করেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এর আগে সাংসদ আব্দুর রহমান বদিকে কক্সবাজার জেলায় অবাঞ্ছিত করার হুমকি দিয়েছেন কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয় ও সাধারণ সম্পাদক ইমরুল হাসান রাশেদ। টেকনাফ সদর ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল আলমের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে এমপি বদি বিতর্কিত শাহজাহানের পক্ষে কাজ করছেন।

টেকনাফের হোয়াইক্যং এ সাবেক ছাত্রনেতা ফরিদুল আলম জুয়েলের বিপক্ষে গিয়ে এমপি বদি বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মৌলানা নুর আহম্মদ আনোয়ারীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এ ছাড়াও টেকনাফে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে কোনভাবেই কাজ করছেন না এমপি বদি এমনটা অভিযোগ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির।

তিনি আরও বলেন, যদি স্থানীয় নির্বাচনে টেকনাফে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীরা কোন কারণে হেরে যায় তাহলে এমপি বদিকে পুরো কক্সবাজার থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরুল হাসান রাশেদ জানান, সরকারী দলের সাংসদ হয়েও আওয়ামী লীগের দলীয় কোন অনুষ্ঠানে তার দেখা মেলে না। দলের অতি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে এমপি বদিকে দাওয়াত দেয়ার পরও রহস্যজনক কারণে তিনি উপস্থিত হন না। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে তার ন্যূনতম যোগাযোগ নেই উল্লেখ করে জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এমপি বদি হাইব্রিড আওয়ামী লীগ হিসেবে স্বীকৃত। দল ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যে সাংসদের সম্পর্ক নেই, ছাত্রলীগের কোন অনুষ্ঠানে ওই সাংসদের উপস্থিত হওয়ার অধিকারও নেই।

প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০১৬

২০/০৩/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: