১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বিদ্যুত প্রকল্পে সম্মত এআইআইবি


হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) শেয়ারমূল্য বাবদ ৬৬ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকেই এই অর্থ পরিশোধ করা হয় বলে জনকণ্ঠকে জানান অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা। অন্যদিকে বিদ্যুত খাতের দুটি প্রকল্পে অর্থায়ন করছে এর মধ্যদিয়ে বৈদেশিক অর্থায়নের নতুন এই উৎস থেকে প্রথমবারের মতো ঋণ মিলছে। প্রথম পর্যায় পাঁচটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হলেও ব্যাংটি দুটি প্রকল্পে ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে। তবে কত মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাওয়া যাবে সেটি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রকল্প দুটি নিয়ে কাজ করছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

এ বিষয়ে ইআরডির ওই কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যাংক (এআইআইবি) আইন ২০১৬ পাস করেছে সরকার। এই আইনের মাধ্যমে চীনের নেতৃত্বে গঠিত এ ব্যাংকে বাংলাদেশের নির্ধারিত শেয়ারের মূল্য পরিশোধসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। জাতীয় সংসদের অনুমোদন পাওয়ায় পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে তিন-চারদিন আগে এআইআইবি-র শেয়ারমূল্য বাবদ ৬৬ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। উদ্বোধনী দিন পর্যন্ত ব্যাংকে অংশগ্রহণকারী ৫৭টি দেশের মধ্যে মাত্র ৩০টি দেশ নির্ধারিত শেয়ারমূল্য পরিশোধ করেছিল। বাকি ২৭টি দেশ এখন শেয়ারের মূল্য পরিশোধ করছে। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই অর্থ পরিশোধের সময় রয়েছে।

ইআরডি সূত্র জানায়, যে দুটি প্রকল্পে অর্থায়ন করতে যাচ্ছে এআইআইবি তা হলো, ডেসকোর ডিজাইন সাপ্লাই এ্যান্ড ইনস্টলেশন অব ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড সাবস্টেশন এ্যাট বসুন্ধরা এ্যান্ড উত্তরা এবং ডিজাইন সাপ্লাই এ্যান্ড ইনস্টলেশন অব কনভেনশন অব এক্সিসটিং ৩৩ কেভি আন্ডার গ্রাউন্ড লাইন্স। এ দুটি প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য প্রথম পর্যায় গত বছরের (২০১৫ সাল ) ২৫ জুন কে এফ ডব্লিউ এর কাছে অনুরোধ জানায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। কিন্তু সংস্থাটি এ দুটি প্রকল্পে অর্থায়নে সাড়া না দেয়ায় পরবর্তীতে এশিয়ান অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের কাছে অর্থায়নের প্রস্তাব করা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর ঋণ দিতে সম্মতি জানায়। ফলে গত ৭ ফেব্রুয়ারি এআইআইবির যাচাই কমিটি প্রকল্প দুটির মাঠ পর্যায় সরেজমিন পরিদর্শন করে।

এ বিষয়ে ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদ সারোয়ার জনকণ্ঠকে বলেন, এ প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নে কত মিলিয়ন ব্যয় হবে সেগুলো নিয়ে কাজ চলছে। এখনো চূড়ান্ত হয়নি এআইআইবি কত মিলিয়ন দেবে। ব্যাংকটি কেবল সম্মতি দিয়েছে এখন পরবর্তী প্রক্রিয়া করবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ।

বিদ্যুত খাতের অন্য যেসব প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছিল সেগুলো হচ্ছে, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ২ দশমিক ৬ মিলিয়ন কনজ্যুমার কানেকশন থ্রোট রুরাল ইলেকট্রিফিকেশন প্রোগ্রাম। গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়। গত ৭ মার্চ এ কর্মসূচীটির বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল।

আপগ্রেডেশন অব পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম ইন ওয়েস্ট জোন এরিয়া প্রকল্প। মন্ত্রণালয় থেকে গত ২৮ জানুয়ারি পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়। গত ১ মার্চ এ প্রকল্পটিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী।

এক্সপানসন এ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং অব পাওয়ার সিস্টেম নেটওয়ার্ক আন্ডার চিটাগাং এরিয়া (পিজিসিবি)। মন্ত্রণালয় থেকে গত ৭ ফেব্রুয়ারি পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়। গত ৭ মার্চ এ প্রকল্পটিতে পরিকল্পনা মন্ত্রী নীতিগত অনুমোদন প্রদান করেন। সূত্র জানায়, প্রথম পর্যায়ে তিন খাতে ঋণ দিচ্ছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। এগুলো হচ্ছে রেল, বিদ্যুত ও জ্বালানি। পরবর্তীতে যুক্ত হবে সড়ক অবকাঠামো খাত। তাই এসব খাতের প্রকল্প তৈরি করছে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো। প্রকল্প তৈরিতেই বিশেষ তদারিক করছে ব্যাংকটি। তবে কতটি প্রকল্পে কত টাকা পাওয়া যাবে সেসব বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হয়নি বলে জানিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

সূত্র জানায়, দশ হাজার কোটি ডলার মূলধন নিয়ে চীনের নেতৃত্বে এআইআইবি গঠিত হয় ২০১৪ সালের ২৪ অক্টোবর। এরপর ২০১৫ সালের জুনে বাংলাদেশসহ ৫০টি সদস্য দেশ চুক্তি সই করে। চীনের পাশাপাশি ভারত, রাশিয়া, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া এআইআইবির অন্যতম শেয়ারহোল্ডার। বাংলাদেশসহ এর সদস্য হচ্ছে ৫৭টি দেশ। এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংযোগ স্থাপনে ঋণ ও অর্থ সহায়তা দেয়াই এআইআইবি গঠনের উদ্দেশ্য। শুরুর দিকে এশিয়ার পরিবহন, জ্বালানি, টেলিযোগাযোগ ও অন্যান্য অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করবে।

সূত্র জানায়, এআইআইবির সদস্য ৩০টি দেশের মধ্যেই রয়েছে মোট মূলধনের ৯৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ এখনও বাকি আছে। সবচেয়ে বেশি মূলধন চীনের ২৯ দশমিক ৮ শতাংশ। এ ছাড়া ভারতের ৮ দশমিক ৪, পাকিস্তানের ১ দশমিক ২ ও বাংলাদেশের শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ।