২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বাঁশখালীতে কয়লা বিদ্যুৎ নির্মাণকে কেন্দ্র দুই গ্রুপ মুখোমুখি


নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁশখালী ॥ চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকায় এস. আলম গ্রুপ ও চাইনা সেফকো কোম্পানীর যৌথ উদ্যোগে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের কাজ হাতে নিয়েছে। সেই কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে বাঁধা প্রদান করছে স্থানীয় জনতা। প্রকল্পের পক্ষে-বিপক্ষে দুইটি গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। একটি পক্ষ কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিরোধে মিছিল মিটিং, সভা, সমাবেশের মাধ্যমে জোর প্রতিবাদ চালাচ্ছে। ওই পক্ষ এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে কয়লা বিদ্যুৎ বিরোধী মিছিল বের করলে ঐ মিছিলের উপর ৮-১০ রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছে অপর পক্ষ। গুলিতে ২ শিশু আহত হওয়ারও ঘটনা ঘটেছে। গুলি ছোড়ার ঘটনার পর থেকে স্থানীয় হাজার হাজার নারী পুরুষ লাঠি সোটা, দা, কিরিচ নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছে। সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাবাসী স্থানীয় চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতের সহকারী আমির আরিফ উল্লাহর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের ইঙ্গিত দিয়েছে। বাঁশখালী থানা অফিসার ইনচার্জ স্বপন কুমার মজুমদার মিছিলের উপর গুলি ছোড়ার বিষয়টি অস্বীকার করে জনকন্ঠকে জানান, গন্ডামারা এলাকায় কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পক্ষে বিপক্ষে দুইটি গ্রুপ সৃষ্টি হয়েছে। গ্রুপ দুইটি যাতে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি না করে সেই লক্ষ্যে পুলিশ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। পুলিশ গুলি ছোড়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকাবাসী ওই এলাকার সড়ক অবরোধ করে রেখেছে। পাশাপাশি পুলিশ বিশৃংখলা এড়াতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুজ্জামান জানান, কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণকে কেন্দ্র করে গন্ডামারার জনগণের মাঝে ভুল বুঝাবুঝি চলছে। ভুল বুঝাবুঝির অবসানের লক্ষ্যে উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসা হবে। পাশাপাশি এলাকায় আইনশৃংখলার অবনতি যাতে না ঘটে সেদিকে লক্ষ্য রেখে উপজেলা প্রশাসন তাদের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। কয়লা ভিত্তিক প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়কারী নাছির উদ্দিনের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, এস. আলম গ্রুপ ও চায়না সেফকো ইলেক্ট্রিক কোম্পানী প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছে। প্রকল্পের ৭০% শতাংশ দেশের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান এস. আলম গ্রুপ এবং বাকী ৩০% শতাংশের মালিক চায়না সেফকো কোম্পানী।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: