১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

ভালবাসার এতগুলো বছর...


‘ভাবি থাকলে আর কাউকে লাগে না’- কিছুদিন আগে হাসতে হাসতে বলছিলেন এক নাট্যপরিচালক। ঠোঁটে হাসি ছড়িয়ে এগিয়ে এলেন আরেকজন, ‘ভাবি না থাকলে কিছু হয়ও না’। ভাবি, মানে জুঁই করিমের এসব শোনার সময় নেই। তিনি স্ক্রিপ্ট হাতে নিয়ে এপাশ ওপাশ দৌড়াচ্ছেন। সন্ধ্যা হয়ে আসছে, আর বেশ ক’টা দৃশ্যের শূটিং বাকি। পরিচালকের মাথায় যতটা না চিন্তা, তার চেয়ে অনেক গুণ বেশি জুঁইয়ের। দুহাতে সামলাচ্ছেন সব। কোন সংলাপটি বাদ পড়ল, আর ক’টা দৃশ্য বাকি, কোন দৃশ্যটির লোকেশন কোথায়, পোশাকই বা কোনটা হবে- মাথায় যেন সব থরে থরে সাজানো!

‘তিনি আসবেন’ ধারাবাহিকের শুরু থেকে শেষ- এভাবেই দৌড়ে বেরিয়েছেন জুঁই। ধারাবাহিকটি মোশাররফ করিম প্রযোজনা করেছিলেন নিজেই। তার এত সব দেখার সময় কোথায়! কিন্তু জুঁই তো আর নির্বিকার বসে থাকতে পারেন না! সব দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন কাঁধে, স্বেচ্ছায়। এ তো গেল কাজের গল্প।

আর সংসার? সেখানেও মোশাররফ করিমকে একেবারেই চাপে রাখেন না জুঁই। নিজেই সামলে নেন। একমাত্র ছেলে রায়ানকে স্কুলে আনা-নেওয়া থেকে শুরু করে আত্মীয়-স্বজন দেখভাল, ছোটেন সবদিকে। মোশাররফ তাই নিশ্চিন্তে সংসার নিয়ে কোন চিন্তার আশপাশে না ঘেঁষে শুধু অভিনয়টাই করে যেতে পারেন।

অভিনয় করেন জুঁইও। বছর কয়েক ধরে নাটকপাড়ায় তারও ব্যস্ততা বেড়েছে। মোশাররফকে দেখেই তিনি যে অভিনয় শিখেছেন, এ কথা স্বীকার করতে একটুও দ্বিধাবোধ করেন না তিনি, ‘মোশাররফ যে সেটে কাজ করে, সেখানকার পরিবেশটা আমার কাছে পরিবারের মতোই। আনন্দ করে কেটে যায় পুরো সময়টা। মনেই হয় না কাজ করছি। ইউনিটের সবাই পরিচিত থাকে, যে কারণে আমার প্রতি আন্তরিক থাকে সবাই। এ ছাড়া আরো একটা কারণ আছে, সারা বছর ওকে কাছে পাই খুব কম। এক সেটে কাজ করার ফলে পাশাপাশি থাকতে পারি। অভিনয়টা যেহেতু ওকে দেখেই শিখেছি, তাই একসঙ্গে থাকলে মনে সাহস পাই।’ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেছেন জুঁই। তিনি নাটকও লিখেছেন কয়েকটি।

রাজধানীর রামপুরা বিটিভি ভবনের বাঁ দিকে যে গলি চলে গেছে, ওটা ধরে একটু এগোলেই কুঞ্জবন এলাকা। ওখানে গিয়ে শুধু নাম বলার অপেক্ষা, ছেলে-বুড়ো সবাই আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দেবে, ‘ওইখানে মোশাররফ করিম থাকেন।’

দীর্ঘদিন ধরে ওখানকার একটি ছয়তলা ভবনের দোতলায় থাকেন মোশাররফ। আনুমানিক কত বছর হবে? ‘সাত বছর’- উত্তর দেন রোবেনা রেজা জুঁই। সাত বছরের স্মৃতি বয়ে নিয়ে তারা রামপুরা ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চলে যাচ্ছেন উত্তরা। সেখানকার রানাভোলায় নতুন ফ্ল্যাট কিনেছেন তিনি। গোছগাছ প্রায় শেষ। মাঝে মধ্যে থাকাও শুরু করেছেন।

রামপুরা এলাকা ছেড়ে যেতে মোশাররফ-জুঁই দু’জনেরই খারাপ লাগছে। কত স্মৃতি এ এলাকা ঘিরে! জুঁই বলছিলেন, ‘বিয়ের পর আমরা রামপুরার উলনে থাকতাম। সেই বাড়িতেই রায়ানের (মোশাররফ-জুঁই দম্পতির ছেলে) জন্ম। ওর বয়স যখন পাঁচ মাস, তখন আমরা কুঞ্জবনের এ বাড়িতে আসি। সেই থেকে সাত বছর ধরে এখানেই।’

যোগ করলেন, ‘এ এলাকাতেই আমাদের সব আত্মীয়-স্বজন। মুদি দোকানদার থেকে শুরু করে, সবার সঙ্গে সম্পর্ক এত ভালো! ছেড়ে যেতে কষ্টই হচ্ছে।’

ইদানীং মোশাররফ আরও খানিকটা স্থির হয়েছেন। পরিকল্পনা করে প্রতিটি কাজে নামতে পারছেন। পরিবারে সময়ও দিচ্ছেন আগের চেয়ে বেশি। বরাবরের ভুলোমনা মোশাররফ এত কিছু যে সামলে এত কিছু করতে পারছেন, এ কৃতিত্বের অনেকখানি ভাগিদার জুঁই।

তাদের প্রতিটি দিনই ভালবাসার। প্রতিটি দিনই একসঙ্গে পথচলার। দেখতে দেখতে ভালবাসতে বাসতে কতগুলো বছর চলে গেল! ভালই লাগে তাদের দু’জনেরই। ভালবাসা তাদেরকে অনেক দিয়েছে। তারা পরস্পরের হাতে হাত রেখে ভাল থাকতে চেয়েছিলেন। এখন, তাদের মতো ভাল আর ক’জন আছে?