২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে ইইউ বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল হচ্ছে


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) যৌথ উদ্যোগে বিজনেস কাউন্সিল গঠন করা হচ্ছে। এ কাউন্সিল বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করবে। ইইউ বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, জাহাজ এবং আইসিটি আমদানি করতে চায়। এ ছাড়া ইইউভুক্ত দেশগুলো নতুন করে এদেশে বিনিয়োগ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আর এ কারণেই বিজনেস কাউন্সিল প্রয়োজন বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

বুধবার সচিবালয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ওই সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কিছু দিনের মধ্যেই আমরা বিজনেস কাউন্সিল গঠন করব। বাংলাদেশে ইইউভুক্ত ৮টি দেশের দূতাবাস আছে। এই আট দেশ সদস্য থাকবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সদস্য নিয়ে এই কাউন্সিল হবে। তাছাড়া প্রাইভেট সেক্টরের লোকদের রাখা যায় কি-না, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে পরামর্শ করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৮টি দেশ বাংলাদেশে কিভাবে ব্যবসা করবে, আমরা কিভাবে রফতানি করব- এগুলো সমন্বয় করবে বিজনেস কাউন্সিল। ব্যবসা বাণিজ্য আরও কিভাবে সমৃদ্ধশালী করা যায়- সেটা হবে কাউন্সিলের মূল কাজ। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য জিয়ান ল্যাম্বার্টের নেতৃত্বে রিচার্ড হাওইট, ইভান স্টিফেন, সাজ্জাদ করিম সভায় অংশ নেন।

সভায় আলোচনার বিষয় সম্পর্কে তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমাদের বিনিয়োগ পলিসি সম্পর্কে তারা জানতে চেয়েছে। আমরা বলেছি, আমাদের ইনভেস্টমেন্ট পলিসি খুব লিবারেল। এখানে শতভাগ মূলধন আমরা এ্যালাউ করি। এখানে লাভ এবং মূলধন যে কোন সময় নিয়ে যেতে পারবে। ডাবল ট্যাক্সেশন এড়ানোর ব্যবস্থা আমাদের রয়েছে। এখানে ট্যাক্স দিলে ওই দেশে দিতে হবে না। ওইখানে ট্যাক্স দিলে এখানে দিতে হবে না। বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দেয়া হয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

মন্ত্রী জানান, এই পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কারখানা পরিদর্শন করেছে এ্যাকর্ড-এ্যালায়েন্স এবং ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভ। ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভ ১৫৪৯টি, এ্যাকর্ড ১৩৫৬ এবং এ্যালায়েন্স ৮২৯টি কারখানা পরিদর্শন করেছে। এর মধ্যে ৩৭টি ঝুঁকিপূর্ণ আর আংশিক ঝুঁকিপূর্ণ ৪০টি কারখানা আমরা বন্ধ করে দিয়েছি।

বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা শতকরা দুই ভাগের কম দাবি করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো গ্রীন ফ্যাক্টরিতে রূপান্তরিত হতে চলেছে। আমরা ইতোমধ্যে কয়েকটা উদ্বোধন করেছি। আরও প্রায় ৭০টির মতো পাইপলাইনে আছে। আমাদের কারখানাগুলো কমপ্লায়েন্ট কারখানায় রূপান্তরিত হতে চলেছে।

ইবিএ (এভরিথিং বাট আর্মস) ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি বাণিজ্যিক সুবিধা, যার আওতায় বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলো অস্ত্র ছাড়া সব পণ্য রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে থাকে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি না থাকলে কি হবে- এই উঠেছে। আমরা এটা আলোচনা করেছি। ইউরোপীয় ইউনিয়নে অন্য পদ্ধতি আছে। অন্য অনেক দেশকে জিএসপি প্লাস সুবিধা দেয়। আমরা ২০২১ সালে আপগ্রেডেশনের পরিকল্পনা করছি। তোফায়েল আহমেদ বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশকে জিএসপিসহ সব ধরনের ব্যবসায়িক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ অস্ত্র ছাড়া সব পণ্য রফতানিতে ডিউটি ও কোটা ফ্রি সুবিধা পাচ্ছে। গত ২০১০ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রফতানি ছিল ৮ দশমিক ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০১৫ সালে তা দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ মোট ২ হাজার ৪৪৯ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি করে। এর মধ্যে ইউরোপের ২৭টি দেশে রফতানি হয়েছে মোট পোশাকের ৬০ দশমিক ২১ শতাংশ। আগের অর্থবছর ইউরোপের বাজারে মোট পোশাকের ৫৮ দশমিক ৪০ শতাংশ রফতানি হয়েছিল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রফতানি কমেছে। গত ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পোশাক রফতানির ২৩ দশমিক ২২ শতাংশ রফতানি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। সেটা কমে গত অর্থবছর ২০ দশমিক ৯৯ শতাংশ হয়েছে। এই বাস্তবতায় ইইউতে রফতানি আরও বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।