১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

পাকিস্তানের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে জনগণ ক্ষুব্ধ ॥ নাসিম


বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, একাত্তরে পরাজয়ের গ্লানি থেকেই পাকিস্তান বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে- যা কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত। আসলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত পাকিস্তান আর তাদের দোসর হিসেবে কাজ করছে বিএনপি-জামায়াত। আর বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নিয়ে একের পর এক আপত্তিকর বক্তব্য দিয়ে পাকিস্তানকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। বুধবার ধানম-ির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সঙ্গে সহযোগী সংগঠনের নেতাদের যৌথ সভায় তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের আচরণে বাংলাদেশের জনগণ ক্ষুব্ধ। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের এমন হস্তক্ষেপ কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না। পাকিস্তানের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বিএনপি নেত্রীও মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করে নানা বক্তব্য রাখছেন।

বৈঠকে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৪ দলের উদ্যোগে রাজধানীর গাবতলী থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত মানববন্ধন কর্মসূচী সফল করতেই এই যৌথ সভার আয়োজন করা হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম সম্পর্কে পাকিস্তানের কটূক্তিপূর্ণ বক্তব্য ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয়ে অবৈধ হস্তক্ষেপ ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বক্তব্যের প্রতিবাদে ওই দিন বিকেল চারটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করবে ১৪ দল। কর্মসূচী সফল করতে সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নির্দেশ দেয়া হয়।

বৈঠকে যুদ্ধাপরাধের বিচারের কারণে পাকিস্তানের গাত্রদাহ হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান এখন সন্ত্রাসের স্বর্গরাজ্য। সন্ত্রাসী কর্মকা-ের জন্য দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে পাকিস্তান। শুধু তাই নয়, জঙ্গী আর সন্ত্রাসের কারণে পাকিস্তানের নিজ দেশের মানুষেরাও ক্ষুব্ধ। পাকিস্তান সরকার সে দেশের জনগণের দৃষ্টি অন্য দিকে ফেরাতেই অনৈতিকভাবে বাংলাদেশের বিষয়ে কথা বলছে, যা ১৯৭৩ সালের সিমলা চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এমন কি তারা পার্লামেন্টেও আলোচনা করছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু বাংলাদেশ বিষয়ে পাকিস্তান সকল সীমা অতিক্রম করছে। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার বিষয়ে নতুন করে ভাবা হচ্ছে। দেশবাসী চাইলে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের বিষয়টি ভাবা হবে। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আপনি দল করুন কোন অসুবিধা নেই। আপনার যে কোন রাজনৈতিক কর্মকা-ে আমরা বাধা দিতে চাই না। কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে পাকিস্তান যখন কথা বলছে, তখন আপনি নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন কেন?

সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, পাকিস্তান বাংলাদেশে গুপ্ত হত্যায় মদদ দিচ্ছে। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে তারা এ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন উন্নয়নের মহাসড়কে তখন বিএনপি ও পাকিস্তান মিলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। মূলত যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচাল করার জন্যই পাকিস্তান এবং বিএনপি এমন ষড়যন্ত্র করছে।

যৌথ সভায় উপস্থিত ছিলেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সুজিত রায় নন্দী, এস এম কামাল হোসেন, ঢাকা মহনগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি প্রমুখ। সভা থেকে ১৪ দলের পক্ষ থেকে মানববন্ধনে দলমত নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সকলকে অংশ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনাদর্শ ছড়িয়ে দেয়া দরকার, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ॥ স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, অন্যায় করলে আপন-পর কাউকেই ছাড় দেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশ ও জাতির স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা করে থাকেন। নিজের দলের অন্যায়কারীদের বিচার ও শাস্তির আওতায় এনে তিনি তা প্রমাণ করে চলেছেন। তাঁর ত্যাগের জীবনাদর্শ দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়া দরকার। তাঁর নেতৃত্বে দেশবাসী পেয়েছে আলোকিত বাংলাদেশ।

বুধবার রাজধানীর মিরপুরে ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রী নিবাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এস এম ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার, অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মোঃ নুরুল হক, স্বাধীন চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ, ছাত্রী নিবাস নির্মাণ প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এ মুহিত প্রমুখ।