২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারালেই ফাইনালে বাংলাদেশ


মিথুন আশরাফ ॥ সেই ১৯৮৮ সাল থেকে হয় অনুর্ধ ১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ। বাংলাদেশ ১৯৯৮ সাল থেকে খেলে। যে স্বপ্ন এর আগে কখনও সফল হয়নি, সেই সুযোগটি এবার সফল হতে পারে। যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার সুযোগ মিলবে। যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আজ সেমিফাইনালে হারাতে পারে বাংলাদেশ। ম্যাচটি সকাল ৯টায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হবে। জিতলেই প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠে যাবে বাংলাদেশ। নেপালকে কোয়ার্টার ফাইনালে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস আগেই গড়েছে। ফাইনালে উঠলে সেই ইতিহাস আরও রঞ্জিত হবে।

পারবে ফাইনালে খেলতে বাংলাদেশ? বাংলাদেশ যুব দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বলেছেন, ‘আমি খুব গর্বিত, প্রথমবারের মতো আমরা সেমিফাইনাল খেলছি। তবে এটা আমাদের জন্য কোন চাপের না। আমরা সবাই ভাল খেলতে মুখিয়ে আছি। যদি আমরা ভাল ক্রিকেট খেলতে পারি, অবশ্যই সফল হব।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমরা সবাই রোমাঞ্চিত। এই ম্যাচটি জিতলেই আমরা ফাইনালে চলে যাব। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।’ ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে বাংলাদেশের মূল পার্থক্যই হচ্ছে স্পিন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এ একটি স্থানে অনেক পিছিয়ে আছে। উপমহাদেশে খেলা মানেই স্পিন শক্তির বিপক্ষে লড়াই করতে হবে। সেই শক্তিতেই পিছিয়ে পড়ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর নিজ মাটিতে খেলা বলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে থাকছে। মিরাজই যেমন বললেন, ‘আমাদের স্পিনাররা অনেক ভাল। ব্যাটসম্যানও অনেক ভাল। ব্যাটসম্যানরা ভাল টোটাল করে দিলে আমাদের স্পিনারদের জন্য কাজটা সহজ হয়ে যায়। আমরা ওদের কাছ থেকে স্পিন আক্রমণ ও ব্যাটিংয়ে এগিয়ে আছি।’

সেই এগিয়ে থাকার গল্প এর আগেও লেখা হয়েছে। যুব বিশ্বকাপে খেলতে সবার আগে বাংলাদেশে এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যুব দলের ক্রিকেটাররাই। জানুয়ারিতে বাংলাদেশ যুব দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজও খেলে। প্রতি ম্যাচেই হারে। বাংলাদেশের জয়গুলোও অনেক বড় ছিল। প্রথম একদিনের ম্যাচে ৮ উইকেটে জেতার পর দ্বিতীয় ম্যাচে ১৭১ রানের বড় ব্যবধানে জিতে বাংলাদেশ। তৃতীয় ম্যাচে ১৬ রানে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করে মিরাজবাহিনী।

এখন পর্যন্ত দুই দলের মধ্যকার ১৭টি যুব একদিনের ম্যাচ হয়। মাত্র ৫ ম্যাচে জিততে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১২ ম্যাচেই বাংলাদেশ জিতে। সর্বশেষ ৫ ম্যাচের সবকটিতে বাংলাদেশেরই জয়জয়কার হয়। এবারও বাংলাদেশ তাই চাচ্ছে। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ কী এত সহজে ছেড়ে দেবে?

ক্যারিবীয় যুব দলের অধিনায়ক শিমরন হেটমায়ার যেমন ‘বাংলাদেশকে হারাতে পারবেন?’ প্রশ্নের উত্তরে বলেই দিয়েছেন, ‘হ্যাঁ, আমরা পারব। দলের সবাই তাদের বেসিক কাজটা ঠিকভাবে করতে পারলে আমার মনে হয় আমাদের জেতার ভাল একটা সুযোগ আছে।’ এ সাহসটি দেখাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের পেসারদের ওপর নির্ভর করেই। হেটমায়ারের মুখ থেকে বের হওয়া কথাতেই তা স্পষ্ট, ‘গত দুই বছরের কথা আমি বলতে পারি, দ্রুত গতির পেসারদের দলে থাকাটা সত্যিই ভাল একটা অনুভূতি। আমার মনে হয় শেষ বিশ্বকাপে আমাদের একজন পেসার ছিল যে পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ করেছে। ওই টুর্নামেন্টে দক্ষিণ আফ্রিকার রাবাদা ছিল সবচেয়ে দ্রুতগতির বোলার। এই টুর্নামেন্টে আমাদের দলে দ্রুত গতির বোলার থাকাটা আমাদের জন্য বড় পাওয়া। উপমহাদেশে মানুষ পেস সহায়ক উইকেটের সঙ্গে অভ্যস্ত নয়। তবে আমাদের পেসাররা ভাল করছে।’

এরসঙ্গে পাকিস্তানের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে জেতায় যেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গেছে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ৩-০ হার, এটা কি সেমিফাইনালে পার্থক্য গড়তে পারে? এমন প্রশ্নের যেন পাত্তাই দিতে চাইলেন না হেটমায়ার, ‘না, তেমন নয়। কোচ যেটা বললেন আমরা দলগতভাবে এগোচ্ছি। টুর্নামেন্টে সবকিছু ভালই যাচ্ছে। দল হিসেবে আমরা কতটা আগালাম এবং একসঙ্গে কতটা ভাল করতে পারি এটা দেখার জন্য এই মুহূর্তে দলের প্রায় সবাই বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের দিকে তাকিয়ে।’ পরক্ষণেই পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটিকে সামনে তুলে ধরলেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে কয়েকজন ব্যাটসম্যান দারুণ কিছু শট খেলেছে। কয়েকজন বোলার বেশ ভাল করেছে। আমরা একই রকম পারফর্মেন্স করার চেষ্টায় আছি। আমরা সেটা করতে পারলে টুর্নামেন্টে আমাদের খুব ভাল সুযোগ আছে।’

এখন কার সুযোগ আছে সত্যি সত্যি, তা আজই বোঝা যাবে। যে দল জিতবে, তারাই ফাইনালে খেলবে। ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপ হচ্ছে। সেই বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশকেই সবাই দেখতে চাইবে। এ জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে পারলেই হলো। পারবে বাংলাদেশ?

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: