১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

‘পার্বত্য শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন করব’


সংসদ রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা পার্বত্য শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, তৃতীয় কোন শক্তির মধ্যস্থতা ছাড়াই শান্তিচুক্তি যখন করেছি, এর পুরোপুরি বাস্তবায়নও অবশ্যই করব। এই চুক্তির যে ধারাগুলো এখনও বাস্তবায়ন হয়নি, সেগুলোও বাস্তবায়ন করব। আর পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা দিতে যারা ষড়যন্ত্র করেছে, তাদের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করছে। ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার প্রচলিত নিয়মেই সম্পন্ন করা হবে। আর নাশকতার মামলায় যারা জামিন পেয়েছে, তারা যাতে আবারও অনুরূপ অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সেজন্য তাদের নিবিড় নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

বুধবার স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ত্রিশ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে একাধিক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে আনীত কথিত দুর্নীতি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। পুলিশ বাহিনীর কিছু প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকা- নিয়ে অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রতিটি অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করে অভিযোগের গুরুত্বানুসারে চাকরি হতে বরখাস্তসহ বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি করেছিলাম। কোন বিদেশী শক্তিকে এ চুক্তি সম্পাদনে আমরা সম্পৃক্ত করিনি। কারণ এটি ছিল রাজনৈতিক সমস্যা, তাই রাজনৈতিকভাবেই আমরা এর সমাধান করেছি। তিনি বলেন, ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে ঘোষণা দিয়েছিলাম যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা রাজনৈতিক সমস্যা। তাই সামরিক শক্তি দিয়ে নয় রাজনৈতিকভাবে এর সমাধান করতে হবে। তৃতীয় কোন শক্তির মধ্যস্থতা ছাড়াই জনসংহতি সমিতির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিচুক্তিটি করেছি। শান্তিচুক্তিটি হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার ও জনসংহতি সমিতির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে। তাই চুক্তির পর অস্ত্র সমর্পণ অনুষ্ঠানে আমি নিরাপত্তার সকল ব্যারিকেড ভেঙ্গে তাদের কাছে চলে গিয়েছিলাম।

এ প্রসঙ্গে সংসদ নেতা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের জীবন জীবিকার যাবতীয় ব্যবস্থা আমরা করেছি। যারা চাকরি চেয়েছিল, আমরা তাদের চাকরি দিয়েছি। শান্তিচুক্তির ভারত থেকে ৬৪ হাজার শরণার্থী ফেরত আনি। তাদের জীবন জীবিকার জন্য যা যা করার আমরা করেছি। আমরা সব সময় বলেছি, সমাধান হবে সংবিধানের ভেতরে, বাইরে হবে না। শান্তিচুক্তি যখন করেছি, তার পুরোপুরি বাস্তবায়নও করব। এখনও যেসব ধারা বাস্তবায়ন হয়নি, সেগুলো করব।

শেখ হাসিনা বলেন, যখন শান্তিচুক্তি হয় বিএনপি জামায়াত তার বিরোধিতা করেছিল। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন এই চুক্তি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের ফেনী পর্যন্ত ভারত হয়ে যাবে। উনি তখন ফেনীর সংসদ সদস্য ছিলেন। তখন উনাকে প্রশ্ন করেছিলাম ফেনী যদি ভারত হয়ে যায়, তাহলে কি আপনি (খালেদা জিয়া) কি ভারতের সংসদে গিয়ে বসবেন? তিনি বলেন, যেদিন অস্ত্র সমর্পণ হয়, সেদিন বিএনপি পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় হরতাল-অবরোধ ডেকে ছিল, যাতে অস্ত্র সমর্পণ না হয়। এই ১০ ফেব্রুয়ারিতেই কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্ত্র সমর্পণ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে সরকারদলীয় সংসদ শামসুল হক চৌধুরীর অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে এয়ারপোর্ট করতে হলে, পাহাড় কেটে করতে হবে। সেটা পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য ভাল হবে না। তাই আমরা রাস্তা করে দিচ্ছি। আর কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বেশি দূরে নয়, প্রশস্থ রাস্তা আছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সৌন্দার্য উপভোগ করার জন্য রাস্তা দিয়ে চলাই সুন্দর হবে। সেখানে এয়ারপোর্টের দরকার নেই।

নাশকতা মামলায় জামিনপ্রাপ্তরা নিবিড় নজরদারিতে ॥ জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান, শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে পুলিশ বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আর নাশকতার মামলায় যারা জামিন পেয়েছে, তারা যাতে আবারও অনুরূপ অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সেজন্য তাদের নিবিড় নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এছাড়া বিদেশী নাগরিকদের বসবাসের এলাকা ও চলাচলের রাস্তাগুলোতে গোয়েন্দা কার্যক্রম অধিকতর জোরদার করা হয়েছে। ডিপ্লোমেটিক এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ চলমান টহল আরও নিবিড় ও চেকপোস্ট ডিউটি জোরদার করা হয়েছে।

তিনি জানান, নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যালোচনা করে জনসাধারণের নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা নিশ্চিতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। পুলিশের মাধ্যমে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাসহ জনসাধারণের সম্পদ ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রতিটি অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করে অভিযোগের গুরুত্বানুসারে চাকরি থেকে বরখাস্তসহ বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকে। নাশকতামূলক ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য যাচাইপূর্বক এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করছে।

বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ হয়নি ॥ জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিভিন্ন প্যাকেজের নির্মাণ কাজ তদারকির জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে বিশ্বব্যাংক ঋণচুক্তি স্থগিত করে। কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তে বিশ্বব্যাংকের সে অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়।

তিনি বলেন, তবে একপর্যায়ে বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্পে আবারও ফিরে আসার ঘোষণা দিলেও নতুন নতুন শর্তারোপ করে দীর্ঘসূত্রতার পথ অবলম্বন করেছিল। এ কারণে বিশ্বব্যাংকের ঋণ না নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সাহসী ও স্বাধীনচেতা নেতৃত্ব ও দৃঢ় সিদ্ধান্তের ফলেই বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হয়। এ সেতু নির্মাণে অন্য কোন দেশ থেকে ঋণ নেয়া হচ্ছে না।

সংসদ নেতা বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের আওতায় পদ্মা সেতুতে ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। গ্যাসপ্রাপ্তি ও পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পের অর্থায়ন প্রাপ্তি সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে গ্যাস পাইপলাইন সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের জন্য পায়রা বন্দরে একটি ল্যান্ডবেসড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকার নিয়েছে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পৃথিবীর বৃহত্তম হাইওয়ে সেতুর মধ্যে (ভায়াডাক্টসহ) পদ্মা সেতুর অবস্থান ২৫তম। তবে নদীর ওপর নির্মিত সেতুর মধ্যে এ সেতুর অবস্থান প্রথম এবং ফাউন্ডেশনের গভীরতার দিক থেকেও এ সেতুর অবস্থান প্রথম।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: