২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

পেট থেকে নিজেই বের করে আনলেন তিনটি সোনার প্যাকেট


স্টাফ রিপোর্টার ॥ পেটে সোনার বার শনাক্ত করার পরও তার দাপট কমেনি। কিছুতেই সোনা বের করে দিতে রাজি হননি তিনি। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করার প্রস্তুতি নিলে তার টনক নড়ে। এবার বাধ্য হন নিজেই পেটের ভেতর থেকে সোনা বের করে দিতে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মঙ্গলবার রাতে ঘটে এমন নাটকীয় ঘটনা। এমন কা- ঘটিয়ে রীতিমতো গোয়েন্দাদের ঘর্মাক্ত করে ফেলা এই যাত্রীর নাম রোমান তালুকদার (৩৫)।

ওই রাতে মালয়েশিয়া থেকে একটি ফ্লাইটে শাহজালালে অবতরণ করেন রোমান। ইমিগ্রেশন পেরিয়ে গ্রীন চ্যানেলের কাছাকাছি আসতেই তাকে আটক করেন শুল্ক গোয়েন্দারা। শরীর তল্লাশি করেও কোন সোনা না পাওয়ায় তিনি জোর গলায় প্রতিবাদ করতে থাকেন। কিন্তু সোর্স তখনও নিশ্চিত করছিলেন তার পেটের ভেতরেই সোনার বারগুলো। এক পর্যায়ে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় উত্তরার একটি ক্লিনিকে। সেখানে এক্সরে করে শনাক্ত করা হয় পেটে বেশ কয়েকটি সোনার প্যাকেট। তখনো রোমান অস্বীকার করতে থাকেন পেটে কোন সোনা নেই। এতে শুল্ক গোয়েন্দারা পেটে অপারেশন করে সোনা বের করার নির্দেশ দিলে রোমানের টনক নড়ে। তখন তিনি নিজেই এ সোনা বের করে দেবার জন্য চেষ্টা করবেন বলে স্বীকার করেন। রাত তখন বারোটা। ততক্ষণে শাহজালাল বিমানবন্দরে হাজির বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক।

শুল্ক গোয়েন্দার মহাপরিচালক ও রেটকাম বিশেষজ্ঞ ডক্টর মইনুল খান জনকণ্ঠকে বলেন, রাত বারোটায় রোমানকে নিয়ে আসা হয় বিমানবন্দরের কাস্টমস হলে। এখানকার একটি টয়লেটে পাঠানো হয়। তবে কমোডে বসানো হয়নি। কারণ তাতে করে তিনি সোনাগুলো বের করে ফ্ল্যাশ আউট করে দিতেন। এমন আশঙ্কায় টয়লেটের পাশে একটি স্টোর রুমে তাকে বসানো হয়। আশ্চর্য ব্যাপার। মাত্র আধ ঘণ্টার ব্যবধানে একটি পাইপ ভেতরে ঢুকিয়ে বিশেষ কায়দায় বের করে আনেন তিনটি সোনার প্যাকেট যার প্রতিটিতে ছিল তিনটি করে সোনার বার। প্রতিটির ওজন ১শ গ্রাম। যার বাজার মূল্য ৪৫ লাখ টাকা।

বুধবার এ বিষয়ে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। আজ (বৃহস্পতিবার) রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হবে জানিয়েছেন ওসি কামাল উদ্দিন।

রোমান কুমিল্লার দাউদকান্দির বাসিন্দা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুয়ালালামপুর থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-০১৮৭ ফ্লাইটে শাহজালাল বিমানবন্দরে আসেন রোমান।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: