১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

রবীন্দ্রনাথের কবিতার অনুবাদ নিয়ে চীনে বিতর্ক


বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর ৮০ বছরের বেশি সময় পার হলেও সাহিত্যে নোবেল জয়ী এই বাঙালী কবির প্রচুর ভক্ত রয়েছে এশিয়ায়। বাংলাদেশ ও ভারতের পরে সম্ভবত চীনে তার ভক্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। চীনের মাধ্যমিক স্কুলের পাঠ্যসূচীতে কয়েক দশক আগেই রবীন্দ্রনাথের রচনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এবার পুরো রচনাবলীই রবীন্দ্রপ্রেমীদের জন্য চীনা ভাষায় অনুবাদের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে চলতি মাসে চীনের বৃহৎ প্রকাশনা সংস্থা পিপলস পাবলিশিং হাউস ‘দি কমপ্লিট ওয়ার্কস অব টেগোর’ নামে রবীন্দ্র রচনাবলী চীনা ভাষায় প্রকাশ করবে। এই প্রথম সরাসরি বাংলা থেকে চীনা ভাষায় অনুবাদ কর্মটি শেষ করতে সময় লেগেছে ছয় বছর। তবে নোবেল জয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন ১৮৮৭ সালে দি নিউইয়র্ক রিভিউ বুকসে লিখেছিলেন, কবিতা অনুবাদ করা অবশ্যই অনেক কঠিন এবং যারা রবীন্দ্রনাথের লেখা বাংলা কবিতাগুলো পড়েছেন, তাদের কোন ভাষার অনুবাদই সন্তুষ্ট করতে পারবে না। এদিকে রবীন্দ্রনাথের কবিতার অনুবাদ নিয়ে চীনে বেশ বিতর্কও রয়েছে। ফেং তেং নামে এক লেখক রবীন্দ্রনাথের ইংরেজী কাব্যগ্রন্থ ‘স্ট্রে বার্ডস’ থেকে কয়েকটি কবিতা অনুবাদ করেছেন, তা নিয়ে বেশ সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে দেশটিতে। এই অনুবাদ নিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে ঝেজিয়াং ওয়েনি পাবলিশিং হাউস নামের প্রকাশনা সংস্থাটি বাজার থেকে সব বই উঠিয়ে নিতে বাধ্য হয়। প্রায় এক শতাব্দী আগে লেখা রবীন্দ্রনাথের ওই কবিতার অনুবাদে চূড়ান্ত অশ্লীলতা টেনে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন চীনা সাহিত্যানুরাগীরা। সম্প্রতি বেজিংয়ে নিজ স্টুডিওতে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ফেং তেং বলেছেন, অনেক চীনাই রবীন্দ্র রচনা মানেই কোমল, রোমান্টিক, তারকা, বাগান আর ফুলের ধারণা নিয়ে বেড়ে উঠেছে। ছোটবেলা থেকে তারা যে রবীন্দ্রনাথকে জেনে এসেছিল আমার অনুবাদের মাধ্যমে তাদের সেই রবীন্দ্রনাথ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পিপলস পাবলিশিং হাউসের ডেপুটি চীফ এডিটর ইউ কিং বলেছেন, শীর্ষ বিদেশী লেখকদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ চীনে ব্যাপক জনপ্রিয় এবং তার প্রচুর বই চীনা ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তলস্তয় বা মার্ক টোয়েনের মতো অন্য জনপ্রিয় বিদেশী লেখকদের চেয়ে ভিন্ন ছিলেন তিনি। রবীন্দ্রনাথ আসলে চীন সফর করেছিলেন এবং সমসাময়িক অগ্রণী চীনা সাহিত্যিকদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন তিনি। ৪৪ বছর বয়সী জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক ফেং বলেছেন, তিনিও রবীন্দ্রনাথের রচনা অনুবাদ করতে চেয়েছিলেন এবং তখন তার মনে পড়ে তরুণ বয়সে তিনি ছোট কবিতার সঙ্কোলন স্ট্রে বার্ডস পড়েছেন। তবে গত গ্রীষ্মে তার অনুবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর অনলাইন ও চীনা সংবাদ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এমনকি ফেংয়ের অনুবাদের সমলোচনা করে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র পিপল্ডেইলি সংবাদপত্র এক পর্যালোচনায় বলেছে, আগে এই কবিতার যে অনুবাদ চীনা ভাষায় হয়েছে, ফেংয়ের অনুবাদ তার চেয়ে ভিন্ন। অনুবাদ করতে গিয়ে ফেং যে সব শব্দ চয়ন করেছেন তা এতটাই অশালীন যে তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদপত্র ‘চায়না ডেইলি’র সম্পাদকীয়তে এই নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন দেশটির সাহিত্য রেমন্ড ঝোউ। তিনি বলেছেন, তার অনুবাদে বাদ চয়ন ও রূপকের ব্যবহার অশ্লীলতা দোষে দুষ্ট। তবে তার এই অনুবাদের পদ্ধতি নিয়ে সমালোচনায় কান দিতে নারাজ ফেং। তিনি বলেছেন, আমার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল রবীন্দ্রনাথের কবিতার নান্দনিকতা ধারণ করা। আমি যখন অনুবাদ করি তখন আমি একজন লেখক। আমার প্রসঙ্গ জানার প্রয়োজন নেই। আমি স্বাধীনভাবে এবং যথাসম্ভব সৃজনশীলভাবে করতে চাই। - ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: