১৭ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ধর্ষিত প্রতিবন্ধীর গর্ভের সন্তানের দায় নেবে কে?


স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ পটিয়ায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত স্থানীয় ছয় তরুণের বিচার দাবি করেছে ঘটনার শিকার ওই কিশোরীর পরিবার। বুধবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে বখাটে ছয় তরুণের বিচার দাবি করেন তারা। একই সঙ্গে বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই কিশোরীর গর্ভের সন্তানের দায়ভার কে নেবে- এই প্রশ্ন রাখে তার পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগীর নিকটাত্মীয় সঞ্জিতা দে। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘মেয়েটি জন্ম থেকে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। তার বাবাও প্রতিবন্ধী। ভুক্তভোগীর মা মানুষের বাসায় ঝিয়ের কাজ করেন। প্রতিদিনের মতো ২০১৫ সালের ২১ জুন তার মা কাজে বাইরে যান। এ সুযোগে এলাকার ছয় বখাটে পিয়াল দে, ইমন দে, জনি দে, রতন দে, সজীব দে ও নয়ন দে ঘরে ঢুকে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। কিন্তু ধর্ষণের শিকার হলেও বিষয়টি তার মা জানতে পারেন গত বছরের শেষের দিকে। কারণ ওই সময় ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়লে তার শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। এতে ধরা পড়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি। এরপর মেয়েটির কাছে জানতে চাইলে সে জড়িত ছয়জনকে চিহ্নিত করে। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ঘটনার পর চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন কিশোরীর মা। কিন্তু মামলা হওয়ার এক মাস পার হলেও এখনও ধর্ষকরা গ্রেফতার হয়নি। উল্টো স্থানীয় কাউন্সিলর রূপক সেন জড়িতদের বাঁচাতে উঠে পড়ে লেগেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

লিখিত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বলেন, ‘জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন জায়গায় ধর্ণা দেয়ার পর স্থানীয়ভাবে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে জড়িতদের তিনজন ধর্ষণের কথা স্বীকার করে। তিনি আরও জানান, বৈঠকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু আমি টাকা নিতে রাজি না হলে স্থানীয় কাউন্সিলর রূপক সেন আসামিদের পক্ষ নিয়ে আমাকে প্রাণে মারার হুমকি দিচ্ছে। আমার কলেজ পড়ুয়া আরেক মেয়ের ক্ষতি করার হুমকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমি আমার মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাই।

তবে আসামিদের পক্ষে নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন কাউন্সিলর রূপক সেন। বুধবার বিকেলে তার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হেরে গিয়ে আমার বিরোধীরা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমার কাছে বিষয়টি মীমাংসার জন্য আসেন। কিন্তু আমি বলেছি, এটা আদালতের বিষয় সেখানে মীমাংসা হবে। আমি কিছু করতে পারব না। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর পিতা, নারী যোগাযোগ কেন্দ্রের নাদিরা সুলতানা ও রোখসানা আক্তার, এনজিও সংস্থা এ্যালায়েন্স অব আরবান ডিপিওস ইন চিটাগাং (এইউডিসি)-এর জাহানারা হেনা, উৎসের আবুল হাশেম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।