১৫ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

সিটি আউটার রিং রোড ॥ পাল্টে দেবে চট্টগ্রাম


স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত ৩০ ফুট উচ্চতার ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ সিটি আউটার রিং রোড পাল্টে দেবে নগরীর চিত্র। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে এক হাজার ৭০০ কোটি টাকা। সড়কটির নিচের দিকে প্রশস্ততা হবে ৩০০ ফুট এবং উপরে থাকবে ৮৪ ফুট। এতে করে এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে। পর্যটনের বিকাশ হবে। সাগর পাড়ে গড়ে উঠবে পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা। সেখানে প্রায় ৫ হাজার একর জায়গায় হবে পরিকল্পিত উপশহর।

বুধবার সকালে সিটি আউটার রিং রোডের জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। সাগর পাড়ের মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নে আপনারা যে অবদান রাখলেন তা চট্টগ্রামবাসী চিরদিন স্মরণ রাখবে। তিনি জানান, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের সকলকেই ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। ৩ হাজার পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ক্ষতিপূরণের চেক দেয়া হবে এবং তাদের এক কাঠা করে জায়গাও দেয়া হবে। তিনি জানান, প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে সাগর পাড়ের ২০ লাখ মানুষ জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা পাবে এবং একই সঙ্গে পুরো এলাকার চেহারা পাল্টে যাবে।

চউক সূত্রে জানা যায়, জাতীয় অর্থনীতিতে সিংহভাগ অবদান রাখা চট্টগ্রাম নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ৬টি ওয়ার্ডে বসবাস করে প্রায় ২২ লাখ মানুষ। চসিকের ৩৬ থেকে ৪১ পর্যন্ত এই ওয়ার্ডগুলোর মধ্যেই অবস্থান দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি, জ্বালানি বিপণন সংস্থা পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা, দেশের প্রধান খাদ্যগুদাম সাইলো, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান ঘাঁটি, বিমানবাহিনীর ঘাঁটি, দেশের প্রধানতম রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল সিইপিজেড, কেইপিজেডসহ কয়েক শতাধিক সরকারী ও বেসরকারী শিল্প কারখানা, স্কুল, কলেজ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। আউটার রিং রোডও নির্মিত হচ্ছে এ ওয়ার্ডগুলোর সাগর তীর ঘেঁষে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকায় এই এলাকায় পণ্যবাহী গাড়ি ও স্থানীয় যাত্রীবাহী গাড়ি চলাচলের কারণে তীব্র যানজট লেগেই থাকে। এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গত ৩০ জানুয়ারি লালখানবাজার হতে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। বর্তমান সরকারের আন্তরিকতায় পতেঙ্গায় নির্মিত হচ্ছে বেড়িবাঁধ। এটা পতেঙ্গা সাগর পাড়ের মানুষ তথা চট্টগ্রামবাসীর জন্য সুখবর।

চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোডের জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন চউক বোর্ড সদস্য কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন, বোর্ড সদস্য জসিম উদ্দিন, চউক সচিব তাহেরা ফেরদৌস, প্রধান প্রকৌশলী মোঃ জসিম উদ্দিন, প্রকল্প পরিচালক হাসান বিন সামস, রাজিব দত্ত ও ইঞ্জিনিয়ার রবিউল হক। নাসির উদ্দিন দিদারের পরিচালনায় চেক বিতরণী সভায় উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন, কাউন্সিলর সালেহ আহমেদ চৌধুরী, মহিলা কাউন্সিলর আফরোজা কালাম, আবু তাহের, আবেদ মনসুর, তাহেরা ফেরদৌস, আসফাক, আব্দুল মান্নান, হোসেন মুরাদ, এমএ মান্না, জানে আলম প্রমুখ।