২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

স্বর্ণালি গৌরব


প্রথমে ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত, পরে সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা পর পর তিনটি স্বর্ণপদক জিতেছেন এসএ গেমসে। এর মধ্যে শিলার স্বর্ণ দুটি। দক্ষিণ এশিয়ান অলিম্পিক গেমসখ্যাত সাউথ এশিয়ান গেমসে (এসএ গেমস) বাংলাদেশের এই অর্জন খুব সহজ ছিল না। সর্বশেষ ২০১০ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে বাংলাদেশ সোনার পদক জিতেছিল ১৮টি। তবে এবার গেমস থেকে কারাতে, গলফ ও ক্রিকেট ছেঁটে ফেলায় স্বর্ণপদকের প্রত্যাশা অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে। অন্যান্য ইভেন্টেও সাফল্য আসেনি তেমন। এ অবস্থায় বাংলাদেশ দলের মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলেন সীমান্ত ও শিলা। এসএ গেমসে এ পর্যন্ত তিনটি স্বর্ণপদকের গৌরবোজ্জ্বলের অংশীদার এ দু’জন ক্রীড়াবিদই উঠে এসেছেন একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে। সাফল্যের শিখরে উঠতে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হয়েছে তাদের। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজা খাতুন শিলাকে সাঁতার ফেডারেশনের কর্মকর্তারা পাঠাতে চাননি এবার। তাকে বাদ দিয়ে বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে তার সতীর্থদের। কোন কোন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘এবার তো ওকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভারতে নিয়ে আসা হয়েছে।’ এমনকি গেমসের প্রাথমিক অনুশীলন ক্যাম্পেও ডাকা হয়নি মাহফুজাকে। শেষ পর্যন্ত কোরিয়ান কোচের কৃপায় দলে ঠাঁই হয় মাহফুজার। কোচ তাকে বরাভয় দিয়ে বলেছেন, তুমি ফেডারেশনের কথা না ভেবে দেশের কথা ভাব। দেশের জন্য খেল। সেই মাহফুজাই এককভাবে সাঁতারে রেকর্ড গড়ে দুটি স্বর্ণপদক নিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন। অভিনন্দন শিলা ও সীমান্তকে। এসএ গেমসে মঙ্গলবার পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্জন ৩ স্বর্ণ, ৮ রৌপ্য ও ২৭ তাম্রপদক। মোট ২৭ পদক নিয়ে তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ।

সত্য বটে, গত কয়েক বছরে ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় উন্নতি করেছে। এর মধ্যে প্রথমেই উল্লেখ করা যায় ক্রিকেটের। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। দেশে চলমান অনুর্ধ-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপেও বাংলাদেশ তরুণ দল বেশ ভাল করছে। ফুটবলেও গতি সঞ্চারিত হয়েছে। তবে দলগত খেলাধুলার বাইরে এ্যাথলেটিক্স হলো সবার সেরা। ব্যক্তিগত দক্ষতা ও নৈপুণ্য প্রদর্শনের সুবর্ণ সুযোগ। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, এ্যাথলেটিক্সে বাংলাদেশের সাফল্য তেমন উল্লেখ করার মতো নয়। দৌড়, হাইজাম্প, লংজাম্পের কথা বাদ দিলেও নদীমাতৃক দেশ হলেও গত দশ বছর আন্তর্জাতিক সাঁতার অঙ্গন থেকে কোন সোনার পদক ঘরে তুলে আনতে পারেনি বাংলাদেশ। অবশ্য এর কারণ মেধা ও যোগ্যতার অভাব নয়। বরং অভাব ও সঙ্কট পৃষ্ঠপোষকতার। আমলাতন্ত্রও এর জন্য দায়ী অনেকাংশে। রাজধানীসহ সারাদেশে, গ্রাম-গঞ্জের আনাচে-কানাচে অনেক বিরল প্রতিভা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও কোন অংশে কম যায় না, যদিও সমাজ সংসারে তারা অনেকটাই অবহেলিত। অনেকের পরিবারে কমবেশি অর্থনৈতিক সমস্যা-সঙ্কটও আছে। প্রয়োজনীয় ও যথাযথ সহযোগিতা এবং পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তাদের মধ্য থেকেই বেরিয়ে আসবে মাহফুজা-সীমান্তের মতো আরও প্রতিভা, যারা ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে স্বর্ণপদক ও সম্মান ছিনিয়ে আনবে। ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও পৃষ্ঠপোষকতার জন্য গঠিত হয়েছে বিভিন্ন ফেডারেশন। বার্ষিক সরকারী বরাদ্দও আছে, যদিও তা চাহিদার তুলনায় কম। তবে ফেডারেশনগুলোতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখাসহ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগও কম নয়। সাঁতার ফেডারেশন এর একটি। সে অবস্থায় ফেডারেশনগুলোতে প্রকৃতই দক্ষ মেধাবী সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের ঠাঁই দিতে হবে। গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে সর্বত্র স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ব্যবস্থা করা বাঞ্ছনীয়। বিদেশ থেকে প্রশিক্ষক আনার ক্ষেত্রেও তাই। ক্রীড়াঙ্গনে স্বজনপ্রীতি ও দলবাজি কখনোই কাক্সিক্ষত নয়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এ লক্ষ্যেই কাজ করবে বলে প্রত্যাশা।