মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

আলাদা বিভাগ চায় যশোরের মানুষ

প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, ০৮:০৭ পি. এম.
আলাদা বিভাগ চায় যশোরের মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার॥ বৃহত্তর যশোরের নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও যশোরকে নিয়ে পৃথক প্রশাসনিক বিভাগ ঘোষণা এবং মাগুরাকে প্রস্তাবিত ফরিদপুর বিভাগের সাথে সংযুক্তির প্রচেষ্টার প্রতিবাদে আজ ঢাকায় এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকাস্থ বৃহত্তর যশোর সমিতি এবং বিভাগ আন্দোলন পরিষদ যৌথভাবে এ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর যশোর সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী রফিকুল ইসলাম, বৃহত্তর যশোর সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি জামাল উদ্দিন আহমেদ, যশোর বিভাগ আন্দোলন পরিষদের আহবায়ক ইঞ্জি. আব্দুস সাত্তার, সদস্য সচিব হাসানূজ্জামান বিপুল, যশোর.ইনফো ওয়েবসাইট সংগঠনের সভাপতি ভবোতোষ মুখার্জী সুবীর, বৃহত্তর যশোর সমিতির সহ-সভাপতি প্রকৌশলী এম. এ. ওহাব, মাগুরা জেলা সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি এ্যাড. কাজি রেজাউল হোসেন, নড়াইল জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক তালুকদার হুমায়ুন কবির, বৃহত্তর যশোর সমিতির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. নুরুল কাদিরসহ আরও অনেকে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় বৃহত্তর যশোর বাংলাদেশের এক সমৃদ্ধ জনপদ। প্রশাসনিকভাবে যশোরের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। ভৌগোলিক ও রাজনৈতিকভাবে শত শত বছর পূর্ব থেকেই যশোরের পৃথক পরিচিতি বিদ্যমান। কিন্তু এহেন যশোর বর্তমানে ক্ষয়িষ্ণু এবং পশ্চাতপদ জেলায় পরিণত হতে চলেছে। বাংলাদেশের অন্য যে কোন এলাকার চেয়ে যশোর বিভাগ ঘোষণার যৌক্তিকতা রয়েছে। বৃহত্তর যশোরের ভাষা, কৃষ্টি, কালচার ভিন্ন। বৃটিশ আমলে কোলকাতার পশ্চাতভূমি হিসেবে যশোর ভিন্ন মর্যাদায় আসীন থাকলেও সে মর্যাদা এখন বিলীন হতে চলেছে।

তারা বলেন নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও যশোরকে নিয়ে বৃহত্তর যশোর। বিভাগীয় অনেক অফিস বর্তমানে যশোরে রয়েছে। খুলনা বিভাগের মধ্যবর্তী স্থান হিসেবে যশোর থেকে দেশের যে কোন দূরত্বে দ্রুত যাতায়াত করা যায়। যশোর জেলা খাদ্যশস্য, মাছের পোনা, সবজি, খেজুরের গুড়, ফুল ও গাড়ীর যন্ত্রাংশ উৎপাদনে বিখ্যাত। বেনাপোল বন্দর থেকে বছরে ৩ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পায় সরকার। নওয়াপাড়া শিল্পনগরী ও নৌবন্দরের মত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক জোন রয়েছে এই জেলায়। বাংলাদেশের প্রধান ৫টি রাজস্ব প্রদানকারী জেলার একটি যশোর যা খুলনা বিভাগে প্রথম। বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীন জেলা এবং ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠ’র মধ্যে ২ জনই বৃহত্তর যশোরের কৃতি সন্তান। এ সব বিষয় বিবেচনায় এনে যশোরকে পৃথক প্রশাসনিক বিভাগ ঘোষণার দাবি দীর্ঘদিনের। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও যশোরের পৃথক পরিচিতির কথা তার অসমাপ্ত আতœজীবনীতে উল্লেখ করেছেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সুষম উন্নয়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ময়মনসিংহ, কুমিল্লা এবং ফরিদপুরকে পৃথক বিভাগ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তারা বলেন, কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বৃহত্তর যশোরের অঙ্গ হিসেবে পরিচিত মাগুরাকে প্রস্তাবিত ফরিদপুর বিভাগের সাথে যুক্ত করার জন্য একটি মহল তৎপরতা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে মাগুরায় সর্বস্তরের জনসাধারণ এই তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছেন। তারা কিছুতেই যশোরকে ছেড়ে ফরিদপুরের সাথে যেতে চাননা।

সাংবাদিক সম্মেলনে বৃহত্তর যশোরের কোটি মানুষের প্রাণের দাবি অনুয়ায়ী নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদ এবং যশোরকে নিয়ে একটি পৃথক প্রশাসনিক বিভাগ ঘোষণার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়। একই সাথে মাগুরাকে ফরিদপুরের সাথে সংযুক্তির প্রচেষ্টা ত্যাগ করে বৃহত্তর যশোরের পৃথক পরিচিত বজায় রাখার আহবান জানানো হয়।

প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, ০৮:০৭ পি. এম.

১০/০২/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

জাতীয়



শীর্ষ সংবাদ: