১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ভূটানের সঙ্গে ড্র, ভাগ্য ঝুলে গেল বাংলাদেশের


রুমেল খান ॥ এসএ গেমস পুরুষ ফুটবলে মঙ্গলবার দিনটা হতে পারত বাংলাদেশ অলিম্পিক ফুটবল দলের জন্য মঙ্গলময় আর লক্ষ্যপূরণের দিন। ভারতের গুয়াহাটির পল্টন বাজারের এসএআই স্টেডিয়ামে তারা মুখোমুখি হয়েছিল ভুটান ফুটবল দলের। ‘বি’ গ্রুপের এই ম্যাচে যদি ভুটানকে হারালেই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দল নিশ্চিত করে ফেলত সেমিফাইনালে নাম লেখানো। কিন্তু ভুটানের সঙ্গে হতাশার ১-১ গোলে ড্রতে সেমিতে যাওয়া ঝুলে রইল বাংলাদেশের। তবে ভুটানের সঙ্গে ড্র করলেও সেমিফাইনালে যাওয়ার আশা এখনও টিকে আছে বাংলাদেশের। সেক্ষেত্রে ভুটানের অপেক্ষাটা বাড়বে। তারা তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশ-নেপাল ম্যাচের দিকে। ওই ম্যাচে বড় ব্যবধানে বাংলাদেশ হারলে তবেই সেমিতে যেতে পারবে ভুটান। ১১ ফেব্রুয়ারি গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে নেপালের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচেই ভাগ্য নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ ও ভুটানের।

সুযোগ ছিল শেষ চারে যাওয়াটা নিশ্চিত করার। তাতে করে সাফ আর বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের হতাশাটা কিছুটা হলেও চাপা পড়তে পারত। কিন্তু সেটা আর হলো কই! নেপালের কাছে যে ভুটান পাঁচ গোল হজম করে তাদের সঙ্গেই কি না ১-১ গোলে ড্র করল বাংলাদেশ! নিঃসন্দেহে এই ড্র চরম হতাশার বাংলাদেশের জন্য। আসলে ম্যাচে হারতে হারতে কোনমতে ড্র করে ইজ্জত বাঁচিয়েছে লাল-সবুজ দল!

যে ম্যাচটা খেলার কথা ছিল চাপমুক্ত হয়ে। উল্টো চাপের মুখেই পড়ল বাংলাদেশ আগে গোল হজম করে। ম্যাচের শুরু থেকেই সমান তালে খেলতে থাকে দু’দল। তবে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২০ মিনিটে এগিয়ে যায় ভুটান। গোলটি করেন ভুটানের নির্ভরযোগ্য ফুটবলার চ্যাঞ্চু গ্যাইল্টসেন (১-০)। ৪২ মিনিটে ম্যাচে সমতা এনে কোনমতে ভরাডুবির হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করেন ফরোয়ার্ড নাবিব নওয়াজ জীবন (১-১)। প্রথমার্ধ সমতায় থেকেই বিশ্রামে যায় দু’দল। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধানটা দ্বিগুণ করতে পারেনি কোন দলই। রেফারি শেষ বাঁশি বাজালে ১-১ গোলের হতাশার ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

নেপাল-ভুটান প্রসঙ্গটা আসছেই। বছর খানেক আগেও চোখ বুজে যাদের হারিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখত বাংলাদেশ। গত এসএ গেমসেও ভুটান দলকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশের যুবারা। সেগুলো এখন নষ্ট অতীত! নিজেদের প্রথম ম্যাচটাতে ড্র করাতে এখন সেমিফাইনালে যেতে নেপালের সঙ্গে অন্তত ড্র করতে হবে বাংলাদেশকে। তবে সম্প্রতি পারফর্মেন্সে এখন আর নেপালকে সহজ প্রতিপক্ষ বলা যাবে না। বাংলাদেশ দলকে সেটায় মাথায় রাখতে হবে, নেপালের তারুণ্য নির্ভর যে দলটি সবাইকে পেছনে ফেলে তুলে নিয়ে গেছে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের শিরোপা। তারাই খেলছে এবার এসএ গেমসে। ভুটানের বিপক্ষে ৫-০ গোলের দুর্দান্ত স্কোরে যাদের শুরু। তাদের বিপক্ষে আর যাই হোক চাপমুক্ত থেকে নামার উপায় নেই বাংলাদেশের। তাই ভয়টা থাকছেই!

এবারের পুরুষ ফুটবলে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান অংশ নিচ্ছে না। ফলে দল গেছে কমে (৬টি)। এক গ্রুপে মাত্র তিনটি করে দল। দল কমে যাওয়ায় গ্রুপ পর্ব থেকে শেষ চারে যাওয়াটা অনেকটা সহজ হয়ে গেছে সব দলের জন্যই। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ জিততে পারলে সেমিতে যাওয়াটা সহজ। অথচ এই সহজ কাজটিই ঠিকমতো করতে পারছে না বাংলাদেশ দল! আসলে ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই। দুর্বল দলের কাছে সবল দলের হারের বা ড্রয়ের অনেক নজির আছে। তাই পচা শামুকে পা কাটার যে আশঙ্কা ছিল, তাই হয়েছে বাংলাদেশের বেলাতে।

ভুটানের জন্য ম্যাচটা ছিল বাঁচামরার। আর বাংলাদেশের জন্য সেমিফাইনালে ওঠার সিঁড়ি। যদিও সম্প্রতি বেশ এগিয়েছে ভুটানের ফুটবল। আর সম্প্রতি খুব একটা ভাল কিছু করে দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ অনুর্ধ ২৩ দল।

বাংলাদেশ অলিম্পিক দলে আছেন জাতীয় দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একাধিক ফুটবলার। তারা অলিম্পিক দলের হয়ে শুধু বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপেই খেলেননি, পাশাপাশি শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবল ও সাফ সুজুকি কাপেও খেলেছেন। মিডফিল্ড শক্ত হয়েছে জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় জামাল ভূঁইয়াকে দলে নেয়ার কারণে। সবমিলিয়ে জাতীয় দলের ৬ ফুটবলার আছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক দলে। এমন দল নিয়েও ভুটানের সঙ্গে ড্র সত্যিই হতাশার, লজ্জারও বটে।

এখন দেখার বিষয় শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয় কি না।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: