মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৯ আশ্বিন ১৪২৪, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

কে হবেন চূড়ান্ত প্রার্থী ॥ হিলারি না স্যান্ডার্স কিংবা ট্রাম্প না রুবিও

প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৬
  • এনামুল হক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রাইমারীর প্রতিযোগিতা এখন এক সিরিয়াস পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। আমেরিকার ইতিহাসে প্রাইমারীকে এত কদর্য, অনিশ্চিত ও অদ্ভুত রূপ কদাচিতই ধারণ করতে দেখা গেছে। সর্বশেষ যে পরিস্থিতি তাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও রিপাবলিকান শিবির এবং হিলারি ক্লিনটন ডেমোক্রেটিক শিবিরে প্রার্থিতা লাভের লড়াইয়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন।

ডেমোক্র্যাটিক শিবিরে বামপন্থী সিনেটর বার্ণি স্যান্ডার্স প্রথম দিকের কয়েকটি রাজ্যের নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনকে ছাড়িয়ে গেলেও সার্বিক জনপ্রিয়তায় হিলারি এগিয়ে। তবে অস্ত্র ও আয় অসাম্য এই প্রধান দুই ইস্যুতে দু’জনে সমান স্কোর লাভ করেছেন। এর মধ্যে আইওয়ার নির্বাচনে হিলারি সামান্য ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। হিলারি ৪৯.৮৬ শতাংশ এবং স্যান্ডার্স ৪৯.৫৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ব্যবধান এতই সামান্য যে, কোন কোন ফল পয়সা টস করে নির্ধারণ করতে হয়েছে। নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে কিছু কানাঘুষাও শোনা যাচ্ছে। দল তাকে বিজয়ী ঘোষণা করার আগেই হিলারি তড়িঘড়ি নিজের বিজয় দাবি করেন। অন্যদিকে স্যান্ডার্সের নির্বাচনী প্রচারকর্মীরা দাবি করেন ভোটের পুরো তথ্য পরিসংখ্যান প্রকাশ করতে হবে। সরকারী ফলাফলের কিছু কিছু ক্ষেত্রে অসঙ্গতি থাকায় কতিপয় পত্রিকা ফলাফল পুরো অডিট করার দাবি জানিয়েছে। গত বেশ কয়েক বছরে আইওয়ার ডেমোক্রেটিক ককাস এত অল্প ব্যবধানে বিজয় আর দেখেনি। অন্যদিকে নিউ হ্যাম্পশায়ারে বার্ণি স্যান্ডার্স বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৫০ শতাংশ এবং হিলারী ৪১ শতাংশ ভোট।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে ডেমোক্রেটিক শিবিরে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার জন্য রয়েছেন দু’জন প্রার্থী। হিলারি ক্লিনটন ও বার্ণি স্যান্ডার্স। হিলারির বিশদ পরিচয় দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। তার হোয়াইট হাউসে যাওয়ার পথে মস্তো বাধা বার্ণি স্যান্ডার্স। ৭৪ বছর বয়স্ক এই ডেমোক্রেটিক সোশালিস্ট বলেন, মার্কিন পুঁজিবাদ দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষের বিরুদ্ধে। তিনি অঙ্গীকার করেছেন যে নির্বাচিত হলে তিনি ব্যাংকগুলোকে কঠিন শাসনে আনবেন। মেডিকেয়ারকে সার্বজনীন স্বাস্থ্য পরিচর্যা ব্যবস্থায় পরিণত করবেন। ভারমন্টের এই নির্দলীয় সিনেটর এই সেদিন পর্যন্ত ডেমোক্রেটিক দলের কেউ ছিলেন না বরং দলটিকে আদর্শগতভাবে দেউলিয়া বলে অভিহিত করতেন। পরে ডেমোক্রেট দলে ভিড়ে মনোনয়নপ্রত্যাশী হয়েছেন।

মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় আরও ৬ জন প্রার্থী ছিলেন। তাদের মধ্যে লিংকন শাফি, লরেন্স লেসিগ, মার্টিন ও ম্যানি এবং জিমওয়েব বাদ পড়ে গেছেন। অপরদিকে জোসেফ, আর বাইদেন জুনিয়র ও এলিজাবেথ ওয়াবেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না।

২০০৮ সালের নির্বাচনে ওবামা যেমন ছিলেন তেমনি এবার বার্নি স্যান্ডার্স অনেক বেশি প্রগতিশীল ও বিশ্বাসযোগ্য প্রার্থী হিসেবে পরিগণিত। তৃণমূল পর্যায়ে তার বিপুল জনসমর্থন আছে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ৫৯ শতাংশ মার্কিন ভোটার মনে করে হিলারি সৎ ও বিশ্বাসযোগ্য নন। ৫১ শতাংশ আমেরিকানের হিলারি সম্পর্কে প্রতিকূল ধারণা আছে। অন্যদিকে স্যান্ডার্সের রয়েছে এক ইতিবাচক রেটিং।

ওদিকে রিপাবলিকান দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে এখনও দোর্দ- প্রতাপে এগিয়ে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী টেড ক্রুজ। এ দু’জন ছাড়াও আছেন বেন কাসেন, ক্রিস ক্রিস্টি, টেড ক্রুজ, কার্লি ফিয়োরিনা, জিম গিলমোর, জন ক্যাশিচ, মার্কো রুবিও, লিন্ডসে গ্রাহাম, মাইক হুকাবি, ববি জিন্দাল, জর্জ পাটাকি, রিক পেরী, রিক স্যান্টোরাম, স্কট ওয়াকার, মিট রমনি। র‌্যান্ড পল ইতোমধ্যে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী ট্রাম্প সারাদেশের ৩১ শতাংশ ভোটার সমর্থন নিয়ে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আছেন। ২২ শতাংশ সমর্থন নিয়ে আছেন টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ। তৃতীয় স্থানে আছে ফ্লোরিডার সিনেটর মার্কো রুবিও। তার সমর্থন ১৯ শতাংশ। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে ট্রাম্পকে ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। কিন্তু এখনই চূড়ান্ত কথা বলার সময় আসেনি। কারণ প্রাইমারীতে এখনও দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়া বাকি এবং এর মধ্যে নানান উত্থান পতন ঘটতে পারে। পেছনে পড়ে থাকলেও সবাইকে ছাড়িয়ে সামনে চলে আসতে পারেন রুবিও। ট্রাম্পের পূর্বেকার কোন রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও তিনি ইতোমধ্যে একজন ক্যারিশমেটিক সেলিব্রেটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। বিভিন্ন মন্তব্যের দ্বারা মুসলমানবিদ্বেষী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তার সবচেয়ে বড় ভক্ত অনুরাগী হলো সর্বাধিক নৈরাশ্যবাদী আমেরিকান, শ্রমিক শ্রেণীর শ্বেতাঙ্গ লোকজন। রিগ্যান যুগের কথামালার প্রতিধ্বনিত করে তিনি আমেরিকাকে আবার মহান রাষ্ট্রে পরিণত করতে চান, ১ কোটি ১০ লাখ বেআইনী অভিবাসী ও তাদের সন্তান-সন্ততিকে বের করে দিতে চান এবং মুসলমানদের আমেরিকা প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে চান।

টেড ক্রুজের লক্ষ্য হলো রিপাবলিকান কোয়ালিশনের আর্থিক দিক দিয়ে সবচেয়ে রক্ষণশীল অংশের সঙ্গে ইভানজেলিকাল খ্রীস্টানদের ঐক্য ঘটানো। তিনি অভ্যন্তরীণ রেভিনিউ সার্ভিস তুলে দিতে, আয়ের ওপর ১০ শতাংশ ফ্ল্যাট ট্যাক্স বসাতে চান। অপরদিকে রুবিও লাখ লাখ বেআইনী অভিবাসীকে বৈধ বা আইনসম্মত মর্যাদা দিতে চান।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য মূল লড়াইটা হবে এই তিনজনের মধ্যে। আর ডেমোক্রেটিক দলের সেই লড়াইটা হবে হিলারি আর স্যান্ডার্সের মধ্যে। এখন দেখা যাক এই দুই দলের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে কাকে বেছে নেয়া হয়।

প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

১০/০২/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: