২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বাংলাদেশের আয়েশি জয়


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ এসএ গেমস মহিলা ফুটবলে এবারের আসরে প্রথম ম্যাচে নেপালের কাছে অপ্রত্যাশিত হারে হিসেবনিকেশ পাল্টে যায় অনেকটাই। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা দল পড়ে যায় চাপে। সেই চাপ কিছুটা হলেও সামাল দেয়া গেছে দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে। শিলংয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত মঙ্গলবার নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে মালদ্বীপকে হারিয়ে তাম্রপদক জেতা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। খেলায় বাংলাদেশ জয় লাভ করে ২-০ গোলে। গোল করেন সাবিনা খাতুন ও মারজিয়া।

এ নিয়ে ৩ খেলায় ২ জয় ও ১ হারে ৬ পয়েন্ট নিয়েছে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ। এক ম্যাচ কম খেলে ও সমান পয়েন্ট নিয়ে নেপাল আছে এক নম্বরে। ফাইনালে যেতে হলে এই ম্যাচে জেতা বা ড্রর কোন বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের। হেরে গেলে ফাইনালে যাওয়ার আশা অনেকটাই শেষ হয়ে যেত গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যাদের। তবে ফাইনালে যাওয়ার আশা এখনও ভালভাবেই জিইয়ে রেখেছে কৃষ্ণা-সাবিনারা। অন্তত তাম্রপদক জেতাটা নিশ্চিত করল তারা। এবার ছোটনের শিষ্যাদের লক্ষ্য থাকবে স্বর্ণ বা রৌপ্যপদক করায়ত্তের। বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে। শেষ ম্যাচে জিতলে নিশ্চিতভাবেই ফাইনালে চলে যাবে বাংলাদেশ।

মালদ্বীপকে সমীহ করেই মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। কেননা নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপ ২০১০ সালের সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন ও স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে। গত আসরে নেপাল রানার্সআপ হিসেবে রৌপ্য এবং তৃতীয় হয়ে তাম্রপদক জিতেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। কিন্তু এবার মালদ্বীপের মেয়েরা যেভাবে শুরু করে তাতে করে লড়াইটা সহজ হবে না বলেই ধারণা করা হয়েছিল। এবার ৫ দলের এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শেষ গ্রুপ ম্যাচের প্রতিপক্ষ ভারত। সেরা দুটি দল উঠবে ফাইনালে। আর প্রাথমিক রাউন্ড শেষে তিন নম্বর অবস্থানে থাকা দল জিতবে তাম্রপদক।

প্রথম ম্যাচে নেপালের কাছে ০-৩ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে জিতলে ছয় বছর আগে হারের প্রতিশোধটা কড়ায়-গ-ায় নিতে পারত বাংলাদেশ মহিলা দল। কিন্তু তা আর হয়নি। দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারায় ২-১ গোলে। এসএ গেমসের জন্য এই দলটি নিজেদের তৈরি করছে গত নবেম্বর থেকে। এর মাঝেই দলের বেশ কিছু ফুটবলার অংশ নিয়েছিল নেপালে অনুষ্ঠিতব্য এএফসির আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপে। এছাড়াও দলটির অনেক সদস্যরই আছে এএফসি অনুর্ধ ১৬ বাছাই খেলার অভিজ্ঞতা।

বাংলাদেশ দল এখন আর আগের মতো দুর্বল ও ভঙ্গুর দল নয়। এখন তারা আর যাই হোক, হারার আগেই মানসিকভাবে হেরে বসে না। লড়াই করে। গড়ে তোলে কঠিন প্রতিরোধ। তাদের খেলার মান এখন আগের চেয়ে অনেক উন্নত। আশা জাগিয়েও মহিলা ফুটবল দলের শুরুটা হয় তিক্ত পরাজয় দিয়ে। এসএ গেমস মহিলা ফুটবলে নিজেদের উদ্বোধনী খেলায় তারা নেপালের কাছে হেরে শুরুতেই হোঁচট খায়। গোলরক্ষক সাবিনা খাতুনের ‘শিশুসুলভ’ ভুল, রক্ষণভাগের অমার্জনীয় ব্যর্থতা এবং ফরোয়ার্ডদের উপর্যুপরি গোলপ্রচেষ্টা নষ্ট করার খেসারত বাংলাদেশ দেয় হেরে। এই হারের পেছনে ম্যাচের পরিবর্তিত সময়সূচী অনেকটাই দায়ী! আফগানিস্তান না থাকাতে টুর্নামেন্টের ফরমেটেও আসে পরিবর্তন। এবার খেলা হচ্ছে লীগ পদ্ধতিতে (মোট দল ৫টি)। সিঙ্গেল লীগ হওয়ার পর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দল খেলবে ফাইনালে। ফলে সেমিফাইনাল বলে কিছু থাকছে না। উদীয়মান শক্তির বাংলাদেশকে বেকায়দায় ফেলতে হঠাৎই সূচীতে পরিবর্তন আনে আয়োজক ভারত। পূর্বের সূচী অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ছিল ৯ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু সূচীতে পরিবর্তন হওয়াতে ৫ ফেব্রুয়ারিতেই প্রথম ম্যাচটা খেলতে হয় তাদের। ৯ তারিখের কথা ভেবে বাংলাদেশ দলের ভারত যাওয়ার কথা ছিল ৪ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু তারিখ এগিয়ে আসাতে বিপাকে পড়ে যায় দল। কেননা ৪ তারিখ ঢাকা থেকে রওনা হয়ে পরের দিন সকালেই প্রথম ম্যাচটা খেলতে হবে! তাই আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেয়া এবং ভ্রমণক্লান্তি কাটিয়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেয়ার সেই সুযোগ পাওয়া সম্ভব নয়। এ সঙ্কট উত্তরণে তৎপর হয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে)। তারা বাংলাদেশ অলিম্পিক এ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) কাছে একটি আবেদনপত্র পাঠায়। সেখানে ৪ তারিখের পরিবর্তে একদিন আগে- অর্থাৎ ৩ ফেব্রুয়ারি মহিলা ফুটবল দলকে পাঠানোর জন্য আবেদন করে। সে আবেদনে সাড়া দেয় বিওএ। মহিলা ফুটবল দলের শিলং যাওয়ার জন্য বিশেষ বিমানের ব্যবস্থা করা হয়। অবশ্য একদিন আগে গিয়েও কোন লাভ হয়নি!

নতুন সূচী অনুযায়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোন খেলা সকালে, কোন খেলা দুপুরে, আবার কোনটা সন্ধ্যায়। একেক সময়ে একেক খেলার সময় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ফুটবলপ্রেমীরা। স্বাগতিক ভারত নিজেদের সুবিধার্থে এবং উদীয়মান বাংলাদেশ দলকে বিপাকে ফেলতেই খেলার তারিখ এবং ম্যাচের এমন উদ্ভট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন ফুটবলপ্রেমীরা।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: