২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

মুম্বাই হামলা ॥ আইএসআই জড়িত


২৬/১১ মুম্বাই হামলার অন্যতম মূল হোতা ডেভিড কোলম্যান হেডলি বা দাউদ সাঈদ জিলানীর সাক্ষ্যের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মুম্বাই বিশেষ আদালতকে বলেছেন, জঙ্গী সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বাকে (এলইটি) আর্থিক সহায়তা প্রদান করে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। হেডলির সাক্ষ্য গ্রহণের পর বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর উজ্জ্বল নিকম সাংবাদিকদের বলেন, ডেভিড হেডলি জানিয়েছেন যে, লস্করকে আইএসআই আর্থিক, নৈতিক ও সামরিকভাবে সহায়তা দিয়ে থাকে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ওয়ান ইন্ডিয়ার।

পাক-মার্কিন বংশোদ্ভূত এই লস্কর জঙ্গীকে রাজসাক্ষী ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর একটি জেল থেকে দুদিন ধরে দেয়া জবানবন্দীতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য। সোমবারও হেডলির জবানবন্দী নেয়া হয়। মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তার বয়ান রেকর্ড করা হয়। বিশেষ বিচারক জিএ সানপকে দেয়া জবানবন্দীতে মঙ্গলবার হেডলি বলেন, আমি আইএসআইয়ের পক্ষে কাজ করতাম এবং পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বহু সদস্যের সঙ্গে আমার সাক্ষাত হয়েছে। তবে তিনি তার কাজের জন্য আইএসআই বা লস্করের কাছ থেকে মোটা অর্থ পাওয়ার কথা অস্বীকার করেন। হেডলি বলেন, ২০০৬ সালে আইএসআই কর্মকর্তা মেজর পাশা, এলইটি কার্যনির্বাহক সাজিদ মীর ও অন্যরা মুম্বাইতে হেডলির কর্মপরিকল্পনা আলোচনা করতে সাক্ষাত করেন। এর পর ২০০৭ সালের নবেম্বরে তিনি এলইটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। তখন সেখানে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের মুজাফফরাবাদে প্রস্তাবিত মুম্বাই হামলা নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়। তিনি আরও বলেন, ভারতে সন্ত্রাসী হামলার সম্পূর্ণ দায় এলইটির। ভিডিও কনফারেন্সে হেডলি স্বীকার করেন যে, তিনি এলইটি কমান্ডার হাফিজ সাঈদ ও অপারেশনাল কমান্ডার জাকিউর রহমান লাকভির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। মার্কিন সরকারের এলইটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানাতে হাফিজ সাঈদকে পরামর্শ দিয়েছিলেন হেডলি। তবে তখন লাকভি বলেছিলেন, এটি ভাল একটি পরামর্শ। তবে এতে অনেক সময় লাগবে এবং এ বিষয়ে আইএসআইয়ের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। এলইটির ওপরে আইএসআইয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে হেডলি। ভারতে তথা প্রতিবার মুম্বাই ঘুরে যাওয়ার পর আইএসআইয়ের কাছে গিয়ে আলাদা করে পুরোটা রিপোর্ট করতে হত। সাক্ষ্যে হেডলি বলেন, অপর আইএসআই কর্মকর্তা মেজর ইকবালের সঙ্গে আমার দেখা হয় লাহোরে ২০০৬ সালের প্রথম দিকে। তিনি আমাকে ভারতীয় সেনা সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য তুলে আনতে এবং ভারতীয় সেনায় চর ঢোকানোর ব্যাপারেও আমাকে চেষ্টা করতে বলেছিলন। কীভাবে ভারতীয় সেনা সম্পর্কে তথ্য যোগাড় করতে হবে সে ব্যাপারে আমাকে মেজর ইকবাল বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। এই প্রশিক্ষণের ধরন বেশ বিজ্ঞানসম্মত ছিল। তিনি বলেন, মেজর পাশা এই চক্রান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তিনিই আমাকে ভারতের নানা জায়গার টার্গেটের ছবি তুলতে বলেছিলেন। আমাদের অর্থাৎ এলইটি জঙ্গীদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন তিনি। পরে তিনি আল কায়েদায় যোগ দেন। হেডলি বলেন, আমার স্ত্রী ফৈজা ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে অভিযোগ জানায় আমার নামে। ফৈজা সেখানে জানায়, আমি সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত এবং এলইটির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তিনি বলেন, মুম্বাই ছাড়াও দিল্লী ও ব্যাঙ্গালুরুতে হামলার ছক ছিল আমাদের। মুম্বাইয়ের তাজ হোটেলের ছবি ও ভিডিও আমি মেজর ইকবাল ও সাজিদ মীরকে দিয়েছিলাম। এ ছাড়া কোলাবা পুলিশ স্টেশন, লেওপোল্ড ক্যাফে ও নানা দোকান, হোটেলের ভিডিও আমি তাদের কাছে পাঠিয়েছি। একটি জিপিএস ডিভাইস দিয়ে আমি লোকেশন স্টোর করে দিই। আমাকে সিদ্ধি বিনায়ক মন্দির সার্ভে করতে বলা হয়েছিল। এ ছাড়া কোন কোন জায়গা দিয়ে ভারতে অর্থাৎ মুম্বাইয়ে ঢোকা যেতে পারে তা পর্যবেক্ষণ করি। এ ছাড়া সিএসটি, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ওবেরয় হোটেল, নৌ ও বিমান সেনা ঘাঁটিও আমার পর্যবক্ষণের মধ্যে ছিল। মেজর ইকবাল আমাকে একটি সনি এরিকসন ফোন দিয়েছিলেন এবং জিপিএস ডিভাইসটি দিয়েছিল সাজিদ মীর। ২০০৯ সালে শিকাগো বিমানবন্দরে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে হেডলি। মার্কিন এক ফেডারেল আদালত মুম্বাই হামলায় তার ভূমিকার জন্য ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে দোষী সাব্যস্ত করে এবং তাকে ৩৫ বছরের কারাদ- দেয়। মার্কিন প্রশাসন তাকে ভারতের হাতে তুলে দিতে নারাজ হওয়ায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তার সাক্ষ্য নিতে ১০ ডিসেম্বর আদালত অনুমতি দেয়।