মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৬ আশ্বিন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

জিকা ভাইরাসের বড় কোন ঝুঁকি নেই, সরকার সতর্ক ॥ স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশে জিকা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত বা উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত জিকা ভাইরাসের বড় কোন ঝুঁকিতে নেই। বড় ঝুঁকি না থাকলেও জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় বিভিন্ন ব্যবস্থা ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। আর বিভিন্ন সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংক্রমিত অনেক ধরনের ভাইরাস প্রতিরোধে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সফলতা দেখিয়েছে। দেশে কেউ মশাবাহিত জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সরকার তার চিকিৎসার ভার নেবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। বিভিন্ন দেশে জিকা ভাইরাসের সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরী অবস্থা জারির পরিপ্রেক্ষিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জিকা ভাইরাস মোকাবেলায় উপযোগী ব্যবস্থা নিয়ে সতর্ক রয়েছে সরকার। জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত দেশগুলো থেকে যারা বাংলাদেশে আসছেন তাদের মধ্যে ভাইরাস রয়েছে কি না শনাক্ত করতে আন্তর্জাতিক প্রবেশ পথগুলোতে মেডিক্যাল টিম কাজ করছে।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জিকা ভাইরাস প্রতিরোধে গণসচেতনতা বাড়ানো খুবই দরকার। আমাদের দেশের গণমাধ্যম এসব পরিস্থিতিতে সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। অতীতে ইবোলা ভাইরাস সংক্রমণের ক্ষেত্রেও তারা জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করেছে। এবারও জিকা ভাইরাসের ক্ষেত্রে তারা শুরু থেকেই সোচ্চার।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি সকল গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনারা স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রচার মাধ্যমগুলোতে জিকা ভাইরাস সংক্রান্ত সংবাদ প্রচার করবেন। সঠিক পরিস্থিতি ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা অনুসরণ না করলে অনেক সময় এ জাতীয় সংবাদ ভীতির সঞ্চার করতে পারে। তাই আপনাদের প্রতি অনুরোধ, জিকা ভাইরাসসহ এ জাতীয় অপরিচিত রোগ নিয়ে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে আপনারা আরেকটু দায়িত্বশীল থাকুন যাতে জনমনে আতঙ্ক না ছড়ায়।

জিকা ভাইরাস ঠেকানোর প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক আবুল খায়ের মোঃ শামসুজ্জামান বলেন, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী যেসব ব্যবস্থা নেয়া দরকার, তার সবকিছুই নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সব নৌ, স্থল ও বিমানবন্দরে জিকা ভাইরাসের বিষয়ে ব্যাপক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে কারও দেহে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েনি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ দীন মোঃ নূরুল হক বলেন, জিকার সংক্রমণ হয়েছে এমন দেশ থেকে কেউ যদি বাংলাদেশে প্রবেশ করেন, তাহলে তার প্রবেশস্থল থেকে বাড়ি পর্যন্ত নজরদারির ব্যবস্থা আছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ডিজিটাল পদ্ধতিতে আক্রান্ত দেশ থেকে আগত যাত্রীর জিকা ভাইরাস সংক্রমণ সংক্রান্ত কার্যক্রম মনিটর করার জন্য ওয়েব ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ফলে মশার কামড় থেকে বাঁচার যে উপায়গুলো আছে, সেগুলো মেনে চললেই এই ভাইরাসের আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব? বিষয়টি নিয়ে আইইডিসিআর ও সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান সজাগ রয়েছে বলে জানান ড. মাহমুদুর রহমান। জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে ডেঙ্গুর মতোই লক্ষণ দেখা দেয়। দিনের বেলায় এডিস মশার কামড়ে এ রোগ ছড়ায়। তবে ডেঙ্গুর মতো এ রোগটি তীব্র ও প্রাণঘাতী নয়। চিকিৎসা না করালেও জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগী সাধারণত ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এমনিতেই ভাল হয়ে যায়। ‘জিকা’ নামটি নেয়া হয়েছে উগান্ডার জিকা বন থেকে? ১৯৪৭ সালে বানরের দেহে এই সংক্রামক এজেন্টের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। ১৯৫২ সালে এর নাম দেয়া হয় জিকা ভাইরাস? বর্তমানে এটি দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। উত্তর আমেরিকাতেও ছড়িয়ে পড়ছে। তাই আমাদের দেশেও সতর্ক হওয়া দরকার। জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সাধারণত জ্বর, চামড়ায় লাল ফুসকুড়ি, গোড়ালিতে ব্যথা, চোখ লাল হয়ে যাওয়া- এসব লক্ষণ দেখা দেয়? এ ছাড়া পেশি, মাথায়ও ব্যথা হতে পারে? জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজনের অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে? শিশুদের ‘মাইক্রোসেফালি’ রোগ হওয়ার কারণ জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত গর্ভবতী মা? কিন্তু তার কোন উপসর্গ আগে থেকে দেখা যাবে না। এই রোগ হলে শিশুদের মস্তিষ্কের গঠন ঠিকমতো হয় না। ফলে শিশুর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়া, শারীরিক বৃদ্ধি অস্বাভাবিক বা বিলম্বিত হওয়া থেকে শুরু করে অকালে মারা যাওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যায়? এই রোগের চিকিৎসায় এখনও কোন প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি? ফলে সতর্ক থাকাটাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ? অবশ্য এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা বিরল? প্রতিরোধের মূল মন্ত্রই হলো এডিস মশার বিস্তাররোধ। এই মশা যেন কামড়াতে না পারে তার ব্যবস্থা করা। স্বচ্ছ-পরিষ্কার পানিতে এরা ডিম পাড়ে। ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত ড্রেনের পানি এদের পছন্দসই নয়। তাই এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলোকে পরিষ্কার রাখতে হবে। একই সঙ্গে মশা নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একমাত্র সচেতনতা ও প্রতিরোধের মাধ্যমেই এর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

১০/০২/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: