২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

গ্যাসকূপ খননসহ একনেকে ৮ প্রকল্প অনুমোদন


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ মোবারকপুর তেল বা গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খননসহ আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৮৬৫ কোটি ৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারী তহবিল থেকে ১ হাজার ৫৩৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১ হাজার ৩২৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সীমান্ত এলাকায় বর্ডার হাট বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। এ সময় তিনি বলেন, এই হাটের সংখ্যা বাড়লে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন পণ্য ক্রয় বিক্রয় বাড়বে। এতে উভয় দেশের সীমান্ত এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নত হবে। এছাড়া তিনি নরসিংদীতে বিসিক শিল্প নগরী সম্প্রসারণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া রাজধানীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স নির্মাণের সময় সেখানে পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর জন্য আলাদা বাসস্থান তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, পরিকল্পনা সচিব তারিকুল ইসলাম, আইএমইডি সচিব সহিদ উল্লা খন্দকার এবং তথ্য ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কানিজ ফাতেমা।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় চূড়ান্ত হিসাবে ’১৪-১৫ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১৬ মার্কিন ডলারে যা প্রাথমিক হিসাবে ছিল ১ হাজার ৩১৪ মার্কিন ডলার।

তিনি আরও জানান, নরসিংদী বিসিক শিল্পনগরী সম্প্রসারণ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমন্বিত অবকাঠামোগত সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট স্থানে শিল্প স্থাপনের জন্য শিল্পোদ্যোক্তদের উৎসাহিতকরণ, জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান বৃদ্ধিকরণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিকরণ এবং সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ও পরিবেশ দূষণ হ্রাসপূর্বক শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে শিল্পায়ন ত্বরান্বিতকরণ করা হবে।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে, পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প, এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৮১৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পাঁচপীর বাজার চিলমারী উপজেলা সদর দফতরের সঙ্গে সংযোগকারী সড়কে তিস্তা নদীর ওপর ১৪৯০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ প্রকল্প, এর ব্যয় ৭৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। জাতীয় প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট এবং রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগার স্থাপন প্রকল্প, এর ব্যয় ৪২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আন্তঃজেলা সীমান্ত সড়ক নির্মাণ; ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলা অংশ প্রকল্প, এর ব্যয় ৪৫৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প, এর ব্যয় ১০২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। মোবারকপুর তেল/গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্প, এর ব্যয় ৮৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। নরসিংদী বিসিক শিল্পনগরী সম্প্রসারণ প্রকল্প, এর ব্যয় ৭৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ভোলা জেলার দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলায় মেঘনা নদীর ভাঙ্গন হতে পোল্ডার/৫৬/৫৭ রক্ষা প্রকল্প, এর ব্যয় ৫৫১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

প্রকল্পের বিস্তারিত হচ্ছে, মোবারকপুরের গ্যাস উত্তোলনের জন্য ২০০৪-০৫ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পে একটি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ঐ সময় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসাবে ২০০৬ সালের ৬ জুন একনেক বৈঠকে ৫৬ কোটি ৪০ লাখ টাকার ‘মোবারকপুর অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্প’ নামে অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পে শর্তানুসারে, কূপ খননের আগে গ্যাস পাওয়ার বিষয়ে ভূ-তাত্ত্বিক দ্বি-মাত্রিক (টু-ডি) জরিপের ফল ভাল হলেই অনুসন্ধান করার অনুমতি পাওয়া যাবে। পরে ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সেখানে ১৬০ দশমিক ৩৮ কিলোমিটার লাইন জরিপ করা হয় এবং ডিসেম্বর মাসে এর ফলাফল প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। দ্বিমাত্রিক জরিপের তথ্য-উপাত্ত থেকে বাপেক্স সেখানে গ্যাসের অস্তিত্বের ব্যাপারে আবারও আশাবাদী হয়। কিন্তু পরবর্তীকালে এই প্রকল্পটির কাজের কোন অগ্রগতি দেখা যায়নি। এরপর ২০১২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে ৮৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা অর্থায়নে ঐ প্রকল্পটি আবার অনুমোদন দেয়া হয়। পরে বাপেক্স কারিগরি কারণ দেখিয়ে মোবারকপুর থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সাঁথিয়া উপজেলার পাগলাদহ, চ-িপুর ও বিষ্ণুবাড়ীয়া মৌজায় প্রায় নয় একর জমি ২০১০ সালে দুই বছরের জন্য ইজারা নিয়ে নতুন করে সেখানে প্রকল্পটি স্থানান্তর করে। অবকাঠামো নির্মাণের পর প্রায় দু’বছর পেরিয়ে গেলেও ‘রিগ’ না পাওয়ায় নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এ কূপ খনন শুরু করা যায়নি। এরপর ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রিগ বসানোর কাজ শুরু হয় এবং মে মাসে শেষ হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: