১৬ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

মালয়েশিয়ায় আড়াই লাখ অবৈধ বাংলাদেশী বৈধতার সুযোগ পাচ্ছে


মালয়েশিয়ায় আড়াই লাখ অবৈধ বাংলাদেশী বৈধতার সুযোগ পাচ্ছে

ফিরোজ মান্না ॥ দ্বিতীয় বারের মতো মালয়েশিয়া সরকার অবৈধ কর্মীদের বৈধ হওয়ার জন্য নিবন্ধনের সুযোগ দিয়েছে। বিভিন্ন দেশের ২০ লাখ অনিবন্ধিত কর্মী এই প্রক্রিয়ায় বৈধতা পাবেন। এর মধ্যে বাংলাদেশের ২ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি অবৈধ কর্মী রয়েছেন। এ দফায় কোন কর্মী নিবন্ধন না করলে-তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অনিবন্ধিত কর্মীদের বৈধকরণের প্রক্রিয়া শুরু হবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি। চলবে টানা তিন মাস। অনলাইনে কর্মীদের নিবন্ধন করতে হবে। কোন প্রকার দালাল এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে না। গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানী পুত্রজায়ায় মন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাহিদ হামিদি এই ঘোষণা দেন।

সূত্র জানিয়েছে, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাহিদ হামিদি ঘোষণা করেন, পুরো মালয়েশিয়াতেই নিবন্ধনের কাজ চলবে। তবে সাবাহ ও সারওয়াক প্রাদেশিক সরকার নিজেরা এই অনলাইন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করবে। দালাল ছাড়াই অনলাইনে নিবন্ধিত হতে পারবেন কর্মীরা। মালিকরা আমাদের কাছে অভিযোগ করেছেন, কর্মীদের নিবন্ধনের জন্য এজেন্টদের অর্থ দিলে, তারা নিবন্ধন না করে অর্থ নিয়ে ভেগে যায়। এ কারণেই অনলাইনে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে মালিকরা আবেদন করলে তাদের কোন পেনাল্টি চার্জ দিতে হবে না। আমরা তিন মাস এর কার্যকারিতা দেখব। এরপর সময় বাড়ানোর প্রয়োজন হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই ঘোষণা দেবে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কর্মীদের নিবন্ধন না করালে ওই মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে কর্মরত বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ২০ লাখ কর্মী বৈধতা দেয়ার পর দেশটিতে কর্মীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছেন। অনেক কর্মী দিনের বেলায় বিভিন্ন কারখানায় কাজ করে রাতে পুলিশের ভয়ে জঙ্গলে থাকেন। তারা এখন আশায় আলো দেখতে পাচ্ছেন। অচিরেই তারা বৈধতা নিয়ে কাজ করতে পারবেন। তখন আর তাদের পালিয়ে থাকতে হবে না। তবে নিবন্ধন ফি নিয়ে অনেক কর্মী আপত্তি তুলেছেন। তারা বলেছেন, গত বছর এক হাজার ২৫০ রিঙ্গিত নিবন্ধন ফি ছিল। এবার নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে দুই হাজার ৫০০ রিঙ্গিত। এত টাকা দিয়ে অনেক কর্মী নিবন্ধন করতে পারবেন কিনা সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

জানা গেছে, দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে ২০ লাখ অনিবন্ধিত বিদেশী কর্মী রয়েছেন। বেশিরভাগ মালিকই চান এসব কর্মী কাজ করুক। মালিকদের এই চাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অবৈধ কর্মীদের কোন এজেন্ট ছাড়াই নিজেদের কর্মীদের নিবন্ধন করতে পারবেন। দালালদের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে নতুন এই অনলাইন পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। আগে দালালরা কর্মীদের অর্থ হাতিয়ে পালিয়ে যেত। ফলে নিবন্ধিত কর্মীর সংখ্যা না বাড়ায় সরকার কর আদায় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিদেশী কর্মীদের ওপর মালয়েশিয়া সরকারের নতুন নির্ধারিত কর নিয়ে যখন আলোচনা-সমালোচনা, তখনই এ ঘোষণা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা উপ-প্রধানমন্ত্রী আহমদ জাহিদ হামিদি।

এদিকে, নতুন করে নিবন্ধনের ঘোষণার আগে পুলিশী প্রতিদিন অভিযান চালিয়েছে। অবৈধ হাজার হাজার কর্মী পুলিশের ভয়ে জঙ্গলে রাত কাটিয়েছেন। দিনের বেলায় মালিক তাদের দিয়ে কাজ করালেও রাতে তাদের আর কারখানা বা কারখানা এলাকার মধ্যে থাকতে দিতেন না। এ কারণে তাদের জঙ্গলই ছিল আশ্রয় স্থল। অবৈধ অভিবাসীদের আটক করতে পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম কাজ করছিল। অবৈধ কর্মীদের সেখানে দেখা যাবে সেখান থেকেই তাদের আটক করার সিদ্ধান্ত ছিল। হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট, বাজার, মহাসড়ক, দোকান এবং জনসাধারণের চলাচল আছে এমন সব জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। পুলিশের বিশেষ টিমগুলো বিদেশী কর্মীদের থাকার জায়াগাগুলোতেও ‘রেইড’ দিয়ে কর্মীদের পারমিট এবং কর্মস্থলের বৈধতা আছে কিনা তাও যাচাই বাছাই করছিল। অভিযান চলাকালে বৈধ কাগজপত্রে লেখা পেশা এবং নিজ কর্মস্থল ছাড়া অন্য জায়গায় কর্মরত শ্রমিকদের অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এমনকি বাইরে কাজ করতে দেয়ার অপরাধে মালিককেও জরিমানা করা হতে পারে। মালয়েশিয়ার কিছু কোম্পানির মালিক বাংলাদেশের কর্মীদের সস্তায় কাজ করাতে পারে বলে তাদের রেখে দিয়েছে। এই কর্মীদের জন্য কারখানা প্রাঙ্গণের ভেতরেই থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা কখন বাইরে বেড় হতে পারে না। এর আগে পুলিশ রেইড দিয়ে অনেক কর্মীকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়ে দিয়েছে। পরে মালিকদের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার বিভিন্ন দেশের ২০ লাখ কর্মীকে নিন্ধদিত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। এ ঘোষণার পর থেকে পুলিশী অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় প্রায় ২ লাখ ৬৮ হাজার অবৈধ বাংলাদেশী রয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে এসব কর্মীদের বৈধ হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এবারই শেষ সুযোগ বলে মালয়েশিয়া সরকার জানিয়ে দিয়েছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: