১৮ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

গলাচিপায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ


স্টাফ রিপোর্টার, গলাচিপা ॥ পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা শহরের পশ্চিম রামনাবাদ নদীর তীর দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানের প্রথম দিনে সোমবার অন্তত ৩০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযান মঙ্গলবারও চলবে। পুলিশের সহায়তায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছেন। হাইকোর্টের আদেশের প্রেক্ষিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে বলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি ২০০৯-১০ সালে সরকারী ত্রাণ দফতরের টেস্ট রিলিফ ও কাবিখা কর্মসূচীর ২৯ লাখ টাকা মূল্যের ১শ’ ৪৫ মেট্রিক টন চাল ব্যয় করে রামনাবাদ নদীর পূর্ব পাড়ে বালি দিয়ে প্রায় সাড়ে আট একর জমি ভরাট করেন। নদীর তীরে তিনি পাকা দেয়ালও নির্মাণ করেন। এখানে তিনি মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেন। নদী দখল করে পাড় ভরাট ও মার্কেট নির্মাণ উদ্যোগের ঘটনায় সে সময়ে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে ওই সময়ে পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা হাইকোর্টে একটি রিট মামলা দায়ের করে। ২০১০ সালের ৯ জুন বিচারপতি এবিএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ রিট মামলার রায়ে রামনাবাদ নদীর তীর ভরাট করা ও সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করাকে অবৈধ ঘোষণা করেন এবং রায়ের আদেশ প্রাপ্তির ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে সকল স্থাপনা অপসারণ করে নদী পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য নৌ মন্ত্রণালয়কে আদেশ দেন।

কাজী সায়েমুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দিন কয়েক আগে অবৈধ স্থাপনা নিজ নিজ দায়িত্বে অপসারণের জন্য মাইকিং করা হয়েছিল। অনেকেই সরিয়ে নিয়েছে। তারপরেও সোমবার দিনভর অভিযান চালিয়ে অন্তত ৩০ টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

উচ্ছেদ করা মালামাল জব্দ করা হয়েছে এবং তা প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করা হবে। তিনি আরও জানান, নদীর ভরাট করা অংশের প্রায় পুরোটাই ইট-বালি ব্যবসায়ীরা দখল করে নিয়েছে। তাদেরও নিজ দায়িত্বে মালামাল অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যথায় তাও উচ্ছেদ ও জব্দ করা হবে।

অবৈধ দখলদাররা ইট বালি অপসারণ করলেই নদী পূর্বাবস্থায় ফিরে আসবে। এদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, নদীর ভরাট করা পাড়ের কাছাকাছি স্থানে স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষ স্টল নির্মাণ করে ইট বালি ব্যবসায়ীদের কাছে স্থায়ী ভাড়া দিয়েছে। সে সব অবৈধ ভাড়াটেদেরও উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর মধ্যে দিয়ে স্টল অবমুক্ত করা হয়েছে এবং সাধারণের ব্যবহারের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: