২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

পুলিশের তদন্ত রিপোর্ট দৃশ্যমানের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির


শংকর কুমার দে ॥ পুুলিশের তদন্ত কমিটির অধিকাংশ তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখে না। বাস্তবায়ন হয় না তদন্ত কমিটির সুপারিশ। তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে যথাযথ শাস্তিও দৃশ্যমান হয় না। পুলিশ কোন অপরাধ করলেই ঢাকঢোল পিটিয়ে তদন্ত কমিটি করা হয়। এ কারণেই আলোচিত সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার প্রেক্ষাপটে অপরাধের সঙ্গে জড়িত পুলিশের শাস্তি দৃশ্যমান করার সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে চায়ের চুলায় ফেলে চা দোকানি বাবুল মাতব্বর হত্যার অভিযোগে শাহআলী থানার ওসিসহ পাঁচ পুুলিশকে অভিযুক্ত করেছে পুলিশের তদন্ত কমিটি। আর সেই বিষয়টি তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনা ঘটার চার ঘণ্টার মধ্যে বুধবার মধ্যরাতে অনেকটা তড়িঘড়ি করেই স্থানীয় কয়েক মাদক বিক্রেতাকে আসামি করে একটি মামলা নেয় শাহ আলী থানা, যাতে পুলিশের কাউকে আসামি করা হয়নি। এর আগে গত জানুয়ারিতে এক সপ্তাহের মধ্যে রাজধানীতে পুলিশের হাতে এক ব্যাংক কর্মকর্তা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) এক পরিদর্শককে নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে গঠিত হয় তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় পুলিশ সদর দফতর ও ডিএমপি।

গত ৯ জানুয়ারি রাতে মোহাম্মদপুরে পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ শিকদারসহ তিন পুলিশ সদস্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা গোলাম রাব্বীকে বেধড়ক মারধর, হয়রানি ও ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের চেষ্টা করে। ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে পরদিনই অভিযুক্ত এসআইকে ক্লোজ করে তেজগাঁও উপ-কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। এরপর এসআই মাসুদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা গোলাম রাব্বীকে পুলিশী নির্যাতনের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির সদস্য ডিএমপির মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার হাফিজ আল ফারুক ডিসি তেজগাঁও কার্যালয়ে শেষ প্রতিবেদন জমা দেন। তারপর ওই প্রতিবেদন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রতিবেদন নিয়ে মুখ খোলেননি পুলিশের কোন কর্মকর্তা। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিলের আগেই আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে দায়ী পুলিশের এসআই মাসুদকে সাসপেন্ড করা হয়। কিন্তু দায়ী পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের নিয়ে ঘটনাটি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। তারপর আর পুলিশের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনটি নিয়ে আর কোন উচ্চবাচ্য হয়নি, ধামাচাপা পড়ে গেছে। এ ঘটনার পাঁচ দিন পর যাত্রাবাড়ীর মীরহাজীর বাগ এলাকায় ডিএসসিসি পরিদর্শক (পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন) বিকাশ চন্দ্র সাহাকে যাত্রাবাড়ী থানার এসআই আরশাদ হোসেন আকাশ মারধর করেন। ঘটনাটি তদন্তের জন্য পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (আইসিটি) হারুন-অর রশীদের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য হচ্ছেন পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত এআইজি মিজানুর রহমান ও পরিদর্শক মোঃ সালাহউদ্দিন। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা রাব্বি ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তা বিকাশকে এতই নির্যাতন করা হয় যে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন বিছানায় ভয়ে আতঙ্কে প্রলাপ বকেছেন। তদন্ত কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। কিন্তু সেই তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি, দৃশ্যমান হয়নি যথাযথ শাস্তিও। গত ৩ জানুয়ারি রাতে শাহ আলী থানাধীন মিরপুর-১ বেড়িবাঁধ কিংশুক সমিতির গেটের সামনে চাঁদা না পেয়ে পুলিশ বাবুলের দোকানের কেরোসিনের চুলায় লাঠি দিয়ে আঘাত করার পর ছিটকে পড়া কেরোসিনে দগ্ধ হয়ে পরের দিন ৪ জানুয়ারি মারা যান চা দোকানি বাবুল। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা না নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।