১৫ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ম্যাককুলামকে কিউইদের উপহার


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ কেন উইলিয়ামসন আগেই বলেছিলেন, বিদায় বেলায় ব্রেন্ডন ম্যাককুলামকে তারা দারুণ কিছু উপহার দিতে চান। চাওয়াটাকে বাস্তবে রূপ দিল কিউইরা। হ্যামিল্টনের তৃতীয় ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের উড়িয়ে দিয়ে স্বাগতিকরা জিতল ৫৫ রানে। সেই সঙ্গে ২-১এ সিরিজ জিতে জীবনের শেষ ওয়ানডেতে ম্যাককুলামকে ‘চ্যাপেল-হ্যাডলি’ ট্রফি উপহার দিলেন মার্টিন গাপটিল-গ্র্যান্ট ইলিয়টরা। চমৎকার ঘূর্ণি বলে আলোচিত ম্যাচের ‘নায়ক’ ইশ সোধি। বোলারদের দাপটের দিনে ৪৫.৩ ওভারে ২৪৬Ñএ অলআউট ব্ল্যাক ক্যাপসরা ৪৩.৪ ওভারে প্রতিপক্ষকে গুড়িয়ে দেয় ১৯১ রানে! স্টিভেন স্মিথ ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকট তুলে নেয়ার পাশাপাশি ৮ ওভারে মাত্র ৩১ রান দিয়ে ম্যাচসেরা সোধি।

ক্যারিয়ারের শেষ ওয়ানডেতে জয়, জয় ‘চ্যাপেল-হ্যাডলি’ ট্রফি; সঙ্গে বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রতিশোধÑ রঙিন পোশাকের ক্রিকেটকে বিদায়ের জন্য এর চেয়ে ভাল মঞ্চ আর হতে পারত না। বিদায়ী ম্যাচে সতীর্থদের কাছ থেকে দারুণ উপহারই পেলেন ম্যাককুলাম। মজার বিষয়, জীবনের শেষ পঞ্চাশ ওভারের ম্যাচে ব্যাট হাতেও সেডন পার্কের দর্শকদের মাতিয়েছেন আধুনিক নিউজিল্যান্ডের ভয়ঙ্কর এই ব্যাটসম্যান। ২৭ বলে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় খেলেছেন ৪৭ রানের টর্নেডো ইনিংস। ওয়ানডে ইতিহাসের মাত্র চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে নিজের শেষ ম্যাচে ২শ’ ছক্কা হাঁকানোর অনন্য নজির স্থাপন করেন ৩৪ বছর বয়সী উইলোবাজ। হাফসেঞ্চুরি পেয়েছেন ফর্মের তুঙ্গে থাকা ওপেনার গাপটিল (৫৯), আর ইলিয়ট (৫০)। তারপরও বাকি ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় আড়াই শ’র নিচে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ২৪৬ রানের পুঁজি নিয়ে কিউইদের জন্য জয়টা কঠিনই ছিল।

সেটিই সহজ করে দেন বোলাররা। ওপেনিং জুটিতে উসমান খাজা ও ডেভিড ওয়ার্নার তুলে ফেলেছিলেন ৩৯ রান। ওয়ার্নার প্রথমে আউট হন ১৬ রানে। ব্যক্তিগত ৪৪ রানে খাজা যখন ফেরেন অস্ট্রেলিয়ার রান তখন ৭৫। এক ওভারের মধ্যে বড় ভরসা স্মিথ (২১) এবং ‘ড্যাশিং’ গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে (০) ফিরিয়ে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন সোধি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো অসিরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। জর্জ বেইলি (৩৩) আর মিচেল মার্শ (৪১) ক্ষণিকের জন্য কিছুটা আশার সঞ্চার করেছিলেন। কিন্তু থিতু হওয়ার পরই এই দুই ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফিরিয়ে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখেন কোরি এ্যান্ডারসন-ম্যাট হেনরিরা। কিউই বোলারদের দুরন্ত বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার অনেক দূরে থামতে বাধ্য হয় অস্ট্রেলিয়া। ৪৩.৪ ওভারে ১৯১ রানে গুটিয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ইনিংস।

স্বাগতিকদের হয়ে সবচেয়ে সফল পেসার ম্যাট হেনরি ৬০ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। দুটি করে শিকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এ্যান্ডারসন ও সোধির। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজে জয়ের স্বাদ পেল নিউজিল্যান্ড।

তুখোড় ম্যাককুলামের বিদায়ী পা-ুলিপিটা এর চেয়ে ভাল আর কী হতে পারত! জয় দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় জানানো কিউই সেনাপতি বলেন, ‘আমি খুব ভাগ্যবান যে ১৪ বছর নিউজিল্যান্ডের জার্সিতে খেলার সুযোগ হয়েছে। দীর্ঘ এ সময়ে অনেক ভাল বন্ধু পেয়েছি। ভালবাসা ও সমর্থনের জন্য ভক্তদের ধন্যবাদ। অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে খেলে বিদায় নেয়ার স্মৃতিটা কোনদিনই ভুলতে পারব না।’ দুই ম্যাচের টেস্ট খেলে সব ধরনের ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন ম্যাককুলাম। ওয়েলিংটনে শুক্রবার শুরু প্রথম টেস্ট।