১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

তিন বিচারপতির শপথ-আপীল বিভাগের দুটি বেঞ্চ পুনর্গঠন


স্টাফ রিপোর্টার ॥ সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্ত তিন বিচারপতি শপথ নিয়েছেন। সোমবার সকাল দশটায় সুপ্রীমকোর্টের মূল ভবনের জাজেস লাউঞ্জে শপথ অনুষ্ঠান হয়। শপথ গ্রহণকারী তিন বিচারপতি হলেন- বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান। নবনিযুক্ত বিচারপতিদের শপথ পাঠ করান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। শপথ নেয়ার পরে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের দুটি বেঞ্চ পুনর্গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে আপীল বিভাগের নতুন তিন বিচারপতিকে সংবর্ধনা দিয়েছে এ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতি।

সোমবার সকাল দশটায় সুপ্রীমকোর্টের মূল ভবনের জাজেস লাউঞ্জে তিন বিচারপতিকে শপথ পাঠ করান প্রধান বিচারপতি। শপথ বাক্য অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্রীমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। সংবিধানের ৯৫ (১) ধারার ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমানকে আপীল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে রবিবার নিয়োগ দেন। এ বিষয়ে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে।

সংবর্ধনা ॥ সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের নতুন তিন বিচারপতিকে সংবর্ধনা দিয়েছে এ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতি। সোমবার বেলা সাড়ে এগারোটার পর আপীল বিভাগের ১ নম্বর কোর্টে নবনিযুক্ত বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমানের সংবর্ধনা হয়।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, আপীল বিভাগের সকল বিচারপতি ও আইনজীবী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের পক্ষে এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষে সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বক্তব্য রাখেন।

মাহবুবে আলম বলেন, ২০০১ সালে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান হাইকোর্ট বিভাগের অস্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। কিন্তু ২০০৩ সালে প্রধান বিচারপতির পরামর্শ থাকার পরেও তাদের স্থায়ী করা হয়নি। সেই অবিচারের সমাপ্তি হলো আজ। তিনি বলেন, সে সময় যদি তাদের স্থায়ী করা হতো তাহলে আজ জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের প্রশ্ন আসত না। তারাই জ্যেষ্ঠ বিচারপতি থাকতেন। অন্যদিকে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ক্ষোভ নিয়ে সংবর্ধনায় এসেছি। বিচারপতিদের নিয়ে আমাদের কোন ক্ষোভ নেই। ক্ষোভ রয়েছে সরকারের প্রতি। বিচারপতি নিয়োগে কোন নীতিমালা না থাকায় জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করা হয়েছে। যদি নীতিমালা থাকত, তাহলে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন হতো না, জনমনেও কোন প্রশ্ন উঠত না।

বেঞ্চ পুনর্গঠন ॥ নতুন তিন বিচারকের শপথ গ্রহণের পর সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের দুটি বেঞ্চ পুনর্গঠন করা হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) সাব্বির ফয়েজ জানান, প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চে রয়েছেন পাঁচ বিচারক। আর বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞার বেঞ্চে সদস্য হিসেবে আছেন চারজন। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান। আর বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের বাকি তিন সদস্য হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি মোঃ ইমান আলী ও বিচারপতি মোঃ নিজামুল হক।