১৫ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ২ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ


স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ স্বামীর হত্যাকারী সাজাতে অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঘটনার শিকার তাসনীম খাদিজা সোনিয়া নামে এক নারী। সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ আনেন এই নারী।

কান্নাজড়িত কন্ঠে সোনিয়া জানান, আমার স্বামী যখন খুন হন, তখন আমি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। হত্যাকা-ের পর আমি চট্টগ্রামে বাবার বাসায় চলে আসি। প্রথমে নগর গোয়েন্দা পুলিশের দারোগা দীপক কুমার বসু আমার বাবার বাসায় আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে গ্রেফতার করে আমাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। রিমান্ডে আমার উপর শারীরিক ও মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হয়, যাতে আমি স্বীকার করি যে, রুবেল নামে আমার এক সহপাঠীর সঙ্গে আমার প্রেমের সর্ম্পক আছে। হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকারোক্তি দিতেও আমাকে নির্যাতন করা হয়।

সোনিয়ার স্বামী চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার খাজা রোডের মোহাম্মদ হাসানের ছেলে মোঃ ওবায়দুল হক (৩৬) চাকরিসূত্রে স্ত্রীসহ ঢাকায় থাকতেন। গত বছরের ২৬ জুন ঢাকার কলাবাগান থানার নর্থ সার্কুলার রোডে তিনি আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। ওই ঘটনায় পুলিশ তাকে তার বাবার বাসা থেকে গ্রেফতার করে। দুইমাস হাজত খেটে পরে তিনি জামিনে বের হন। সন্তান প্রসবের এক মাস পর সোমবার স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।

সংবাদ সম্মেলনে সোনিয়া আরও জানান, ওবায়দুলের মৃত্যুর পর তার বড় ভাই শেখ আহম্মদ এবং ফুপাতো ভাই নেছার আহমেদ সোনিয়াদের বাসায় গিয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট করে ফেলার জন্য চাপ দেন। ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত করানোর জন্য তার বাবা-মাকে বিভিন্নভাবে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেন।

তিনমাস বয়সের গর্ভের সন্তানকে হত্যার এত আয়োজন কেন! কেন এত জোরজবরদস্তি। এর মূল রহস্যটা কোথায় ? প্রশ্ন রাখেন সোনিয়া।

শ্বশুর বাড়ির লোকদের প্রতি অভিযোগ এনে সোনিয়া বলেন, ওবায়দুলের তিন ভাই তাদেও পৈত্রিক বাড়ি দখল করে রেখেছে। তার নিজের টাকা-পয়সা ছিল, পৈত্রিক সম্পত্তিতে তার ভাগ রয়েছে। সেজন্য তার উত্তরাধিকারকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সোনিয়া বলেন, গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে না পেরে আমার ভাসুর শেখ আহম্মদ ডিবি পুলিশ দিয়ে আমাকে গ্রেফতার করিয়েছেন। তিনি আমার কাবিননামা লুকিয়ে ফেলেছেন। আমার স্বর্ণালঙ্কার, টাকা-পয়সা, ব্যাংকের বই সবকিছু তিনি নিয়ে গেছেন। নিষ্পাপ নবজাতকের দিকে তাকিয়ে হত্যাকা-ের সুষ্ঠু তদন্ত করে ঘটনার সাথে জড়িতদের বের করে শাস্তির দাবি জানান তিনি।

সহপাঠী রুবেলে বিষয়ে সোনিয়া জানান, ডেফোডিল ইউনিভার্সিটিতে এলএলএম ক্লাস করার সময় রুবেল নামে এক ছেলের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। মাঝে মাঝে লেখাপড়ার বিভিন্ন বিষয় আমি তার কাছ থেকে জেনে নিতাম। এর বাইরে আমাদের মধ্যে আর কোন সম্পর্ক ছিলনা। সংবাদ সম্মেলনে সোনিয়ার বাবা-মাসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: