মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০ আশ্বিন ১৪২৪, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

বৈদেশিক সহায়তার পাইপ লাইন কমাতে মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে কমিটি

প্রকাশিত : ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাড়াতে বিশেষ তৎপরতা চলছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর (এডিপি) কাক্সিক্ষত বাস্তবায়ন এবং বৈদেশিক সহায়তার পাইপলাইন কমানোর কৌশল চূড়ান্ত করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এ কমিটি ইতোমধ্যেই প্রস্তাবিত সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। সোমবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ কমিটি গঠন করা হয়। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, পরিকল্পনা সচিব তারিক উল ইসলামসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাড়াতে বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের দেয়া বিভিন্ন সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়ে একটি কমিটি গঠনের পক্ষে মত দেন। ফলে মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে এ কমিটি গঠন করা হয়।

সূত্র জানায়, চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৈদেশিক সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ দশমিক ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকা। দিন দিন বাড়তেই চলছে এই পাইপ লাইন।

উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাড়িয়ে বৈদেশিক প্রতিশ্রুত অর্থের পাইপ লাইন কমিয়ে আনতে ১৬টি কৌশল উপস্থাপন করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। এগুলো হচ্ছে, উন্নয়নসহযোগীদের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন আসার পরপরই অন্তর্বর্তীকালীন প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস গঠন। মধ্য মেয়াদী বাজেট কাঠামোতে (এমটিবিএফ) প্রকল্পের অন্তর্ভুক্তি। প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কাজের ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারের নিজস্ব তহবিলের অর্থে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ প্রদান বা গ্রহণ, যা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরবর্তীতে অনুমোদিত বাজেটের সঙ্গে সমন্বয় যোগ্য হবে। ঋণ অনুমোদন মিশন আসার পরই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা সম্পন্ন করা। বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা সংস্থার খসড়া প্রকল্প দলিল প্রণয়ন। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণতব্য ভূমির পরিমাণ নিরূপণ, ভূমি ব্যবহারে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, ভূমি ব্যবহারের নকশা প্রণয়ন, প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের প্রত্যয়ন সাপেক্ষে ভূমি অধিগ্রহণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন গ্রহণ। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যয় বরাদ্দ গ্রহণ। প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত ভূমি অধিগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসককে বিশেষ দায়িত্ব প্রদান এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়া সমাপ্তকরণ। প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা, বাজেট প্রণয়ন, পণ্য বা সেবা ক্রয় পরিকল্পনা সংক্রান্ত প্রস্তুতি (ক্রয় প্যাকেজ-ক্রয় পদ্ধতি-কার্যাদেশ প্রদানের শতাবলী ও কার্যাদেশ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ) ইত্যাদি চূড়ান্তকরণ। ঋণ নেগোশিয়েশনের কমপক্ষে তিন মাস আগেই একনেক বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ প্রকল্প দলিল (ডিপিপি/টিপিপি) অনুমোদন বা চূড়ান্তকরণ। প্রকল্পের সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে দরপত্র প্রক্রিয়াকরণ। প্রকল্পের পূর্ত বা পণ্য কাজের ক্রয়ের জন্য বিডিং ডকুমেন্ট (দরপত্র দলিল) প্রস্তুতকরণ। পরামর্শকের যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা নির্ধারণ এবং যোগ্যতা সম্পন্ন পরামর্শক প্যানেল প্রস্তুত এবং সংশ্লিষ্ট উন্নয়নসহযোগীর সম্মতি গ্রহণ। ঋণ নেগোশিয়েশনের তিন মাস আগেই ভূমি অধিগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নকরণ এবং ভূমি অধিগ্রহণ। ঋণের চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস গঠন করে প্রকল্পের জনবল নিয়োগ সম্পন্ন করা। পরামর্শক নিয়োগের কার্যাদেশ প্রদান পূর্ব সকল কাজ সম্পন্ন করা।

প্রকাশিত : ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

০৯/০২/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: