২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বিলুপ্তির পথে সবুজ বেষ্টনী


এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূলবর্তী তীর ঘেঁষে দীর্ঘ ৩০ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকত এলাকার নয়নাভিরাম সবুজ বেষ্টনী বিলুপ্ত হতে চলছে। উপকূলে সৃজিত বিস্তীর্ণ সবুজ বেষ্টনী (ঝাউবীথি) সংঘবদ্ধ কাঠচোর সন্ত্রাসীদের কারণে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যাছে। বিভিন্ন সময় সমুদ্রের জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসের কবল থেকে উপকূলের তীর ও জনপথ ভাঙ্গনরোধে সৃজিত ঝাউবাগান উজাড় করে চলছে সংঘবদ্ধ কাঠচোরের দল। এ বিষয়ে দায়িত্বরত উপকূলীয় বনবিভাগের কোন তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বনবিভাগ ইতোপূর্বে কাঠচোরদের শনাক্ত করার পরও কোন আইনগত ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জোয়ারের তোড়ে ভাঙ্গনের কবল থেকে মানুষের জানমাল রক্ষায় বিশাল উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে বনবিভাগের সহায়তায় গড়ে তোলা হয়েছিল সবুজ বেষ্টনী। তবে সংঘবদ্ধ কাঠচোরদের ও সংশ্লিষ্ট বনকর্মীদের অবহেলার কারণে ওসব ঝাউবীথি বিলুপ্ত হওয়ায় বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে এতদাঞ্চলের প্রাণিসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য। পরিবেশবাদীদের অভিমত উপকূল অঞ্চলের সবুজ বেষ্টনী রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় পড়তে পারে উপকূলে বসবাসকারী ২৫ হাজার পরিবার।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এক শ্রেণীর অসাধু কাঠচোররা সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড় করতে তৎপর থাকায় মরে যাচ্ছে কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলের গাছপালা। এছাড়া সাগরের ভাঙনেও গাছপালা বিলীন হচ্ছে। বড়ছড়া এলাকার স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, চিহ্নিত ১০-১২ সন্ত্রাসী তাদের বাহিনী দিয়ে রাতের বেলায় ঝাউবীথি উজাড় করে চলছে। এ প্রসঙ্গে হিমছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, অবশ্যই কাট পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব। হিমছড়ি সমুদ্র উপকূলীয় এলাকার একরামুল হক বলেন, সাগরের অতিরিক্ত লোনা পানি ও বালু এসে গাছের গোড়ায় আটকা পড়ে। এতে নারিকেল গাছসহ বিভিন্ন জাতের গাছপালা মারা যাচ্ছে। শুধু যে গাছ মারা যাচ্ছে তা নয়, একই সঙ্গে উপকূল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। কমে যাচ্ছে নদী ও সাগরের মাছও। তিনি আরও বলেন, আমাদের উচিত নতুন প্রজাতির গাছ আবিষ্কার করা। যা পরিবেশের সঙ্গে মোকাবেলা করে বেঁচে থাকতে পারে। পাশাপাশি বন্ধ করতে হবে গাছ নিধন ও ইটভাঁটিতে অবাধে কাঠ পোড়ানো। এনজিও হেল্প কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক আবুল কাশেম বলেন, উপকূলীয় বনাঞ্চলসহ গ্রাম-বাংলার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে সরকারী ও বেসরকারীভাবে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। এতে ব্যর্থ হলে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবেলায় মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি ও সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বন কর্মকর্তা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ঝাউবীথি উজাড় হলে আমাদের করার কিছু নেই। তবে কাঠ পাচারকারীদের কারণে যদি কোন ক্ষতি হয়, তাহলে অবশ্যই ওইসব কাঠ পাচারকারীর বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা রুজু করা হবে।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: