২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

শুভ লগ্নে ধুমধাম করে লাবণ্য পল্লবের বিয়ে


শুভ লগ্নে ধুমধাম করে লাবণ্য পল্লবের বিয়ে

সমুদ্র হক ॥ শেষ পর্যন্ত লাবণ্য আর পল্লবের বিয়ে হয়েই গেল। গত ১৪ বছর ধরে ওরা বেড়ে উঠেছে একসঙ্গে। গড়ে ওঠে প্রণয়। তারপর শুভলগ্নে হয়ে গেল শুভ পরিণয়।

গায়ে হলুদ, তুলসী ও ধান দিয়ে বর-কনেকে আশীর্বাদের পর চোখে চোখ রেখে শুভদৃষ্টি। অপেক্ষার পালার পর একে অপরকে খুব কাছে পাওয়ার মধুময়তার ক্ষণে রবিবার সাত পাঁকে বেঁধে পল্লব লাবণ্যের সিঁথিতে পরিয়ে দিল সিঁদুর। কালরাত পার করে করতোয়া নদী তীরে কদমতলী মন্দিরের ধারে ওরা স্বপ্নের নীড় ছেড়ে সুখের নীড় বাঁধল। বগুড়া শহরের কাটনারপাড়া বেণীকুন্ড লেনের পাঁচতলা বাড়ির ছাদে বিজলী বাতির ঝিলিকের সঙ্গে ঝলসে উঠেছিল এক বিয়ের অনুষ্ঠান। বাড়িটির নাম স্বপ্নের নীড়। সেই ছাদেই ১৪ বছর আগে অতিথি হয়ে এসেছিল পল্লব। তখন সে খুবই ছোট। বছর দুই পর তার পাশেই এলো আরেক অতিথি লাবণ্য। সেও ছোট। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতা উপন্যাসের লাবণ্যের মতো ওই বাড়ির লাবণ্য হয়ে উঠল চঞ্চলা হরিণী। কাছেই অমিত ছিল না পল্লব তো ছিল। প্রণয়ের আবেগে শুরু হলো অপার মধুময়তা।

ওরা যখন খুবই কাছাকাছি একে অপরকে জড়িয়ে ধরতে চাওয়ার উপক্রম তখনই তা নজরে এলো বাড়ির মালকিন সবিতা পোদ্দারের। মনে মনে ঠিক করলেন আর দেরি নয় সানাইয়ের সুর তুলতেই হবে। বিষয়টি জানালেন বাড়ির ছাদেই পারিবারিক রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পুরোহিত মশাইকে। তিনি সায় দিলেন। পাকা কথা হয়ে গেল।

সবিতা পোদ্দার বললেন, ১৪ বছর আগে পাকুড় গাছ এনে টবে লাগিয়েছিলেন। তারপর বটগাছও লাগান। মন্দিরের সামনেই ওরা থাকে রাধামাধবের মতো। হিন্দু শাস্ত্রীয়মতে, বট-পাকুড় দেবতা বৃক্ষ। দেব ভক্তিতেই বড় হয় ওরা। বটের নাম রাখা হয় লাবণ্য। পাকুড়ের নাম সার্থক কু- ওরফে পল্লব। এই লাবণ্য আর পল্লব বৃক্ষ দুটির শাখা-প্রশাখা এতটাই নিবিড় হয়ে যায়, যেন মনে হবে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেছে। মন্দিরের পুরোহিত শিবপ্রসাদ চক্রবর্তীকে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা করার জন্য প্রস্তুত রেখে কার্ড ছাপিয়ে নেমনতন্ন করা হলো পাড়াময়। শনিবার রাতের লগ্নে শুরু হলো আনুষ্ঠানিকতা। সানাই বাজল। ঢাকের বাদ্যি বেজে উঠল। বাড়িটি সাজিয়ে আলো ঝলমলে করা হলো। প্রায় ৪শ’ অতিথির সামনেই লাবণ্য নামের বটগাছ কনে ও পল্লব নামের পাকুড় গাছ বরের আসনে বসিয়ে দিয়ে শুরু হলো বিয়ে অনুষ্ঠান। গাছ দুটিকে কাপড়ে জড়িয়ে বরের মাথায় টোপর, কনের মাথায় মুকুট পরিয়ে প্রতীকীভাবে সাজানো হলো। কনের বাবা সাজলেন বাড়ির ছোট ছেলে লিটন পোদ্দার এবং বরের মা হলেন বাড়ির কর্ত্রী সবিতা পোদ্দার। পুরোহিত মশাই বললেন, পুজোয় এই দুই গাছের দরকার হয়। সেই দিক লক্ষ্য রেখেই বিয়ে দেয়া হচ্ছে। কনের বাবা লিটন পোদ্দার সম্প্রদান করলেন। ক’জন অতিথি বললেন, ওই বাড়ির বড় মেয়ে কণিকার বিয়ে হয় ১৬ বছর আগে ধুমধাম করে। এত বছর পর একই রকম ধুমধামে এবারও বিয়ে হলো লাবণ্য ও পল্লব নামের দুই বট পাকুড়ের। সুখের নীড়ে গিয়ে বট পাকুড়ের সুরÑ মোহনায় এসে নদী আর কি ফিরিতে পারে...।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: