২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কাতার ’২২ সালে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আড়াই লাখ কর্মী নেবে


কাতার ’২২ সালে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আড়াই লাখ কর্মী নেবে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কাতার বাংলাদেশে থেকে দক্ষ আধাদক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা শুরুর আগেই দেশটি ২ থেকে আড়াই লাখ কর্মী নেবে। কাতার সফরকালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আব্দুল্লাহ বিন নাসের বিন খলিফা আল থানি ও প্রশাসনিক উন্নয়ন, শ্রম ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ড. ঈসা সাদ আলজাফালি আল নুয়াইমির সঙ্গে বৈঠকে এমন আশ্বাস দিয়েছেন। আগামী মার্চে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের পরই দেশটিতে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। রবিবার দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে তিন দিনের কাতার সফর শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, আগে কাতার সরকার জানত বাংলাদেশ ৭৫ শতাংশ মুসলিমের দেশ। কিন্তু, আমরা তাদের বলেছি, বাংলাদেশের ৯৫ ভাগই মুসলিম। তখন তারা বলেছেন, তোমরা আমাদের ভাই। তোমাদের দেশ থেকে অধিকসংখ্যক দক্ষ ও আধাদক্ষ কর্মী নিতে অগ্রাধিকার দেব।

তোমাদের কর্মীরা নামাজি। তাই তোমাদের কর্মীদের নিতে আমাদের কোন আপত্তি নেই। কর্মী নেয়ার ক্ষেত্রে নামাজির প্রশ্নটা আসল কেন? জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, তারাই আমাদের কাছে জানতে চেয়েছিল তোমাদের দেশের লোক নামাজি কিনা। আমরা তাদের বলেছি, হ্যাঁ অধিকাংশ মানুষই নামাজি। জঙ্গী দমনে বাংলাদেশ জিরো টলারেন্স বলেও কাতারের প্রধানমন্ত্রী এবং প্রশাসনিক উন্নয়ন, শ্রম ও সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বিদায়ী ২০১৫ সালে এক লাখ ২৩ হাজার ৯৬৫ কর্মী গেছে কাতারে। ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ চলছে। এ জন্য দেশটিতে নির্মাণকর্মী, সেবা খাত ও বিভিন্ন সেক্টরে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এমনও হতে পারে চলতি বছরে দুই লক্ষাধিক কর্মী যেতে পারেন কাতারে। তবে মন্ত্রী তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, আগামী দুই বছরে তিন লক্ষাধিক কর্মী যাবে দেশটিতে। এসব কর্মী নিতে আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় উভয় দেশের যৌথ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। দক্ষ ও আধাদক্ষ কর্মী নিতেই দেশটির বেশি আগ্রহ জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘কাতারের প্রশাসনিক উন্নয়ন, শ্রম ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী আমাদের বলেছেন, তারা বাংলাদেশ থেকে বিক্রয়কর্মী, নার্স, ডাক্তার, প্রকৌশলী ও অফিস কর্মচারীসহ সব খাতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে চায়। বেতন-ভাতা এবং অভিবাসন ব্যয় কত হবে জানতে মন্ত্রী বলেন, সেটা উভয় দেশের যৌথ কমিটি বসেই ঠিক করবে। দেশটিতে বর্তমানে ন্যূনতম বেতন ৭শ’ রিয়াল, তা বৃদ্ধি করে ১২শ’ রিয়াল করারও প্রস্তাব করা হয়েছে। ২ থেকে ৩ লাখ কর্মী নিয়োগ করার বিষয়ে একটি সমঝোতায় উপনীত হয়েছে উভয় দেশ। কাতারের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর ও উভয়পক্ষের মধ্যে বাংলাদেশীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণ বিষয়ে কারিগরি পর্যায়ে সুযোগ সুবিধা দেয়ার জন্য ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী আব্দুল্লাহ বিন নাসের বিন খলিফা আল থানি বাংলাদেশী কর্মীদের দক্ষতা ও কাজের আন্তরিকতার প্রশংসা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব খন্দকার ইফতেখার হায়দার, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক বেগম শামসুন নাহার, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ জুলহাস, মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আব্দুর রউফসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।