২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সেমিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চায় বাংলাদেশ


সেমিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চায় বাংলাদেশ

মিথুন আশরাফ ॥ অনুর্ধ ১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে গেছে বাংলাদেশ। এখন লক্ষ্য ফাইনালে ওঠা। সেই লক্ষ্যে শেষ চারের লড়াইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিজেদের প্রতিপক্ষ দেখতে চায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান ও উইকেটরক্ষক জাকির হাসানই এমনটি ভাবছেন। বলেছেন, ‘অবশ্যই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেলে খুশি হব।’ কেন? জাকির জানালেন, ‘ওদের আমরা ৩ ম্যাচে হারিয়েছি। শক্তিতে এগিয়ে আছি। অবশ্যই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেলে বেশি খুশি হব।’

জানুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যুব দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলে বাংলাদেশ যুব দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করে। আর এই হোয়াইটওয়াশ ভাবনা থেকেই ক্যারিবিয়ানদের সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষ চাচ্ছে মিরাজবাহিনী। যদি পাকিস্তানের বিপক্ষে আজ কোয়ার্টার ফাইনালে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তাহলেই কেবল তা সম্ভব। নয়ত পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালে খেলতে হবে। যে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১৩ সালে সর্বশেষ অনুর্ধ ১৯ ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ এবং দুটি ম্যাচেই হেরেছে। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেলে ফাইনালে ওঠার পথ অনেক সহজ হয়ে যাবে ভাবা হচ্ছে। নেপালের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন জাকির। অপরাজিত ৭৫ রান করেছেন। দলকে সেমিফাইনালে তুলেছেন। সেই ম্যাচটির স্মৃতি এখনও যেন তরতাজা। তাই জানালেন, ‘আসলে আমাদের পরিকল্পনাই ছিল যে ডানহাতি-বাঁহাতি জুটি থাকবে উইকেটে। (নাজমুল হোসেন) শান্ত আউট হলে নরমালি আমারই নামার কথা। আমি উইকেটে গিয়ে বেশি মনোযোগী হচ্ছিলাম যে দ্রুত উইকেট পড়ে গেছে, আমাকে শেষ পর্যন্ত খেলতে হবে। ওপরের ব্যাটসম্যানরা খেলতে হবে। শান্ত ভাল খেলতে পারেনি। আমার মনে হয়েছে আমাকে ভাল খেলতেই হবে।’

শান্ত আউট হওয়ার পর অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যান জাকির। দুর্দান্ত ব্যাটিংও করেন। তখন পরিকল্পনা কী দাঁড়িয়েছিল, তা জানাতে গিয়ে জাকির বলেন, ‘আমাদের তখন পরিকল্পনা ছিল যে দেড় শ’ রান পর্যন্ত করব। তারপর পরিস্থিতি বুঝে এগোবো। মাঠ অনেক বড় ছিল, প্রতি ওভারেই চার-পাঁচ করে আসছিল। বড় শট খেলার দরকারই ছিল না।’

৪ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ঝুঁকি তৈরি হলেও জাকির বলছেন ম্যাচ জেতায় কোন ঝুঁকিই না কি ছিল না, ‘ঝুঁকি ছিলই না। ওদের থ্রোয়িং আর্ম বেশি শক্তিশালী ছিল না। ২ রান করে সহজেই হচ্ছিল। ৪-৬ মারার দরকারই ছিল না। পরিকল্পনাই ছিল ১-২ করে খেলা।’ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের হাল ধরেছেন। এত ভাল খেলার রহস্যও জানালেন জাকির, ‘ম্যাচের আগে ৬-৭ দিন ধরে নেটে আমি খুব ভাল ব্যাট করছিলাম। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও ভাল খেলেছি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও কিছুটা অবদান রাখতে পেরেছিলাম। আত্মবিশ্বাস তাই কিছুটা ফেরত পেয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল আমি পারব।’ যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে তিন ও কোয়ার্টার ফাইনালে একটিসহ মোট চার ম্যাচ খেলেছে। সবকটিতে জাকির খেলেন। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালের আগে একটি ম্যাচেও এত দ্রুত ব্যাট করার সুযোগ পাননি। যেই সুযোগ পেয়েছেন, তা কাজেও লাগিয়েছেন। জাকির বললেন, ‘ওয়েট করতে খারাপ লাগে না। আমি বসে বসে অপেক্ষা করি যে যখনই নামব, শেষ ওভারে হোক বা প্রথম ওভারে, নেমেই দলের জন্য কিছু করব।’ জাকির যেখানেই খেলেন, গিয়েই শট খেলতে পারেন না। আগে উইকেটে গিয়ে কিছুক্ষণ সেট হওয়ার চেষ্টা করেন। সেট হয়ে গেলেই দ্রুত রান তোলারও চেষ্টা করেন। নিজেই বললেন, ‘আমি সবসময়ই এভাবে খেলি। গিয়েই শট খেলতে পারি না। আগে সেট হই, সময় নিয়ে খেলি।’ জাকির যেভাবে খেলেছেন, তাতে সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যতই ধরা হচ্ছে। জাকির কিন্তু এখনই অনুর্ধ ১৯ পর্যায় ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে ভাবতে নারাজ, ‘এই পর্যায়ে আছি, এটা নিয়েই ভাবছি। খেলতে খেলতে আরও শট আসবে হাতে। আরও প্র্যাকটিস করতে হবে, আরও উন্নতি করতে হবে।’ জাকিরের উইকেটকিপিং হিরো কুমার সাঙ্গাকারা। প্রিয় ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলী। সৌরভের এ্যাচিটিউট, খেলার ধরন সবকিছুই ভাল লাগে জাকিরের। তাদের প্রেরণা হিসেবে নিয়ে এখন জাকির অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারলেই হয়।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: