১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

শিবির ক্যাডারদের শাস্তি হয়নি ছয় বছরেও


কায়কোবাদ খান, রাবি ॥ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিবির ক্যাডারদের নৃশংসতার শিকার ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হোসেন হত্যাকা-ের ছয় বছর পেরিয়ে গেছে। দীর্ঘ সময়েও মামলার বিচার কাজ শেষ না হওয়ায় অভিযুক্ত শিবির ক্যাডারদের শাস্তি হয়নি। চার্জশীটভুক্ত অধিকাংশ আসামিও রয়েছেন জামিনে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দায়ী শিবির ক্যাডারদের নাম উঠে এলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিকে ছয় বছরেও ফারুক হত্যার বিচার না হওয়ায় হতাশ তার স্বজনরা।

২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হল দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায় শিবিরের অস্ত্রধারী ক্যাডাররা। তারা রাবি ছাত্রলীগের কর্মী ও গণিত বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ফারুক হোসেনকে নির্মমভাবে খুন করে লাশ শাহ মখদুম হলের পেছনের একটি ম্যানহোলে ফেলে রাখে।

জানা যায়, ঘটনার পরদিন রাবি ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম অপু বাদী হয়ে শিবিরের ৩৫ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে নগরীর মতিহার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর সন্দেহভাজন হিসেবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মতিউর রহমান নিজামী, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, রাজশাহী মহানগর জামায়াত ইসলামীর আমির আতাউর রহমান, শিবিরের রাবি শাখার তৎকালীন সভাপতি শামসুল আলম ওরফে গোলাপ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আব্দুল লতিফ হল শাখা শিবিরের সভাপতি হাসমত আলী, শহীদ হবিবুর রহমান হল শিবিরের সভাপতি রাইজুল ইসলাম, মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র ও শিবিরকর্মী রুহুল আমিন এবং শিবির ক্যাডার বাপ্পীসহ ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর নানা কারণে চারবার তদন্ত কর্মকর্তা বদলের পর ২০১২ সালের ৩০ জুলাই রাজপাড়া থানার তৎকালীন ওসি জিল্লুর রহমান চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১১০ জনকে অভিযুক্ত করে ফারুক হত্যা মামলার চার্জশীট দাখিল করেন। চার্জশীটে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দ-প্রাপ্ত জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, ফাঁসি কার্যকর হওয়া আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং রাবি শিবিরের তৎকালীন ক্যাডাররা অভিযুক্ত ছিলেন।

এদিকে চার্জশীট দাখিলের চার বছর পরেও মামলার বিচারকাজ শেষ না হওয়ায় নিহত ফারুকের বোন আসমা আক্তার হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ফারুক আমাদের সবার আদরের ছিল। এ ঘটনার পর থেকে বাবা আর কখনও সুস্থ হতে পারেননি। অথচ আমার ভাইকে যারা হত্যা করেছে তাদের আজও বিচার হয়নি। আমরা বিচারের আশাও ছেড়ে দিয়েছি। আল্লাহই এর বিচার করবেন।