১৭ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ঢাকা আর্ট সামিট


স্বাধীনতার সুফল আমরা নানাভাবে পাচ্ছি। বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে শিল্পী-সাহিত্যিক-ব্যবসায়ী স্বতন্ত্র পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার সুযোগ লাভ করেছেন বহির্বিশ্বে। সুনাম বাড়ছে দেশের। পেশাগত নানা প্রয়োজনে দেশের মানুষ যেমন বিদেশে যাচ্ছেন, যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক আয়োজনে অংশ নিতে, তেমনিভাবে বাইরের নাগরিকরাও এদেশে আসছেন এখানে আয়োজিত আন্তর্জাতিক কর্মশালা-সেমিনার বা কোন উদ্যোগে যুক্ত হতে। এ ধরনের আদান-প্রদান একজন ব্যক্তি মানুষকে বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠায় ভূমিকা রাখছে।

আমাদের দেশে চিত্রচর্চার প্রয়োজনে একাডেমিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার শত বছরও পেরোয়নি। তবু এরই মধ্যে বাংলাদেশের চিত্রশিল্পী ও ভাস্করদের কাজের সুনাম দেশের সীমানা পেরুতে পেরেছে। এটা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। এশিয়ার কোনো দেশে আন্তর্জাতিক দ্বিবার্ষিক প্রদর্শনী শুরুর আগে ঢাকাতেই ১৯৮৩ সালে প্রথম আয়োজিত হয়েছিল এশিয়ান বিয়েনাল। সে সময় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বহু শিল্পীই বাংলাদেশের নাম পর্যন্ত জানতেন না। তাই অভিজ্ঞতাহীন একটি নতুন দেশ কিভাবে আন্তর্জাতিক একটি চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে সফল হবে এটা তারা বুঝে উঠতে পারছিলেন না। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ার মতো কিছু দেশ সরকারীভাবে বাংলাদেশকে না বলে দিয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত সব মিলিয়ে পনেরো দেশ ওই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছিল। এই সাফল্য বাংলাদেশের চিত্রশিল্পের জন্য বাঁক ফেরা বা টার্নিং পয়েন্ট বলা যেতে পারে। নবীন-প্রবীণ নির্বিশেষে আমাদের দেশের শিল্পীরা বিদেশী শিল্পী ও শিল্প-প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ আলোচনার সুযোগ লাভ করেন। ফলে শিল্পের বিশ্বদরজা খুলে গেল। শিল্পীদের ভেতর মিথষ্ক্রিয়া ঘটল। এ থেকে প্রভাবিতও হলেন আমাদের শিল্পীরা। তাদের কাজের ভেতর এক ধরনের পরিবর্তনও সাধিত হলো। বাইরের শিল্পীদের মৌলিক বা অরিজিনাল কাজ (রিপ্রোডাকশন নয়) দেখার সুযোগ এর আগে হয়নি। তার আঙ্গিক, কলাকৌশল ও সংগঠন সম্পর্কে এখানকার শিল্পীদের স্পষ্ট ধারণা হলো। এভাবে আমাদের শিল্পীরা উপকৃতই হয়েছিলেন, যা আমাদের শিল্পকলারই অগ্রযাত্রা।

এখন বেসরকারী পর্যায়েও দেশে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী হচ্ছে। বিগত তিন বছর যাবত সামদানী আর্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে হচ্ছে ঢাকা আর্ট সামিট। এতে দক্ষিণ এশিয়ার শিল্পীদের কাজই মূলত প্রদর্শিত হচ্ছে। তবে আসছেন বিশ্বের নামীদামী আর্ট গ্যালারির কিউরেটর, বহু শিল্প সংগ্রাহক। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট নাদিয়া সামদানী যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তা যথার্থ বলেই মনে হয়। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের যে তরুণ চিত্রশিল্পীরা কাজ করছেন, তাদের জন্য অবশ্যই এক বিশাল প্ল্যাটফর্ম এই ঢাকা আর্ট সামিট। এবারও একজন উদীয়মান বাংলাদেশী শিল্পী পাবেন ‘সামদানী আর্ট এ্যাওয়ার্ড’। পুরস্কার হিসেবে তিনি পাবেন লন্ডনের ডেলফিনা ফাউন্ডেশনে তিন মাসের আবাসিক কর্মসূচীতে অংশগ্রহণের সুযোগ। এই সামিটের মাধ্যমে সারা বিশ্বের মানুষ আমাদের শিল্প ও শিল্পীদের কথা জানছে।

শিল্পীরা হলেন শিল্পস্রষ্টা, প্রত্যেকেই বাস করেন নিজস্ব এক নির্জন ভুবনে। ঢাকা আর্ট সামিটের মতো সম্মিলনীতে এক দেশের শিল্পীর সঙ্গে অন্য দেশের শিল্পীর ভাব ও অভিজ্ঞতার আদান-প্রদানের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া নিরীক্ষাধর্মী শিল্পকলা প্রদর্শনের যে বিরল সুযোগ মিলেছে সেটাও অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। আমাদের প্রত্যাশা ঢাকা আর্ট সামিট তার কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এবং প্রতি বছরই তাদের কর্মপরিকল্পনা নবায়নের মাধ্যমে এদেশে নবীন শিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতা দান এবং দর্শকরুচি প্রসারের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখবে।