২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

সুস্থ মননের ধারক বই


ফেব্রুয়ারি মানেই রাজধানী ঢাকায় বইয়ের উৎসব। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিরাট পরিসরে অমর একুশে বইমেলার আয়োজন এখন আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হয়ে উঠেছে। অনেক বইপ্রেমী সারা বছর ধরে ফেব্রুয়ারি এবং বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত অমর একুশে বইমেলার অপেক্ষা করেন। শুধু ঢাকার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলা নয়; এই ফেব্রুয়ারিতে সারাদেশে বিভিন্ন জায়গায় বইমেলার আসর জমে। তবে সবাই গাঁটের পয়সা খরচ করে বই কেনেন না। তবে কি দিন দিন পড়ার অভ্যাস কমছে? তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোরীরা কম্পিউটার, ইন্টারনেট, ফেসবুক, মোবাইল আর এসএমএস কালচারে যতটা মগ্ন, সে তুলনায় তাদের বই পড়ার সময় যেন একেবারে কমে গেছে।

আজ আপনার যে বন্ধুরা সবার আগে কোন মুভি দেখে গর গর করে কাহিনীর ‘টুইস্ট’ বলে বাহবা কুড়াচ্ছে তাদের সামনে একবার আপনার বই পড়ুয়া জ্ঞানটা জাহির করেই দেখুন না।

নেহায়েত বোকা কিংবা অহঙ্কারী কেউ না হলে আপনার এই জ্ঞান বন্ধুদের মুগ্ধ করতে বাধ্য। আবার পড়ার অভ্যাসটা ভাল করে রপ্ত করতে পারলে সেটা আখেরে কাজ দেবে আপনার একাডেমিক পারফরমেন্সেও। এ কথা হয়ত ঠিক যে আজকালকার প্রযুক্তিনির্ভর বিনোদনের মাঝে বই সংগ্রহ করে বা বই কিনে পড়াটা মোটেও সহজসাধ্য কাজ নয়। কিন্তু একবার চেষ্টা করে হলেও নিজের রুচিমতো একটা বই যদি আপনি পড়তে পারেন তবে ‘বই পড়া’র প্রেমে না পড়ার কোন কারণই নেই। এ ক্ষেত্রে আপনার পাল্টা যুক্তি থাকতে পারে, এত কিছু থাকতে বইয়ের প্রেমেই কেন জোর করে পড়তে হবে। উত্তরটা যদি একবাক্যে জানতে চান তাহলে বলব, একটা ভাল বই আপনাকে যেভাবে জীবন নিয়ে ভাবতে শেখাবে মুভি কিংবা ফেসবুকে ঢুঁ মেরে, হেডফোন লাগিয়ে এফএম রেডিও কিংবা এমপি থ্রি শুনে তা পারবেন না কোনভাবেই সেগুলোর সে সাধ্য নেই বললেই চলে। টিনএজ বয়সের হৈ হুল্লোড়ের মাঝে জীবন নিয়ে ভাববার প্রয়োজনও হয়ত আপনাদের নেই। কিন্তু বই পড়া মানেই মুখ গম্ভীর করে ইন্টেলেকচুয়াল ভাব নেয়া কিন্তু নয়। বরং একটা এ্যাকশন মুভির পরিবর্তে ফেলুদা, জেমস ব- বা মাসুদ রানা সিরিজের বইগুলো কিন্তু কম রোমাঞ্চকর নয়। একইভাবে এফএম রেডিওর গানের চাইতে কোন অংশে কম রোমান্টিক নয় আমাদের লেখকদের লেখা গল্প-উপন্যাসগুলো। তাছাড়া বই পড়তে গিয়ে টিভি, মুভি, গান, ফেসবুক ইত্যাদিকে নির্বাসনে পাঠাতে হবে তারও কোন যুক্তি নেই। বরং এসবের পাশাপাশি নিজের ভাললাগার একটা ব্যতিক্রমধর্মী জায়গা তৈরি করতে বই পড়া চলতে পারে আর অন্য সব কিছুর পাশাপাশিই। যেখানে আপনার আর সব বন্ধু-বান্ধবীই মুভি আর গানের ভাবনায় আপনার চাইতে কোন অংশে কম যায় না। সেখানে বই পড়া আপনাকে একটা দিকে হলেও এগিয়ে রাখতে পারে অন্য সবার চেয়ে। আর বই কেন পড়বেন এ নিয়ে যদি তার পরেও আপনার মনে দ্বিধা থাকে তাহলে দ্বিধা কাটাতে আপনি না হয় আপনার পছন্দের কোন বই একবার পড়েই দেখুন না।

বই পড়ার অভ্যাস গড়বেন যেভাবে

এতক্ষণ যে কথাগুলো বলা হলো সেগুলোকে দয়া করে উপদেশ বলে মনে করবেন না। যারা মনে করে আমাদের লাইফস্টাইলে বই পড়ার অভ্যাসটি থাকা জরুরী অথচ বই পড়তে গেলেই আলসেমি লাগে, ঘুম পায় তাদের জন্য এখানে কিছু পরামর্শ তুলে ধরা হলো।

* প্রতিটি মানুষেরই একটা স্বতন্ত্র রুচিবোধ আছে। কাজেই আপনার বড় ভাই কিংবা আপনার বন্ধুর কাছে যে বইটি ভীষণ রকম ভাল লেগেছে সেটি আপনার কাছে এতটা ভাল নাও লাগতে পারে। কাজেই কারও কাছে কোন বইয়ের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা শুনে সেই বইটি যদি আপনার ভাল না লাগে তাহলে বই পড়াটাকে মোটেও দোষারোপ করা যাবে না।

* বই পড়া শুরু করার জন্য প্রথমেই নিজের রুচির দিকে খেয়াল রেখে বই কিনে তা পড়তে শুরু করুন।

* এক বসায় পড়া শেষ করতে হবেÑবই পড়া বিষয়টাকে মোটেও এভাবে রুটিন হিসেবে নেয়া চলবে না। বরং কোন কাজের ক্ষতি না করে যখন যতটুকু পড়তে ভাল লাগে ততটুকু পড়ুন।

* পাঠ্যবই পড়ার সময় গান শোনা বা টিভি দেখা যেমন অপরাধ তেমনি এ সময়ে গল্প-উপন্যাস পড়াটাও বর্জনীয়। কাজেই বই পড়ার জন্য আপনার অবসর সময় বা ছুটির দিনগুলোকেই বেছে নিন।

* একটা গল্প বা উপন্যাস পড়ে আপনার ভাল না লাগা মানেই কিন্তু এই নয় যে বিশ্বের যাবতীয় বইই একই রকম একঘেয়ে। কাজেই বই পড়াকে অর্থহীন বলার আগে কয়েক রকম বই পড়ে দেখুন কোনটি আপনার কতটা ভাল লাগে।

* আমাদের প্রাত্যহিক জীবনযাপনে আমরা কত সমস্যার মুখোমুখি হই নিত্যদিন। সেই সব সমস্যা মোকাবেলায় নিজের মনের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলার জন্য বই আপনাকে নানাভাবে শক্তি যোগাতে পারে।

* আত্ম উন্নয়নমূলক বই পড়ে আপনি নিজের মধ্যে সেই শক্তি জাগিয়ে তুলতে পারেন। বড় লেখকদের গল্প-উপন্যাসের জীবনবোধ সম্পর্কে নিজস্ব চেতনা জাগানোর আলাদা উদ্দীপনা থাকে। যে চেতনায় আপনি হয়ে উঠতে পারেন অন্য একজন মানুষ। অতএব, বিভিন্ন লেখকের গল্প-উপন্যাস পড়ার চেষ্টা করুন। নিজেকে ভিন্ন এক উপলব্ধিতে জাগিয়ে তুলুন। মনে রাখবেন, বই আপনার মনের আকাশকে অনেক বড় করে তুলতে পারে। আপনাকে সত্যিকার ভাল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে বই।