২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

মিরাজদের লক্ষ্য এবার ফাইনাল


মিথুন আশরাফ ॥ অনুর্ধ-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে বাংলাদেশ যুব দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ শিরোপা জেতার প্রত্যাশার কথা বলেছিলেন। জানিয়েছিলেন, ‘দেশের মাটিতে খেলা। চাই শিরোপা জিততে।’ সেই শিরোপা জেতা সম্ভব। যদি আর দু’টি ম্যাচ জেতা যায়। একেক করে ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে উঠে গেছে বাংলাদেশ। ইতিহাস গড়েছে। এবার ফাইনালে ওঠার পালা। বৃহস্পতিবার সেমিফাইনালে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ নয়ত পাকিস্তান হবে। যে দলের বিপক্ষেই খেলুক বাংলাদেশ, জিতলেই ফাইনালে উঠে যাবে। শিরোপা থেকে এখন দুই হাত দূরে। তখন এক হাত দূরে থাকবে বাংলাদেশ।

মিরাজ বলেন, ‘খুব ভাল লাগছে। আমরা প্রথম বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠছি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আমাদের প্রথম পরিকল্পনাই ছিল সেমিফাইনাল খেলব ইনশাআল্লাহ। আমাদের ভেতর বিশ্বাস ছিল। এ জন্যই এটা করতে পেরেছি আমরা। আমরা কিন্তু চাপেই ভাল খেলি। সেটা হয়েছে সবার ভেতর বিশ্বাসটা আছে বলে।’

সঙ্গে যোগ করেন, ‘আসলে কি, আমাদের পরিকল্পনা ছিল ১০ ওভার দেখে (কোয়ার্টার ফাইনালে) ফেলা। উইকেট দেব না। আস্তে আস্তে ক্রিকেট খেলব। আমাদের শেষের দিকের ব্যাটসম্যানরা খুবই ভাল। উইকেট রাখতে পারলে আমরা শেষের দিকে অনেক ভাল খেলতে পারি। সেটার প্রমাণ কিন্তু হয়েছে। আমি আর জাকির (হাসান) যখন খেলছিলাম, মাঝের দিকে ১০ ওভারে ৭০ রানের মতো লাগত, আমরা কিন্তু ১০ বল আগেই শেষ করেছি। বিশ্বাসটা আমাদের ছিল।’ কোয়ার্টার ফাইনালে একটু হলেও চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত দুই হাফ সেঞ্চুরিয়ান মিরাজ ও জাকিরের নৈপুণ্যে জিতে গেছে। জাকির অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন। জাকিরকে নিয়ে তাই উচ্ছ্বাসিত মিরাজ, ‘জাকির অবিশ্বাস্য খেলেছে। আমার কাছে সবচেয়ে ভাল লেগেছে যে জিনিসটা, জাকির অনেকদিন পর রানে ফিরেই খুব ভাল ইনিংস খেলেছে। দলের জন্য খুব ভাইটাল সময়ে এরকম একটা ইনিংস খেললো। দলের খুব দরকার ছিল এটা। আমি যখন উইকেটে যাই, অবশ্যই একটু চাপ ছিল। কিন্তু জাকিরই আমাকে বলেছিল যে আমরা শুধু সিঙ্গেল খেলব, স্ট্রাইক রোটেট করব। চার-ছয়ের জন্য যাব না। ওর কথা খুব কাজে লেগেছে।’

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম একটু অন্যরকম, বড় বলেই হয়তো খানিকটা চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। এখন সেই চাপ দূর হয়ে যাবে। সেমিফাইনালেও যে খেলতে হবে মিরপুরেই। মিরাজ বলেন, ‘এখানে মাঠ একটু অন্যরকম। অনেক সময় বোঝা যায় না। আমরা হয়তো ডিফেন্স করলাম, বল গ্যাপে গেল কি গেল না ঠিক বোঝা যায় না। মাঠ অনেক বড়। ভালমত বোঝা যায় না। এমনিতে আমাদের বোঝাপড়া খুব ভাল। একটা-দুটি ম্যাচে হতেই পারে এরকম। ওভার অল এটা বড় সমস্যা বলে মনে হয় না আমার কাছে।’

মিরাজ শুধু দলকেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন না। ম্যাচও জেতান। সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। যেটি খুব উপভোগ করেন নিজেও। বাংলাদেশ যুব দলের অধিনায়কই জানালেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে আমি সবসময় দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে চাই। দল যেন সবসময় ভাল ফল করে এবং আমি যেন তাতে অবদান রাখি। আমি কখনই চাপ নেই না। উপভোগ করি সবসময়। দলের সবাই আমাকে খুব সাহায্য করে, সবাই খুব ভাল।’

নেপাল ২১১ রান করার পর মনে হয়েছে বাংলাদেশ সহজেই জিতবে। কিন্তু দ্রুত ৪ উইকেট পড়ে যাওয়ায় চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। তা সবাই বুঝেছে। অথচ মিরাজ বলছে চাপ নেননি। তা পরবর্তী ম্যাচেও বজায় থাকবে, ‘আসলে আমরা কখনই চাপ নিইনি। উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য অনেক ভাল। নেপাল কিন্তু প্রথমদিকে অনেক রান করেছে, আমাদের বোলাররা ভাল বোলিং করে ওদের রান কমে আটকে রেখেছে। উইকেট এখানে ওভার প্রতি চার-পাঁচ রান করে করার মত। ২৭০-২৮০ রানের উইকেট। আমাদের বোলাররা ভাল করে ওদের কমে আটকে রেখেছে। শুরুতে আমাদের উইকেট পড়ে যাওয়ায় একটু সমস্যা হয়েছে। কিন্তু আমি আর জাকির সেট হওয়ার পর কিন্তু ভাল ব্যাট করেছি। সমস্যা হয়নি।’ এক্ষেত্রে দর্শকদেরও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মিরাজ। ১০ হাজারের মত দর্শক উপস্থিতি, তাদের সমর্থন কাজে লেগেছে। মিরাজই যেমন বললেন, ‘এত দর্শকের সামনে কখনও খেলা হয়নি। খুব ভাল লেগেছে। সবাই আমাদের সমর্থন জানিয়েছে। আমাদের মনের ভেতর খুব ভাল অনুপ্রেরণা জেগেছে যে সবাই খেলা দেখছে। আমরা চাপ নেইনি। মজা পাচ্ছিলাম, মাঠের ভেতর উপভোগ করেছি।’

শেষে পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে মিরাজ বললেন, ‘আমাদের পরিকল্পনাই থাকে ১০-১৫ ওভারে বেশি শট খেলব না। ধরে খেলব। এভাবেই চলছে। সামনের ম্যাচগুলোয় আশা করি ভাল হবে। আমাদের বোলাররা খুব ভাল করেছে। বিশেষ করে সাইফুদ্দিন খুব ভাল ইয়র্কার করতে পারে। আরেকটা টার্নিং পয়েন্ট ছিল আমাদের। ওরা যখন খুব ভাল একটি জুটি গড়ে তুলেছিল, শান্তর দারুণ ফিল্ডিংয়ে একটি রান আউট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওরপর থেকেই আমরা কামব্যাক করতে পেরেছি। ওরা কিন্তু অনেক রান করছিল তখন। ওই রান আউট ও পরে ওদের অধিনায়কের রান আউট টার্নিং পয়েন্ট ছিল।’