১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

ছায়ানটে রবীন্দ্রনাথের গান ও কবিতার যুগলবন্দী


গৌতম পাণ্ডে ॥ মিলনায়তনের বাইরে ভেসে আসছে রবীন্দ্রনাথের ‘বসন্ত তার গান লিখে যায় ধূলির পরে’ গানের সুর। গানটি শেষ হতে না হতেই ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায় ছায়ানটের রমেশচন্দ্র দত্ত স্মৃতি মিলনায়তনভর্তি দর্শক-শ্রোতা নিমগ্ন হয়ে শুনছে শিল্পীর গান, আর নিজের ভেতরে যেন বসন্তের পরশ পাওয়ার চেষ্টা করছে। এর পরপরই রবীন্দ্রনাথের ‘বসন্ত’ কবিতা আবৃত্তি ভিন্ন এক আবহ সৃষ্টি করে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ‘প্রেম ও বসন্তে রবীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সঙ্গীত পরিষদ। প্রেম ও বসন্ত নিয়ে রবীন্দ্রনাথের রচনা ভা-ারের কিছু অংশ সুর আর আবৃত্তি দিয়ে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলেন শিল্পী দম্পতি মীরা ম-ল আর নিমাই ম-ল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ইমেরিটাস আনিসুজ্জামান। শিল্পীদ্বয়ের দীর্ঘায়ু কামনা করে তিনি বলেন, সঙ্গীতশিল্পী মীরা ম-লের গানের সঙ্গে আমি পরিচিত, পাশাপাশি আবৃত্তিশিল্পী নিমাই ম-লের কাজের সঙ্গেও কিছুটা পরিচয় আছে। রবীন্দ্রনাথের গান ও কবিতা দিয়ে সাজানো এ অনুষ্ঠানের সাফল্যসহ তাদের জীবনের সাফল্যও কামনা করি। এর আগে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সঙ্গীত পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পিনুসেন দাশ। তিনি সঙ্গীতসাধক প্রয়াত প-িত রামকানাই দাশের সৃষ্ট এ সংগঠনটির কার্যক্রম নিয়ে বলেন, রাগসঙ্গীত চর্চার পাশাপাশি বাঙালীর আবহমানকালের সঙ্গীত সংস্কৃতি চর্চা, প্রশিক্ষণ, লালন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তা প্রসারের লক্ষ্যে সংগঠনটি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সংক্ষিপ্ত এ আলোচনার পর শুরু হয় রবীন্দ্রনাথের গান ও কবিতার যুগলবন্দী পরিবেশনা। শুরুতে বসন্তের গান ও কবিতার পর ‘এসো এসো আমার ঘরে এসো’ ও ‘দিন শেষে রাঙা মুকুল’ গান দুটি পরিবেশন করেন শিল্পী মীরা ম-ল। এরপর ‘এই উদাসী হাওয়ায় পথে পথে মুকুলগুলি ঝরে’ গানটি সুর আর আবৃত্তির মিশেলে পরিবেশন করেন শিল্পীদ্বয়। নতুন আঙ্গিকের উপস্থাপনা শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ‘ও যে মানে না মানা’, ‘কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া’ গান দুটি পরিবেশনার পর ‘তুমি হঠাৎ হাওয়ায় ভেসে আসা ধন’ গানের সাথে ‘হঠাৎ দেখা’ কবিতা আবৃত্তি ছিল খুবই চমকপ্রদ। শিল্পীরা আবার ফিরে এলেন প্রেম পর্যায়ে। মীরা গাইলেন ‘সেই ভাল সেই ভাল আমারে না হয় না জানো’, নিমাই আবৃত্তি করলেন ‘অনন্ত প্রেম’ কবিতা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথের শুধু গান অথবা কবিতা পরিবেশিত হয়। কখনও বা গানের ফাঁকে দু’একটি কবিতা আবৃত্তি হয়ে থাকে। কিন্তু এদিন ছিল রবীন্দ্রনাথের একই শ্রেণীর গান আর কবিতার মিশেল। সেই আনন্দটুকু যেন শ্রোতারা উপভোগ করছিলেন এ সন্ধ্যায়। এরপর শিল্পী মীরার কণ্ঠে পরিবেশিত হয় গান ‘যদি তারে নাই চিনি গো’, নিমাই শুনালেন ‘পথের বাঁধন’ কবিতা। মীরা পরপর গাইলেন ‘তুমি কোন পথে যে এলে’ ও ‘আজ জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে’। নিমাইয়ের কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের ‘অতিবাদ’ কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে শেষ হয় ‘প্রেম ও বসন্তে রবীন্দ্রনাথ।’

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: