১৮ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

তলাবিহীন ঝুড়ি এখন সমৃদ্ধির ভাণ্ডার


১৯৭১ সালে স্বাধীনের সময় কেবল অর্থনীতি-ব্যবসা বাণিজ্যেই নয়, আর্থ-সামাজিক নানা সূচকেই অনেক পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পর গত চার দশকে বিদেশী রাষ্ট্রের শোষণমুক্ত বাংলাদেশ বেশ পুষ্ট হয়েছে। অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বহু পথ এগিয়েছে বাংলাদেশ। আর এ অর্জনে কেবল পাকিস্তানকেই নয়, অর্থনীতি ও সামাজিক নানা সূচকে ভারতের চেয়েও বেশ এগিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্বের সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শূন্য হাতে শুরু করে বছর বছর ৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধির অর্জনের মতো শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে দেশের অর্থনীতি। প্রথম প্রজন্মের হাতে গড়া বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বমানে রূপান্তর হচ্ছে দ্বিতীয় প্রজন্মের হাত ধরে।

বিশ্বব্যাংকের ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট ইনডিকেটরস ডেটাবেসে এবং আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ বিশ্ব অর্থনীতিতে ৫৮তম অবস্থানে ছিল। ২০১৫ সালে ২০৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার জিডিপি অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ব অর্থনীতির আঙিনায় ১৪ ধাপ ওপরে উঠে ৪৪তম স্থানে অবস্থান করছে। জানা গেছে , ১৯৭২ সালে দেশের রফতানি আয় ছিল ৩৩ কোটি ডলার। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১২০ কোটি ডলারে। একই সময়ে আমদানি ব্যয় ২৯ কোটি ডলার থেকে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১০০ কোটি ডলারে। রেমিটেন্স প্রবাহ ৪০ লাখ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে। হাজার ৫৩০ কোটি ডলারে। এমনকি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয় বেড়ে যাওয়ায় রিজার্ভের পরিমাণ ২ কোটি ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে।

স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশ নিয়ে তৎকালীন বিশ্বের মাতবর দেশগুলোর মধ্যে একদলের ধারণা ছিল বাংলাদেশকে টিকে থাকতে হলে বিদেশী সাহায্য লাগবে। আরেক দলের ধারণা ছিল, সাহায্য দিলেও কাজ হবে না। তাই সেসময় মার্কিন মন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বলেছিলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে ‘ইন্টারন্যাশনাল বাস্কেট কেস’। অর্থাৎ তলাবিহীন ঝুড়ি, এখানে যত অর্থই ঢালা হবে, তলা না থাকায় কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। অবশেষে বর্তমান সরকারের আমলে সেই অপবাদ ঘুচেছে। বিশ্বের প্রভাবশালী ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে বাংলাদেশ নিয়ে প্রকাশিত রিপোর্টটির শিরোনাম ছিল, ‘বাংলাদেশ, ‘বাস্কেট কেস’ নো মোর।’

বাংলাদেশ এগোচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে শুরু“করে দীর্ঘ ২৫ বছর পর্যন্ত বাংলাদেশে গড়ে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হার সাড়ে ৪ শতাংশের বেশি বাড়েনি। পরের ১০ বছর জিডিপি বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ হারে। আর গত ১২ বছর ধরে দেশের গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

এমনকি বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনাও বলেছেন, অর্থনীতিতে এক সময় বাংলাদেশ সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। হতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার ইমার্জিং টাইগার। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশ্ব বিখ্যাত ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকার ‘নিউ ওয়েভ ইকোনমিজ গোয়িং ফর গ্রোথ’ শীর্ষক সংবাদে বলা হয়, ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের অর্থনীতি পশ্চিমা দেশগুলোকেও ছাড়িয়ে যাবে। রেমিটেন্সই বাংলাদশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার টেকসই ও শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে। বাংলাদেশের সম্ভাবনাও অফুরন্ত। ২০২১ সালে বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তি হবে। সে সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়া, ২০৩০ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ছাড়িয়ে যাওয়া এবং ২০৫০ সালের মধ্যে পশ্চিমা বিশ্বকে ছাড়িয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। বিশ্বব্যাংক মনে করে, মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হলে বাংলাদশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশ এবং প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। বিশ্বব্যাংকের বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০১৩ এ বলা হয় বিশ্বে যে গুটিকয়েক দেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন উভয় ক্ষেত্রে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে, তাদের মধ্যে বাংলাদেশ অগ্রগণ্য। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনও মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশের সাফল্যেও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। সত্তরের দশকে বাংলাদেশ ছিল পুরোপুরিই সাহায্যনির্ভর একটি দেশ। আর বর্তমান সরকারের দূরদর্শিতায় পরিণত হয়েছে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে এমনকি আগামী তিন বছরেই পরিণত হবে মধ্যম আয়ের দেশে এমনই দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।