মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২২ আগস্ট ২০১৭, ৭ ভাদ্র ১৪২৪, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

খালেদার বাড়ি ঘেরাও কর্মসূচীতে পুলিশের বাধা

প্রকাশিত : ৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের প্রতিবাদে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বাড়ি ঘেরাও কর্মসূচী পালন করেছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড। তবে এ কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে দফায় দফায় পুলিশের বাধার মুখে পড়ে সংগঠনটির শতাধিক নেতাকর্মী। তাই শেষ পর্যন্ত তারা খালেদা জিয়ার গুলশানের ভাড়া বাড়ি ‘ফিরোজা’র সামনে যেতে পারেননি। পরে এক সমাবেশে সংগঠনের নেতারা মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য খালেদা জিয়ার বিচার দাবি করেন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচী অনুসারে শনিবার সকাল ৯টার দিকে গুলশান ২ নম্বর চত্বরে জড়ো হয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের শতাধিক নেতাকর্মী। সকাল সাড়ে ৯টায় তারা খালেদা জিয়ার বাড়ি ঘেরাওয়ের উদ্দেশে গুলশান ২ নম্বর চত্বর থেকে রওনা দিলে তাদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। এ কারণে খালেদা জিয়ার গুলশান দুই নন্বর ৭৯ নম্বর সড়কের ১ নম্বর বাড়ির সামনে যেতে পারেননি তারা।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে খালেদা জিয়ার দেয়া বক্তব্যের পর তার বিরুদ্ধে নানা কর্মসূচী পালন করছে সরকার সমর্থক বিভিন্ন সংগঠন। শনিবার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের নেতাকর্মীরা গুলশান ২ নম্বর চত্বর থেকে খালেদা জিয়ার বাড়ি ঘেরাও করতে এগিয়ে যেতে শুরু করলে সেখানে কর্তব্যরত ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার আব্দুল আহাদ গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। কূটনৈতিক পাড়ায় এ ধরনের কর্মসূচী পালনে নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়ে তিনি তাদের সরে যেতে বলেন। পুলিশের বাধায় গুলশান ২ নম্বর চত্বরে জড়ো হতে না পেরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের নেতাকর্মীরা পরে পশ্চিম দিকে সরে এসে বনানী মাঠে অবস্থান নেন। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করে তারা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের সেøাগান দেন। এক পর্যায়ে তারা বেলা ১১টার দিকে আবার মিছিল নিয়ে খালেদা জিয়ার বাড়ির দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। পরে তারা বনানী মাঠেই সমাবেশ করে খালেদা জিয়ার বিচার দাবি করেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, শহীদ আলীম চৌধুরীর মেয়ে নুজহাত চৌধুরী, সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এ আরাফাত প্রমুখ।

সমাবেশে তুরিন আফরোজ বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানের অপরাধ কম হয়েছিল এটা বিএনপি নেত্রী প্রমাণ করতে চাইছেন। তাই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করছেন। খালেদা জিয়া মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা কমাতে পারলে বুঝি পাকিস্তানের অপরাধ কমে যাবে।

এ আরাফাত বলেন, খালেদা জিয়া পাকিস্তানের সঙ্গে সুর মিলিয়ে কথা বলছেন। তার বাংলাদেশে থাকার কোন অধিকার নেই। এই নেত্রীকে উৎখাত করতে পারলে দেশে আর কোন সমস্যা থাকবে না। খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান বাংলাদেশে পাকিস্তানপন্থী রাজনীতি চালাচ্ছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

শহীদ আলীম চৌধুরীর মেয়ে নুজহাত চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক করবেন আর স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ বসে থাকবে, তা হবে না। তিনি বলেন, এমন আইন চাই, রক্ত দিয়ে যে স্বাধীনতা অর্জন সেটা নিয়ে কেউ যেন কথা বলতে না পারে।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডে সভাপতি মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে মন্তব্য করার প্রতিবাদে খালেদা জিয়ার বাসভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচী পালন করছেন তারা। তবে পুলিশের অনুরোধে আমরা সেখানে না গিয়ে বনানী মাঠে সমাবেশ করেছি।

প্রকাশিত : ৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

০৭/০২/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: