১২ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

এমপি রানাসহ ১০ আসামিকে ধরতে অভিযান শুরু


নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল, ৬ ফেব্রুয়ারি ॥ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা, বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামি এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাই কাকন, মুক্তি, বাপ্পাসহ ১০ জন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন। বুধবার চার্জশীট আদালতে জমা দেয়ার পর থেকেই পুলিশ তাদের গ্রেফতারে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো শুরু হয়েছে। পুলিশের সব ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

এদিকে আসামিরা আত্মগোপনে থাকলেও যারা তাদের বিরুদ্ধাচরণ করছেন তাদের মোবাইল ফোনে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। এমপি রানার কারণে ঘাটাইলে শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতাধিক শিক্ষক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এমপির হুমকির ভয়ে কর্তৃপক্ষ বারবার পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েও শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছে না। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম শামসুল হক শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে ঘাটাইল পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা নেন। এ কারণে এমপির ক্যাডার বাহিনী তাকে লাঞ্ছিত করে। গত ৩ আগস্ট এমপি নিজে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে নিয়োগ বন্ধের নির্দেশ দেন। এছাড়া সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে মারধর, প্রয়াত ভাই বাপ্পী স্মৃতি সংসদের নামে ক্লাব বানিয়ে ভূমি দখল, টেন্ডারবাজি, প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া, হামলা, লুটপাট, ভাংচুর, হুমকিসহ সব ধরনের অভিযোগ রয়েছে এ এমপি ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে।

অপরদিকে আমানুর রহমান খান রানার সমর্থনকারী ৫১ জনের বিরুদ্ধে বাড়িঘর ভাংচুর, অনাধিকার প্রবেশ, চুরি, ক্ষতি সাধন, হুমকি ও হুকুম দানের অপরাধে ঘাটাইল থানায় শুক্রবার রাতে ৩টি মামলা দায়ের করেছে ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা লেবু সমর্থিত কর্মী। শফিকুল ইসলাম (৩৮), মজিবর রহমান (৫৫) ও দেওয়ান নিজাম (৪০) বাদী হয়ে শুক্রবার এ মামলা দায়ের করেন ঘাটাইল থানায়। এ মামলায় আটক করা হয়েছে কমিশনার মুনছুর (এমপি রানা সমর্থিত) এক কর্মী। আরও অজ্ঞাতনামা আসামি ৩টি মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে ৯৫ জনের বিরুদ্ধে। এমপি রানা সমর্থিতরা গ্রেফতার আতঙ্কে এখন এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।

এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার অফিসার্স ইনচাজ কামাল হোসেন জানান, এমপি রানার বিরুদ্ধে চার্জশীট দেয়াকে কেন্দ্র করে লেবু সমর্থিত নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভাংচুর চালায়। তার পরিপ্রেক্ষিতে এ মামলার অভিযোগ দায়ের করেছেন তারা। মামলার অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।