২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৯ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

‘রতি আরতির গীত’ মঞ্চস্থ


দীপঙ্কর দাস, জাবি সংবাদদাতা ॥ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের তিন যুগ পূর্তি উপলক্ষে ‘দৃষ্টিজুড়ে স্বপ্নশিখর, যুগান্তরের গান’সেøাগানে আয়োজন করা হয়েছে ১১দিনব্যাপী তিন যুগ পূর্তি উৎসব-২০১৬। শনিবার থেকে শুরু হয়ে এই উৎসব চলবে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। শনিবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪১তম আবর্তনের প্রযোজনা ‘রতি আরতির গীত’ মঞ্চায়ন মধ্য দিয়ে শুরু হল এই নাট্যোৎসব। কাজী নজরুল ইসলামের ছোটগল্প সাপুড়ে আশ্রয়ে ‘রতি আরতির গীত’ নাটকটির নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন জাবির নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনন জামান । নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মিমো, শাকিল, মৃদুল, সজল,দীপঙ্কর, জাকির, তিশা, শ্যামা, দোলা, সাথী, প্রিয়াংকা, মহুয়া, রমিত, রায়হান, আহসান, সামিরা প্রমুখ।

নাটকটির মধ্যমে মানব প্রেমের এক অমর উপাখ্যান মঞ্চে এনেছেন নাট্য নির্দেশক। নাটকের কাহিনীতে দেখা যায় কাল নীল শৈল মালার সানু দেশে ভীষণ বিজন অরণ্যের প্রান্তে পাহাড়ের বুক কাটা গাঙের বাঁকা পাড়ে জহরের ক্ষণস্থায়ী ঘর। জহর সাপুড়ে, মন্ডপে দিনমান পূজা করে বিষ জয়ের মানসে। জহরের বিষ জয় সাধনায় মনসা দ্বারা কাম নিষিদ্ধের ফলে প্রত্যাখ্যাত হয়ে জহরের ভালবাসার মানুষ বিন্তী রানী আড়ালি বিলের সাদা শাপলার বনে নিজেকে সমর্পণ করে। এরই মধ্যে একদিন কলার মান্দাসে ভেসে আসা মৃতপ্রায় এক বালিকাকে তুলে এনে প্রাণ সঞ্চার করে জহর। সাধন বিনষ্টির ভয়ে মেয়েটিকে রাখতে না চাইলেও পরে বালকের বেশে রেখে দেয় জহর, নাম দেয় চন্দন। চন্দনের সঙ্গে সখ্যতা হয় বেদে বহরের ঝুমরো ও মৌটুশীর। চন্দন ঝুমরোর সম্পর্ক গাঢ় হতে থাকে। চন্দনের প্রতি রতি অনুভব করে জহর। নাগ পঞ্চমীর এক রাতে বাদ্য বাদনে মেতে ওঠে বহর। উন্মত্ত তালে নাচতে নাচতে সহসা চন্দনের নারীত্ব উন্মোচিত হয়ে যায়। এ নিয়ে বেদে বহরে হৈ চৈ পড়ে যায়। জহর চন্দনকে নিবিড় করে পেতে চাইলে চন্দন ঝুমরোর প্রতি তার ভালবাসার কথা প্রকাশ করে। জহর পাগলপ্রায় হয়ে পড়ে। চন্দন ও ঝুমরো বনে পালিয়ে যায়। জহর ঝুমরোকে মারতে তার পোষা সাপ পাঠায়। ঝুমরোকে সাপ দংশন করে। ঝুমরোকে প্রাণে বাঁচানোর জন্য চন্দন নিজেকে সমর্পন করে জহরের কাছে। কাহিনি তখন অপ্রত্যাশিত বাঁকে পৌছায়।