২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ইস্পাত উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিল চীন


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ইস্পাত উৎপাদন কমানোর কথা ঘোষণা করল চীন। আগামী ৫ বছরে ধাপে ধাপে উৎপাদন ১৫ কোটি টন কমানো হবে বলে সরকারী সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ। চীনের ক্যাবিনেটের সিদ্ধান্ত অনুসারে, এ জন্য পুরনো হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুরোপুরি বন্ধ করা এবং নতুন করে ইস্পাত প্রকল্পের অনুমোদন না দেয়ার পথে হাঁটবে তারা। এর সঙ্গেই ধুঁকতে থাকা অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ইস্পাতসহ অন্য শিল্পে অতিরিক্ত উৎপাদন বন্ধের কথাও জানিয়েছে চীন।

ওয়ার্ল্ড স্টিল এ্যাসোসিয়েশনের পরিসংখ্যান অনুসারে, বিশ্বের ইস্পাতের অর্ধেকই তৈরি হয় চীনে। ২০১৫ সালে প্রায় ৮০.৪ কোটি টন ইস্পাত উৎপাদন করেছে এই দেশ। তার আগের বছরের তুলনায় যা ২.৩ শতাংশ কম। ১৯৮১ সালের পর এই প্রথম উৎপাদন কমেছে বলে জানিয়েছে চীনের শিনহুয়া সংবাদমাধ্যম। যদিও বিশেষজ্ঞদের দাবি, তার পরও ৩৪ কোটি টন বাড়তি ইস্পাত তৈরি করেছে চীন। পাশাপাশি, বর্তমানে চীনের ইস্পাত উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ১২০ কোটি টন বলেও দাবি তাদের।

প্রসঙ্গত, বেজিং অলিম্পিক পর্যন্ত চীনে ইস্পাতের চাহিদা ছিল তুঙ্গে। তার পর থেকে সেই চাহিদা কমেছে ক্রমাগত। অথচ ভাটা পড়েনি জোগানে। আর চীনসহ সারা বিশ্বে মন্দার পর ইস্পাতের চাহিদা কমার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তার দাম কমেছে হুড়মুড়িয়ে। অবস্থা আরও ঘোরালো করে তুলেছে ২০১৫ সালে সে দেশে গত ২৫ বছরে সর্বনিম্ন আর্থিক বৃদ্ধির হারও (৬.৯ শতাংশ)। এসবেরই জের পড়েছে ভারত, ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশের ইস্পাত সংস্থাগুলোর উপর।

ইউরোপের ইস্পাত শিল্পের অভিযোগ, নিজেদের তৈরির খরচের থেকেও কম দামে ইংল্যান্ডে ইস্পাত বেচছে (ডাম্পিং) চীনা সংস্থাগুলো। ফলে দামের লড়াইয়ে পাল্লা দেয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে তাদের সঙ্গে। তার উপর রয়েছে বিদ্যুতের চড়া দর। সব মিলিয়ে ধুঁকছে ইউরোপীয় অঞ্চলের শিল্প।

অবস্থা এতটাই সঙ্গীন যে ব্রিটেনে লর্ড স্বরাজ পলের সংস্থা ক্যাপারো ইন্ডাস্ট্রিজকে পাঠাতে হয়েছে ‘এ্যাডমিনিস্ট্রেশনে’। পাশাপাশি, ব্রিটেনে টাটা স্টিলের ধুঁকতে থাকা ও প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া ইস্পাত কারখানাগুলো ফের চালু করা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।