১৭ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ন্যায্যমূল্য পেয়ে লবণ চাষীরা খুশি


আবদুর রাজ্জাক, নিজস্ব সংবাদদাতা, মহেশখালী ॥ সরকার বিদেশ থেকে লবণ আমদানি বন্ধ করে দেওয়ায় র্দীঘদিন পর লবণের ন্যায্য মূল্য পেয়ে খুশিতে আত্মহারা কক্সবাজারসহ উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর লবণ চাষীরা। ফলে চাষীদের ঘরে ঘরে খুশির আমেজ আনন্দ বিরাজ করছে। গত বছর লবণের মূল্য ছিল ১শ’ ৭০ টাকা। বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে প্রতিমণ লবণ বিক্রি হচ্ছে ৪শ’ ৬০ টাকা দামে। যা অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। ফলে ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে লবণ উৎপাদনে নেমে পড়েছে চাষীরা। এ বছর রেকর্ড পরিমাণ লবণ উৎপাদনে আশাবাদী মহেশখালী উপজেলার লবণ চাষীরা।

কক্সবাজার বিসিক সূত্রে জানা যায়, পুরো কক্সবাজার জেলায় গত ২০১০-২০১১ অর্থবছরে ৫৫ হাজার ৬শ’ ৩৭ একর জমিতে লবণ উৎপাদিত হয়েছে ৯ লাখ ৫৬ হাজার ১শ’ ৫১ মেট্রিক টন, ২০১১-২০১২ অর্থবছরে ৬২ হাজার ৭শ’ ১৮ একর জমিতে লবণ উৎপাদিত হয়েছে ১১ লাখ ৬৭ হাজার ৭শ’ মেট্রিক টন, ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে ৬৪ হাজার ১শ’ ৫১ একর জমিতে লবণ উৎপাদিত হয়েছে ১৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯শ’ মেট্রিক টন, ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে ৫৯ হাজার ৯শ’ ৬০ একর জমিতে লবণ উৎপাদিত হয়েছে ১৭ লাখ ৫২ হাজার ৫শ’ ৫০ মেট্রিক টন, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে ৫১ হাজার ৯শ’ ৭০ একর জমিতে লবণ উৎপাদিত হয়েছে ১২ লাখ ৮১ হাজার ১শ’ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদিত হয়েছে। চলতি ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ৭০ হাজার একর জমিতে একর জমিতে লবণ চাষ শুরু হয়েছে পুরোদমে। এতে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন। যা গত বছরের তুলনায় ৮ লাখ ৭৩ হাজার মেট্রিক টন বেশি।

এদিকে লবণের ন্যায্য মূল্য পেয়ে যখন চাষীরা ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে যখন লবণ উৎপাদনে ব্যস্ত ঠিক সেই সময় নারায়ণগঞ্জের কুখ্যাত পরিতোষ সাহা নামের একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট লবণ শিল্পকে ধ্বংসের পাঁয়তারায় মাঠে নেমেছে। লবণ উৎপাদনের ভরা মৌসুমে অনুমোদন বিহীনভাবে ভারত থেকে অপরিশোধিত লবণ আমদানি করে বিভিন্ন কূটকৌশলে খালাস করার মুহূর্তে চট্টগ্রাম বন্দরে উক্ত চালান আটকে দিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। দেশীয় লবণ শিল্পকে রক্ষার জন্য সরকার লবণ আমদানি বন্ধ ঘোষণা করলেও অনুমোদন বিহীনভাবে পরিতোষ সাহার মালিকানাধীন নারায়ণগঞ্জের পূবালী সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজ (ইউনিট-২) নামের প্রতিষ্ঠান তাদের চট্টগ্রামস্থ ফ্যাক্টরির জন্য ২ হাজার ২২২ টন লবণ আমদানি করে। সূত্র জানায়, ভারত থেকে আনা লবণ বোঝাই মাদার ভ্যাসেলটি গত ২৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে। মাদার ভ্যাসেলটি বহির্নোঙরে আসার পর থেকে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান লবণ খালাসের অনুমোদনের জন্য নানাভাবে চেষ্টা করে।

অবশেষে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গত ১ নবেম্বর কাস্টমস এ্যাক্ট, ১৯৬৯ এর ৭৮ ধারার বিধান মোতাবেক এই লবণের শুল্কের সমপরিমাণ টাকা হিসাব করে ৩৬ লাখ ৯৩ হাজার ২৮৮ টাকার পে অর্ডার জমা নিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস থেকে লবণের চালানটি দুটি লাইটারেজ জাহাজে সংরক্ষণের অনুমোদন নেয়া হয়। এই অনুমোদনের ভিত্তিতে গত ২ ও ৩ নবেম্বর এমভি খলিল-১ এবং এমভি কালাম এক্সপ্রেস-১ নামের দুটি লাইটারেজ জাহাজে লবণগুলো খালাস করা হয়। কিন্তু দেশীয় লবণ শিল্পের জন্য ক্ষতিকর দিক চিন্তা করে সংশ্লিষ্ট দফতর উক্ত লবণ খালাসের বিরোধিতা করে। ফলে পরিতোষ সাহার মালিকানাধীন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আমদানি রফতানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতর থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়। এখন অবৈধভাবে আমদানিকৃত উক্ত লবণ যে কোন উপায়ে খালাস করে দেশে বাজারজাত করার জন্য বহুমুখী চেষ্টা করে যাচ্ছে উক্ত সিন্ডিকেট।

অবৈধভাবে লবণ আমদানিকারক পূবালী সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজ (ইউনিট-২) লিমিটেডের পরিচালক বিপুল সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আসলে পুরো ব্যাপারটি একটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে শুরু হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রথমে আমদানির অনুমোদন দেয়ায় আমরা লবণ আমদানি করে ছিলাম। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যখন আগের সিদ্ধান্ত স্থগিত করল তখন আর আমাদের এলসি বাতিল করার সুযোগ ছিল না। দেশের স্বার্থবিরোধী কাজ করে অন্যায় করেছেন স্বীকার করে তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। উলেখ্য, বিদেশ থেকে লবণ আমদানি বন্ধ থাকায় চলতি মৌসুমে মাঠ পর্যায়ে লবণের রেকর্ড দাম পাচ্ছে চাষীরা। বর্তমানে ৪০০-৪৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ লবণ। এ সুযোগে ভারত থেকে লবণ আমদানি করে গলা কাটা মুনাফা অর্জন ও কক্সবাজারের লবণ শিল্পকে ধ্বংসের মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে নারায়ণগঞ্জের উক্ত সিন্ডিকেট। অবৈধ পন্থায় আমদানি করা উক্ত লবণ বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানিয়েছেন মহেশখালীসহ কক্সবাজার জেলার লবণ চাষী ও মিল মালিকরা।