মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৮ আশ্বিন ১৪২৪, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

সার্বিক সূচক কমলেও বাছাই সূচক বেড়েছে

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, ০৫:০৪ পি. এম.

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ সূচকের ওঠানামা দিয়ে আরও একটি সপ্তাহ পার করেছে দেশের পুঁজিবাজার। পাঁচ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে দর হারিয়েছে বেশিরভাগ কোস্পানির শেয়ার। বেশিরভাগ কোম্পানির কমায় সার্বিক সূচকটি সামান্য কমলেও পয়েন্ট যোগ হয়েছে বাছাই সূচকে। এদিকে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ আশানুরূপ না বাড়ায় কেনাবেচা আগের সপ্তাহের চেয়ে কমেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাজারচিত্রে কোম্পানির সাম্প্রতিক ফলাফলের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। অর্থনীতি ও খাত সংশ্লিষ্ট খবরগুলোর মধ্যে বিনিয়োগকারীদের জন্য উল্লেখ করার মতো কোনো দিকনির্দেশনা ছিল না বলেও মনে করছেন তারা।

সপ্তাহ শেষে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচকটি বা ডিএসইএক্স দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫৭১ দশমিক ১২ পয়েন্টে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, রবিবার প্রথম কার্যদিবসের লেনদেনে ডিএসইর প্রধান সূচকটি নিম্নমুখী থাকার পর টানা দুদিন ঊর্ধ্বমুখী ছিল। একপর্যায়ে তা ৪ হাজার ৬ পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক বাধা অতিক্রম করলেও বাকি দুদিনে তা সপ্তাহ শুরুর অবস্থানেরও নিচে নেমে আসে। তবে ডিএসইর নির্বাচিত কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসই ৩০ আগের সপ্তাহের চেয়ে দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৪২ পয়েন্ট ছাড়ায়। আগের সপ্তাহের চেয়ে দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়েছে স্টক এক্সচেঞ্জটির শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস।

ডিএসইতে গেল সপ্তাহে ৯৪টি শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ২২১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৫টি সিকিউরিটিজের বাজারদর। এদিকে ডিএসইর বাজার মূলধনে ব্লু-চিপ ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর অংশ আগের সপ্তাহের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে।

এদিকে বাজারের মিশ্র চিত্রে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ যথেষ্ট না বাড়ায় লেনদেন আগের সপ্তাহের চেয়ে কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে প্রতিদিন গড়ে ৪১১ কোটি ৪১ লাখ ৮২ হাজার ১৭৪ টাকার কেনাবেচা হয়, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪৩০ কোটি টাকার বেশি। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে কেনাবেচা কমেছে ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ।

খাতভিত্তিক চিত্র পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সপ্তাহ শেষে বাজার মূলধন বেড়েছে ওষুধ-রসায়ন (২ দশমিক ৪৯ শতাংশ), বিবিধ, খাদ্য-আনুষঙ্গিক, পাট, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সিরামিক খাতের। এর বাইরে কমবেশি বাজার মূলধন হারিয়েছে প্রতিটি খাত। তবে নতুন কোম্পানি আটিসির দর সংশোধনের কারণে তথ্য প্রযুক্তি খাতের বাজার মূলধন ১৭ শতাংশ কমেছে। ৮ শতাংশের বেশি কমেছে কাগজ-মুদ্রণ, ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমেছে সেবা-আবাসন এবং অন্যূন ৩ দশমিক ৩ শতাংশ হারে কমেছে বস্ত্র ও ভ্রমণ-অবকাশ খাতের বাজার মূলধন। দুই-আড়াই শতাংশ হারে বাজার মূলধন হারিয়েছে সিরামিক, প্রকৌশল ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত। সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর গড়ে ৩ শতাংশের বেশি কমে গেলেও জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে তা ছিল ১ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

সাপ্তাহিক লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো : স্কয়ার ফার্মা, সিটি ব্যাংক, বে´িমকো ফার্মা, এ্যাপোলো ইস্পাত, আইটিসি, অলটেক্স, ইউনাইটেড পাওয়ার, অলিম্পিক ইন্ড্রাস্টিজ, আরএকে সিরামিক ও এমারেল্ড ওয়েল।

দরবৃদ্ধির সেরা কোম্পানিগুলো হলো : লিব্রা ইনফিউশন, জেমিনি সী ফুড, এপেক্স ফুডস, ফু-ওয়াং সিরামিক, আরামিট, লিন্ডে বিডি, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, রহিম টেক্সটাইল, এ্যামবে ফার্মা ও জিকিউ বলপেন।

দর হারানোর সেরা কোম্পানিগুলো হলো : আইটিসি, ঢাকা ডাইং, বিডি অটোকারস, অলটেক্স, আজিজ পাইপস, আমরা টেকনোলজিস, অগ্নি সিস্টেম, মিরাকল ইন্ড্রাস্টিজ, সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইল এবং সিএমসি কামাল।

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, ০৫:০৪ পি. এম.

০৬/০২/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: