১২ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ভাষা আন্দোলনের কথা ভুলতে বসেছে নতুন প্রজন্ম


যশোরের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি সব একে একে মুছে যাচ্ছে। ভাষা আন্দোলনের প্রথম দিকেই ঢাকার বাইরে যশোরে আন্দোলন গড়ে ওঠে। ১৯৪৮ সালে যশোর কলেজের (এমএম কলেজ) ছাত্রছাত্রীরা কলেজের এমভি মিত্র হলে বসে প্রথম মিটিং করেন। সেই হল সম্প্রতি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।

১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে দৈনিক আজাদ পত্রিকায় বাংলা ভাষাবিরোধী লেখা প্রকাশিত হয়। এ লেখার প্রতিবাদে কলকাতা থেকে প্রকাশিত কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র স্বাধীনতা পত্রিকায় এমএম কলেজের ছাত্র ফেডারেশনের কর্মী প্রয়াত হামিদা রহমান পত্র লেখেন। ১০ জুলাই সেটি ‘পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। এ সময় ছাত্র ফেডারেশনের কর্মী আফসার আহমেদ সিদ্দিকীও মিল্লাত পত্রিকায় পত্র লেখেন। আরও কিছু পত্র প্রকাশিত হয় এ সময়। সংগঠিত হতে থাকে যশোরের ছাত্র সমাজ। ১৯৪৮ সালের জানুয়ারি মাসে পোস্টারিং হয় যশোর শহরে বাংলাভাষা রক্ষার দাবিতে। ঢাকায় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর মতো যশোরে সংগঠন গড়ে তোলার দাবিতে ১৯৪৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি আলমগীর সিদ্দিকীর বাসভবনে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন আলমগীর সিদ্দিকী, সৈয়দ আফজাল হোসেন, সুধীর রায়, হামিদা রহমান, রণজিৎ মিত্র প্রমুখ। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি এমএম কলেজের পুরাতন কসবায় (এখন পুরাতন হোস্টেল) এমভি মিত্র হলে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আলমগীর সিদ্দিকী ও সৈয়দ আফজাল হোসেনকে সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মনোনীত করা হয়। সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, ভাষা রক্ষার দাবিতে ২ মার্চ এমএম কলেজে ছাত্র ধর্মঘট হবে। ধর্মঘটও পালিত হয়। মুসলিম লীগ ধর্মঘট বানচাল করার চেষ্টা করে। কিন্তু পারেনি। ধর্মঘটের সর্মথনে কলেজ এবং শহরে মিছিল মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মুসলিম লীগের অনেক নেতা মনে করে এটা পাকিস্তান ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র। ৭ মার্চ পুনরায় সভা হয়। এ সময় ঢাকা থেকে আব্দুর রকিব ঢাকার ধর্মঘটের খবর নিয়ে আসেন। নিয়ে আসেন কিছু প্রচারপত্র। প্রচারপত্রে ১১ মার্চ ছাত্র ধর্মঘট সফল করার আহ্বান জানানো হয়। ওই ধর্মঘটের সমর্থনে যশোরে ৮ ও ৯ মার্চ মিছিল মিটিং হয়। ১০ মার্চ যশোরের জেলা প্রশাসক শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেন। ১৪৪ ধারা জারির কথা শুনে ছাত্র নেতৃবৃন্দ কলেজে জরুরী বৈঠক করে। বৈঠকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে কলেজে মিছিল মিটিং করার আহ্বান জানানো হয়। ১১ মার্চ সকাল থেকেই শহরে মিছির বের হয়। ধর্মঘট পালিত হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় তৎকালীন ট্রেডিং ব্যাংক ময়দানে (বর্তমানের টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ভবন)। সেই দিনই পুলিশ গ্রেফতার শুরু করে। গ্রেফতার হয় ১৪ জন। তাদের মুক্তির দাবিতে ওই দিনই বিকেলে মিছিল বের হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সন্ধ্যার পর ওই দিন আরও ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ অবস্থায় এমএম কলেজের ছাত্রাবাসের হোস্টেলের ছাদে ছাত্র নেতৃবৃন্দ পরবর্তী করণীয় বিষয়ে মিটিং করে। ভাষা রক্ষার দাবিতে আন্দোলন আরও তীব্র হয়। ১৩ মার্চ শহরে আবার মিছিল হয়। ওই মিছিলে প্রায় তিন হাজার মানুষ অংশ নেয়। কালেক্টরেট ভবনের কাছে মিছিল পৌঁছালে পুলিশ বাধা দেয়। শুরু হয় পুলিশের প্রতি ইট পাটকেল নিক্ষেপ। থানার ওসি জব্বারের কান ছিঁড়ে যায়। পুলিশ গুলি ছোঁড়া শুরু করে। গুলিবিদ্ধ হন ছাত্রনেতা আলমগীর সিদ্দিকী। সারা শহরে পুলিশ গ্রেফতার অভিযানে নামে। শহরের চুড়িপট্টি এলাকার অনেক বাড়িতে আত্মগোপন করেন নেতৃবৃন্দ। পুলিশ মিছিলে ধাওয়া করলে শহরের ঝালাইপট্টি পতিতালয়ের পতিতারা তাদের সহযোগিতা করেন। তারা তাদের ঘরে অনেক মিছিলকালীকে আশ্রয় দেন। এ সবের প্রতিবাদে ১৪ মার্চ শহরে আবার হরতাল পালিত হয়।

Ñসাজেদ রহমান, যশোর থেকে