১৩ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আবুল হোসেনকে নিয়ে গর্ব তাঁর পরিবারের


বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে রাজশাহীর ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল। বাংলা ভাষার জন্য এ আন্দোলনে প্রথম রক্ত ঝরেছিল রাজশাহীতেই। রাজশাহীতে ভাষা আন্দোলনের অগ্রণী সৈনিকদের মধ্যে কয়েকজন এখনও বেঁচে রয়েছেন। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সোচ্চার ভূমিকা রাখছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন। রাজশাহীকেই আঁকড়ে ধরে আছেন তিনি। সেই বায়ান্নতে মাঠে নেমেছিলেন ভাষার জন্য। এখনও মাঠেই রয়েছেন। রাজশাহীর সব সামাজিক আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছেন। পাশাপাশি পরিবারও সামলাচ্ছেন গভীর মমতায় আর ভালবাসায় সবাইকে আগলে রেখে। রাজশাহীর গর্ব আবুল হোসেনের বয়স এখন ৮২ বছর। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সময় তাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর। দীর্ঘ পথ মাড়িয়ে অনেক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে এখনও সদা হাস্যোজ্জ্বল আবুল হোসেন আগলে রেখেছেন তার পরিবারের সদস্যদের। পরিবারের সবাইকে মানুষ করেছেন নিজের মতো করে। পেশায় ছিলেন স্কুল শিক্ষক। এখন অবসরে। সদা হাস্যোজ্জ্বল এ মানুষটির ভালবাসায় পরিবারের পাশাপাশি গর্ববোধ করেন রাজশাহীবাসীও।

রাজশাহী নগরীর শিরইল এলাকায় তাঁর নিজ বাসায় গিয়ে কথা হয় মহান এ ভাষাসৈনিকের সঙ্গে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ঘর সংসার, রাজনীতি ও পরিবারের সদস্যদের নানা কথা হাসিমুখে শোনালেন তিনি। পরিবারের সদস্যরাও গর্বিত ভাষা সৈনিকের ঘরে তাদের জন্ম এজন্য। পরিবারেও রয়েছেন তিনি স্বাচ্ছন্দে। বাসায় থাকলে নাতিদের সঙ্গে হেসেখেলে সময় কাটে এই ভাষা সৈনিকের।

দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন। বড় ছেলে আবুল হাসনাত বিদ্যুৎ। বাবার সঙ্গে বাড়িতেই থাকেন। তিনি প্রকৌশলী। চাকরি করছেন রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে। ছোট ছেলে আবুল আহসান রূপক। সিনিয়র প্রেট্টোলজিস্ট। বিদেশে থাকেন। সেল কোম্পানির গবেষণার দায়িত্ব পালন করছেন দেশে দেশে। একমাত্র মেয়ে শাহানারা খাতুন বাসায় থাকেন বাবার সঙ্গে।

জামাই মনিরুল ইসলাম মণি জানান, তার শ^শুর ভাষাসৈনিক। এটাই তাদের গর্ব। এর চেয়ে আর কি চাওয়ার রয়েছে। কথা হয় আবুল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, সেই ’৫২ থেকে চলমান সময় পর্যন্ত নানা কথা। পরিবারের কথা উঠতেই বললেন ‘সবাই ভাল আছে’। ২০১২ সালে সহধর্মিণী সুুফিয়া খাতুনের মৃত্যুর পর ভেঙে পড়েছিলেন। এখনও সেই শূন্যতা অনুভব করলেও ছেলেমেয়ে ও নাতিনাতনিদের নিয়ে তিনি ভাল আছেন।

-মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী থেকে