মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
১৮ আগস্ট ২০১৭, ৩ ভাদ্র ১৪২৪, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

টিআর কাবিখা প্রকল্পে হরিলুট

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৬
  • চাল কালোবাজারে বিক্রি

তাহমিন হক ববী, নীলফামারী ॥ কাজের নামগন্ধ নেই, এক কোদাল মাটিও ফেলা হয়নি। ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পকে অনিয়মের মাধ্যমে সংযুক্ত করে একই স্থানে প্রতিবছর প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দ নেয়া হয়েছে টিআর ও কাবিখার চাল। যথারীতি তা উত্তোলনের মাধ্যমে হরিলুট করা হয়েছে। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম কিস্তির বরাদ্দকৃত কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্পের চিত্র এটি কিশোরীগঞ্জ উপজেলার। এসব প্রকল্পে লাগামহীনভাবে অনিয়ম-দুর্নীতি করা হচ্ছে। প্রকল্পের চাল বিক্রির অর্থ সব জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের পকেটে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ওই উপজেলায় জাতীয় পার্টির সংসদ শওকত চৌধুরীর নামে প্রথম পর্যায়ে টিআরের ৫০টি প্রকল্পে ২৫০ টন,কাবিখার প্রথম পর্যায়ে ৬টি প্রকল্পে ২৫০ টন, জাতীয় পার্টির নারী সংরক্ষিত সংসদ সদস্য নুর-ই হাসনা লিলি চৌধুরীর নামে টিআরের ১৭ প্রকল্পের একশত টন, কাবিখায় ৬টি প্রকল্পে একশত টন, জাতীয় পার্টির নারী সংরক্ষিত সংসদ সদস্য মেরিনা রহমানের নামে কাবিখার ৬টি প্রকল্পের একশত টনসহ সর্বমোট টন চাল বরাদ্দ পায়। অপর দিকে সাধারণ টিআরে ৪৬টি প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয় ১১৯ দশমিক ৯০১৫ ও কাবিখা সাধারণে ১১ প্রকল্পে ১৩৬ দশমিক ৫৩৮৮ সহ ২৫৬ দশমিক ৪৪০৩ মেট্রিকটন চাল।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানায়, এই সকল চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। বিষয় টিআর ও কাবিখা কাজের প্রকল্প চেয়ারম্যান যারা, তারা কিছুই জানে না। এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করে জানায়, শওকত চৌধুরীর বরাদ্দকৃত চাল নিয়ন্ত্রণ করে রেজাউল ইসলাম ফিলিপ। আর নুর-ই হাসনা লিলি চৌধুরী ও মেরিনা রহমানের বরাদ্দকৃত চাল নিয়ন্ত্রণ করে রফিক ইসলাম, আলতানুর রহমান আজাদ ও লুৎফর রহমান লুতু।

এলাকাবাসী জানায়, ওই সিন্ডিকেট প্রকল্পের চালগুলো কালোবাজারে বিক্রি করে দিলে ক্রেতার পক্ষে উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে ট্রাকযোগে কয়েক দফায় ওই সকল চাল রংপুরে চলে যায় ।

এলাকাবাসী চাল পাচারের একটি ফিরিস্তি তুলে ধরে জানায়, চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে ১৮৫ টন, ২৬ জানুয়ারি ২৪০ টন ও ১ ফেব্রুয়ারি ১২৭ দশমিক ২৫০ টন চাল ট্রাকে করে ৫৫২ দশমিক ২৫০ টন চাল রংপুরে পাচার করা হয়। বাকি চালগুলো ধাপে ধাপে খাদ্যগুদাম থেকে ওই সিন্ডিকেট উত্তোলন করে ভ্যানযোগে নিয়ে যায়।

এক মসজিদ কমিটির সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাদের মসজিদ সংস্কারের জন্য সাড়ে ৪ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু ওই সিন্ডিকেট তাদের সাড়ে টন চাল না দিয়ে টাকা দিয়েছে মাত্র সাড়ে চার হাজার। যেখানে বাজারে এক টন চাল মূল্য ৩৬ হাজার টাকা। এলাকাবাসীর অভিযোগ প্রকাশ্যে টিআর কাবিখার নামে অনিয়ম দুর্নীতি করা হচ্ছে এই উপজেলায়। অথচ এলাকার কোন উন্নয়ন করছে না জাতীয় পার্টির জনপ্রতিনিধিরা। এলাকাবাসী এসবের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে। এ ব্যাপারে কিশোরীগঞ্জ উপজেলার পিআইওর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন এ জেলার জলঢাকা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি জানান চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত প্রকল্পগুলোর কাজ সমাপ্ত করার শেষ দিন রয়েছে। ওই সময় পর্যন্ত দেখার পর কাজ না হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

০৬/০২/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: