মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
১৬ আগস্ট ২০১৭, ১ ভাদ্র ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

বর্ষার আগে শেষ হচ্ছে না চট্টগ্রামের খাল খনন প্রকল্প

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৬
  • অর্থ ছাড়ে ধীর গতি

আহমেদ হুমায়ুন, চট্টগ্রাম অফিস ॥ নির্ধারিত সময়ে অর্থ ছাড় হলে এতদিনে প্রকল্পটি যেখানে শেষ পর্যায়ে থাকত, সেখানে এখন পর্যন্ত কাজই শুরু করা যায়নি। চট্টগ্রাম নগরীর বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালের জমি অধিগ্রহণে ২২৪ কোটি টাকা প্রয়োজন। কিন্তু এখন পর্যন্ত অর্থ ছাড় দেয়া হয়েছে মাত্র ২০ কোটি টাকা। প্রকল্প অনুমোদনের বিপরীতে অর্থ ছাড় না হওয়ায় আলোর মুখ দেখছে না নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পটি।

বিলম্বে শুরু করার কারণে এখন প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে। অন্যদিকে আগামী কয়েক বছরও নগরবাসীকে সইতে হবে জলাবদ্ধতার অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। তিন বছর মেয়াদী নতুন খাল খনন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে আর বাকি ১ বছর ৫ মাস। এখনও জমি অধিগ্রহণ হয়নি। এদিকে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন এ খাল খননের অর্থ ছাড় করিয়ে আনতে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন ব্যর্থতার পরিচয় দিলেও ফ্লাইওভারের মতো অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অর্থ ছাড় করিয়ে নগরীর উন্নয়নে এক ধাপ এগিয়ে রয়েছেন সিডিএ চেয়ারম্যান আব্দুচ ছালাম। গত দুই বছরে খাল খননের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ কোটি কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন।

নগরীর বাসিন্দা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, ফ্লাইওভার বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো অপ্রয়োজনীয় ও কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে যেখানে হাজার কোটি টাকা চট্টগ্রামের নামে বরাদ্দ হচ্ছে, সেখানে ৬৫ লাখ মানুষের প্রাণের দাবি নতুন খাল খননের জমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দ মিলছে না।

অর্থ ছাড় না হলেও নিজস্ব উদ্যোগে ইতোমধ্যে বেশকিছু ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। মন্ত্রণালয়ের অর্থ ছাড়ের আগে নিজেদের অর্থ থেকে তারা ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করেছে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ২ কোটি টাকায় একটি লং বুম এস্কেভেটর, ৬০ লাখ টাকায় একেকটি ডবল কেবিন পিকআপ এবং ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় ৫টি ড্রাম ট্রাক কেনে চসিক। দেড় বছর আগে খাল খননে এসব যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হলেও এখন পর্যন্ত কাজ শুরু করতে পারেনি তারা।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খননের প্রকল্প প্রস্তাবনাটি ২০১১ সালের ২৯ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। প্রকল্পে বর্ণিত ৬৫ ফুট প্রস্থের খালটি নগরীর বাদুরতলার জঙ্গী শাহের মাজার থেকে শুরু হয়ে খাজা রোড হয়ে একেবারে কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়বে। খালের দু’পাড়ে ২০ ফুট চওড়া রাস্তা থাকবে। এর বাইরে ফুটপাথ থাকবে আরও ৬ ফুট। জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্পটি দ্রুত পাশ করতে বার বার চিঠি পাঠানো হলেও কোন অগ্রগতি হয়নি। আড়াই বছর পর ২০১৪ সালের ২৪ জুন প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাস হয়।

প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

০৬/০২/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: